সরাইলে আওয়ামীলীগ নেতা খুন: ১০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি মূল আসামীরা: পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

সরাইল / ৩০ অক্টোবর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ.কে.এম ইকবাল আজাদ খুনের ঘটনার ১০ দিনেও মূল আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবারও সরাইলের প্রাতঃবাজারের ব্যবসায়ীরা কালো পতাকা উত্তোলন করে শোক কর্মসূচী পালন করে। এদিকে ইকবাল আজাদ খুনের ঘটনায় তৎকালিন ওসি গিয়াস উদ্দিন সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার ভাই ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আজাদ। আগামী দু’একদিনের মধ্যেই ওসির বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি দায়ের করা হবে বলে তিনি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকারিরা জেলার বাইরে অবস্থান করছেন এবং একের পর এক অবস্থান পরিবর্তন করছে।
ইকবাল আজাদের ভাই জাহাঙ্গীর আজাদ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার আগের রাতে (২০ অক্টোবর) অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতারা থানায় যান তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিতে। তখনই হত্যার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ওসি এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বিধায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুনের ঘটনার প্রধান তিন আসামী উপজেলা আওয়ামলীগের সভাপতি আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ আলীকে ১০ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
উপজেলা যুবলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির প্রথম যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এনে বলেন, ’আগাম ঘোষণা দিয়ে ইকবাল আজাদকে খুন করা হয়। খুনীরা সেদিন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দিনভর উপজেলা সদরে মহড়াও দেয়। বিষয়টি জানানোর পরও ওসি কোনো ব্যবস্থা নেননি’।
এ ব্যাপারে সরাইল থানার নব নিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার চক্রবর্তী বলেন, ’প্রধান আসামীদের ধরতে আমরা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি’।
পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ বলেন, ’এ হত্যা মামলাটি আমরা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমি নিজেও দিনভর এ মামলার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। ইতিমধ্যেই সরাইলে একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আসামী গ্রেপ্তারে আমরা মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আসামীরা জেলার বাইরে অবস্থান করছে নিশ্চিত হয়ে আমরা একাধিকস্থানে অভিযানও চালিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাাবে তিনি বলেন,পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে লিখিত পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী হামলার প্রাণ হারান সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ.কে.এম ইকবাল আজাদ। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদককে আসামী করে মামলা করেন ইকবাল আজাদের ভাই জাহাঙ্গীর আজাদ। পুলিশ এ পর্যন্ত এজহারনামিয় একজনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply