সরাইল আ’লীগের ৩ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ২৩ অক্টোবর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলাবাসীর মাঝে জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। আওয়ামীলীগ নেতা ইকবাল আজাদ খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার নানা অপকর্মের ঘটনা এখন প্রকাশ্যেই বলছে স্থানীয় বাসিন্দারা। গত কয়েক বছর যাবৎ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবলীগের আহবায়ক মাহফুজ আলী নানা অপকর্মে গোটা সরাইলকে বিষিয়ে তুলে। নিরীহ মানুষ কেউ কথা বলার সাহস পায়নি। তাদের অন্যায় কাজে সহযোগিতা না করায় ইকবাল আজাদ খুন হয়েছে এ দাবী এলাকাবাসীর। আওয়ামীলীগ ক্ষমতা আসার পর থেকে শীর্ষ এই তিন নেতা দলের প্রভাব খাটিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সর্বত্রই। সরাইল এলাকায় গোটা প্রশাসন তাদের কথার বাইরে কিছু করতে পারেনি। টেন্ডারবাজী, সরকারী জায়গা দখল, টিআর, কাবিখা, কর্মসৃজন প্রকল্পের অর্থ লোপাট এবং খাস জমি বন্দোবস্ত, খাস পুকুর ইজারা সব কিছুতেই ফায়দা লুটেছে তারা। বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা তদবির ও নিষ্পত্তির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এই তিন নেতা হাতিয়ে নিয়েছে টাকা-পয়সা। বিভিন্ন সংঘর্ষে পক্ষপাত্বি, সংঘর্ষ জিইয়ে রেখে তারা সুবিধা আদায় করেছে। তাদের হাতে সরকারী কর্মকর্তারা ছিল জিম্মি। এই নেতাদের হাতে সরাইলে একাধিক সরকারী কর্মকর্তা লাঞ্ছিত হওয়ার একাধিক ঘটনা রয়েছে। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এই নেতাদের কথায় টিআর বরাদ্দ না দেয়ায় তারা সংসদ সদস্যকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য থানায় জিডিও করেন। এদিকে মহাজোটের স্থানীয় সংসদ সদস্যও তাদের কথার বাইরে অনেক ক্ষেত্রে যেতে পারেননি। বিভিন্ন সভা সমাবেশে সংসদ সদস্য প্রকাশ্যেই তার অসহায়ত্বের কথা জনগণের কাছে বলেছেন। তাদের ইশারায় সরাইল থানায় অনেক মিথ্যা মামলা হয়েছে। সরাইল থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন তাদের কথায় মিথ্যা মামলা এফআইআর করে সাধারণ অনেক মানুষকে হয়রানি করেছে। এই ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত আসলে, এই তিন নেতা ওসি গিয়াস উদ্দিনকে ভাল মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করে কাগুজে লিখিত দেয় তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে। উল্লেখিত নেতাদের অনৈতিক কাজে ও অপকর্মের ঘটনার বিরুদ্ধে লাঞ্ছিত নির্যাতিত মানুষ এখন বিক্ষুব্ধ সরাইলে। এই নেতাদের অনৈতিক কাজে এবং বিভিন্ন ভাগবাটোয়ারায় সমর্থন দেননি আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি একেএম ইকবাল আজাদ। এ নিয়ে দলীয় কোন্দল সৃস্টি হয়। এই কোন্দলের জের ধরে শুধু রাজনীতি থেকে নয়, দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে ইকবাল আজাদকে এ সব কথায়ই এখন সরাইলবাসীর মুখে মুখে। ইকবাল আজাদ হত্যা মামলায় এই ৩ জনকেই প্রধান আসামী করা হয়েছে। এলাকাবাসী আওয়ামীলীগের এই ৩ নেতা সহ হত্যা মামলার সকল আসামীদের গ্রেপ্তার ও তাদের দৃস্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে। সরাইল উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাজী ইকবাল হোসেন বলেন, আব্দুল হালিম, রফিক উদ্দিন ঠাকুর এবং মাহফুজ আলী তাদের মূল রাজনীতি ছিল গম-চাল নিয়ে। হত্যার ঘটনায় এখন তারা গা ঢাকা দিয়েছে।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply