আ’লীগ নেতা ইকবাল আজাদ খুনের ঘটনায় সরাইলের উত্তেজনা থামেনি : লাশ দাফন সম্পন্ন : আজ আধাবেলা হরতাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ২৩ অক্টোবর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
জনপ্রিয় আওয়ামীলীগ নেতা ইকবাল আজাদ খুনের ঘটনায় সৃষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের উত্তেজনা এখনো থামেনি। এ খুনের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সরাইলে অঘোষিত হরতাল কর্মসূচি পালিত হয়েছে। উপজেলা সদরে দোকানপাট বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীরা রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এসময় তারা ইকবাল আজাদ হত্যা ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। এদিকে মঙ্গলবার একদল বিক্ষুব্ধ জনতা আবারো কয়েকটি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে। আগুন দেওয়া হয়েছে সদরের সৈয়দটুলা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিছ আলীর ঘরবাড়িতে। ভাংচুর চালানো হয় চানমনিপাড়ার ছোট্ট মিয়ার বাড়িতে। আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ঠাকুরের কুট্টাপাড়ার গ্রামের ঘরবাড়ি। এছাড়া বিক্ষুব্ধরা সরাইল সদরে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। সরাইল উপজেলা সদরে র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশি টহল অব্যাহত আছে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইকবাল আজাদের লাশের দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় সরাইলবাসীর পক্ষ থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত হরতাল কর্মসূচী ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে সরাইল থানা ওসি গিয়াস উদ্দিনের অপসারণের দাবিতে এলাকাবাসী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে। সরাইলে অবস্থানরত পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে মহাসড়ক থেকে সরে আসে উত্তেজিত লোকেরা।
এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা ইদ্রিস আলীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। হামলা ও লুটপাট চালানো হয় চানমুনিপাড়ার ছোট্টু মিয়ার বাড়িতে। এছাড়া উপজেলা সদরের আরো কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এদিকে ইকবাল আজাদের ভাই জাহাঙ্গীর আজাদ বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন ঠাকুর, সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবলীগের আহবায়ক মাহফুজ আলী, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জব্বারসহ ২২ জনকে আসামী করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে মামলাটি নথিভুক্ত হয়। এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মামলায় অভিযুক্ত সকল আওয়ামীলীগ নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এছাড়া সরাইল উপজেলার আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে কমিটি বিলুপ্ত করা হবে। এ ব্যাপারে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। আমরা আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
ইউএনও আনিসুজ্জামান খান জানান, জানাজা চলাকালে বুধবার সরাইলে আধাবেলা হরতাল কর্মসূচীর ঘোষণা দেওয়া হয়। এলাকায় র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন আছে। প্রসঙ্গত, গত রবিবার সন্ধ্যায় দলীয় কোন্দলের জের ধরে দলীয় নেতা-কর্মীদের হাতে আওয়ামীলীগ নেতা ইকবাল আজাদ খুন হন। দলীয় কোন্দলের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply