সরাইলে রাজার হালে ছিলেন ওসি গিয়াস

সরাইল / ৩০ অক্টোবর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
সরাইলে অনেকটা রাজার হালে ছিলেন ওসি গিয়াস উদ্দিন। তার চাল-চলন অনেককিছুই ছিল এখানকার মানুষের চেয়ে ভিন্ন। প্রায়ই তার মাঝে একরকম নবাবি ভাব লক্ষ্য করতেন স্থানীয়রা। তিনি কখনো এখানকার নলকূপের পানি পান করতেন না। বাজার থেকে কেনা বিভিন্ন ব্যান্ডের ‘মিনারেল ওয়াটার’ ব্যবহার করতেন সব সময়। হাত-মুখ ধূয়াসহ গোসল পর্যন্ত করতেন বাজার থেকে কিনে আনা এ পানি দিয়েই। শুধু নিজের কাপড়ছোপড় ধূয়ার কাজ সারতেন নলকূপের পানি দিয়ে। এসব কথা এখন অনেকেই প্রকাশ্যে বলছেন। ওসি গিয়াসের বিশ্বস্ত থানার বিশেষ আনসার সদস্য সোনা মিয়া প্রায়ই তার ঘনিষ্ট স্থানীয়দের কাছে আক্ষেপ করে বলতেন ‘স্যারের জন্য বাজার থেকে শুধু পানি কেনার বাজেটই অনেক টাকা। বাকি নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামালতো আছেই।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক আস্তানা এবং জুয়ার আসর চলে প্রকাশ্যেই। এসব আস্তানা থেকে সোনা মিয়া মাসোহারা নেয় প্রতিনিয়ত। এছাড়াও বিভিন্ন অপরাধ আস্তানা থেকে তার আয় হচ্ছে প্রতিমাসে লাখ টাকা। উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাজী ইকবাল হোসেন বলেন, ওসি গিয়াস মামলা রেকর্ড, চার্জশীট ও ফাইনাল রিপোর্টের নামে ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে টাকা-পয়সা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা সদরের সৈয়দটুলা গ্রামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ওসি গিয়াস উদ্দিনের মাঝে নবাবিভাব থাকলেও তিনি ছিলেন নিলর্জ্জ। অনেকের কাছে এটা-ওটা চেয়ে ফেলতেন। ওই ব্যবসায়ী আরো জানান, প্রতিপক্ষের দায়ের করা একটি মিথ্যা মামলার আসামি হন তিনি। সুযোগে এ ব্যবসায়ীর কাছে গত রোযার ঈদে বৌয়ের জন্য শাড়ি কেনার টাকা চেয়ে বসে গিয়াস উদ্দিন। বেকায়দায় পড়ে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে এ ব্যবসায়ীকে। পানিশ্বর এলাকার হারুন মিয়া জানান, কিছু দিন আগে মামলার খোঁজ নিতে থানায় যান। তখন ওসি তার কাছে চিংড়ি মাছ চেয়ে বসেন। লজ্জায় পড়ে ১১শ’ টাকার মাছ কিনে দিতে হয়। গলানিয়া গ্রামের কৃষক নাসির আলী জানান, তিনি এক মামলার বাদী। মামলার খোঁজ নিতে প্রায়ই থানায় যেতেন তিনি। একদিন ওসি গিয়াস তার কাছে ডাব চেয়ে বসেন। নিজের গাছ নেই। তবুও তিনি বাজার থেকে বেশকয়েকটি ডাব কিনে এনে দিতে হয়েছে ওসিকে। সরাইল থানায় কর্মরত কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আর যা-ই হোক তিনি ছিলেন একজন (গিয়াস উদ্দিন) সৌখিন মানুষ। খুব যতœসহকারে দু’টি রাম ছাগলের বাচ্চা পালন করতেন। পুলিশ কোয়ার্টারের একটি রুমে লেপ-তোষক দিয়ে ছাগল দু’টি রাখতেন। নিজে শেম্পু দিয়ে গোসল করাতেন। ছাগল দু’টিকে সবসময় দেখা শুনা করতেন ওসির বিশ্বস্ত লোক সোনা মিয়া। তাছাড়াও এখানে অনেক আয়েশ করেছেন তিনি। সর্বশেষ গত শনিবার গভীররাতে কর্তব্য অবহেলা ও নানা ব্যর্থতার ঘøানি নিয়ে তাকে সরাইল এলাকা ছেড়ে যেতে হয়েছে। এদিকে নানা কর্মকান্ডে বির্তকিত ওসি গিয়াস উদ্দিন প্রত্যাহারের খবরে রোববার সরাইলে বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণ হয়েছে।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন রেড ক্রিসেন্ট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তার পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে ...

Leave a Reply