আ’লীগ নেতা হত্যার পর সরাইলে ধ্বংসলীলা স্থানে স্থানে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ২৪ অক্টোবর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দলে দলের সহ সভাপতি ইকবাল আজাদ খুন হওয়ার পর ধ্বংস যজ্ঞ চলছে সরাইলে। রোবাবার সন্ধ্যায় ইকবাল আজাদ নিহত হওয়ার পর সে দিনই বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইকবাল হত্যা মামলার আসামী আবদুল হালিমের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বাসায় হামলা করে ভাংচুর ও লুটতরাজ করে। পরে সোমবার সকাল থেকেই বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল নিয়ে একে একে প্রতিপক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সৈয়দটুলা নয়াহাঁটি, উত্তর কুট্টাপাড়া, সরাইল সদর, বড্ডাপাড়ার আওয়ামীলীগ নেতাদের বাড়িতে হামলা করে। বিক্ষুব্ধ জনতা কুট্টাপাড়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রফিক উদ্দিন ঠাকুরের একটি মুরগী খামারে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ আলীর বাড়ি। সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ তান্ডব চালানো হয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা ইকবাল আজাদের বুকে আঘাত করা খুনী পুলিশের হাতে গ্রেফতার মোকাররম আলী সোহেলের বাড়িতে। সশস্ত্র জনতা সোহেলের বাবা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমত আলীর ১টি টিনের ঘর, ১টি বিল্ডিং ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে সোহেলের চাচা সাবেক চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা ইদ্রিস আলীর ১টি বিল্ডিং ঘর, ১টি টিনের ঘর, ইউনুস আলীর ৩টি টিনের ঘর, সিদ্দিক আলীর ২টি টিনের ঘর, ইউসুফ আলীর ১টি টিনের ঘর। ইদ্রিস আলী চেয়ারম্যানের নাতনী সরাইল কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী নুসরাত জাহান রিক্তা জানান, জীবন বাঁচাতে আমরা পালিয়ে দূর থেকে দাঁড়িয়ে নিজেদের সহায় সম্পদ বাড়িঘর পুড়তে দেখেছি। এসময় আমাদের অনেক মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। বিক্ষুব্ধরা সরাইল সদরে ঢুকে উপজেলা সিপিবির সভাপতি রফিকুল রহমানের ১টি টিনের দোকান, ঘাতক সোহেলর ছোট ভাই বাবুর কাপড়ের দোকান, ছোট দেওয়ান পাড়ায় ঠাকুর বাড়ির সামনে লিমনের দোকানে হামলা করে ভাংচুর ও মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়। ভাংচুরের শিকার হয়েছে উপজেলা ছাত্র সমাজের সাধারন সম্পাদক মজিদ বক্সের সেভেন ফ্যাশন নামক কাপড়ের দোকান। সদরের বড্ডাপাড়ায় অবস্থিত উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের দোতলা বাড়িতেও চড়াও হয় বিক্ষুব্ধরা। এ সময় ঘরের ভেতর মালামাল তছনছ করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া মঙ্গলবার বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন লাগিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামলীগ নেতা ইদ্রিস আলীর বাড়ি ও আওয়ামীরীগ নেতা মুক্তি যোদ্ধা কমান্ডার ইসমত আলীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে সব কিছু পুড়ে ফেলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের কুট্টাপাড়ার বাড়িতে ফের আগুন লাগানো হয়। এসব বাড়িতে ধ্বংসলীলা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কোথাও কোথাও পুলিশের সামনেই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। ইকবাল হত্যা মামলার আসামীদের পরিবার পরিজন নিরাপত্তাহীন হয়ে নীরবে ধ্বংস লীলা দেখেছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছে বলে জানা গেছে ।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply