আমাদের জীবনে ভিটামিন ’এ’ এর গুরুত্ব——– কাজী কোহিনূর বেগম তিথি


আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি যে, দুটি সুন্দর চোখ দ্বারা আমরা সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব সব সৃষ্টি দর্শন করছি। আর আমাদের সুন্দর এই চোখ দুটি যে কোন মুহুর্তে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, আমাদের অসচেতনতার কারনে। ফলে অন্ধত্বের অভিশাপে আমাদের ভুগতে হয়।
এ অন্ধত্বের কারন সম্পর্কে অনেক কিছুই বলা যেতে পারে, তবে অন্যতম কারন হচ্ছে ভিটামিন ’এ’ এর অভাব। শিশু জন্মাবার পর থেকে যদি খাদ্যে ক্রমাগত ভিটামিন ’এ’র অভাব দেখা দেয় তাহলে জীবনে এক সময়ে অন্ধত্বের অভিশাপ নেমে আসে মানুষের জীবনে। এখন আমাদের জানা দরকার ভিটামিন ’এ’ র চাহিদা আমাদের শরীরে কিভাবে পূরন হবে।

ভিটামিন ’এ’ শুধু প্রানি কোষেই পাওয়া যায় না, এছাড়া বিভিন্ন শাক সবজি ও ফল-মূলের মধ্যে ক্যারোটিন (carotene) নামে এক ধরনের রাসায়নিক বস্তু রয়েছে যা খেলে দেহের পরিপাক প্রনালিতে তা ভিটামিন ’এ ’ তে রূপান্তরিত হয়।

ভিটামিন ’এ’ শুধু চোখের জন্যই প্রয়জনীয় নয় এর দরকার – বৃদ্ধি বাহ্যিক আবরনের কোষ , চর্ম , দাঁত এবং অস্থির গঠন, নানা রকম সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ এবং শর্করা জাতীয় খাদ্যের পরিপাকের জন্য। ভিটামিন ’এ’র অভাবে শরীরের প্রাপ্ত লৌহের স্বাভাবিক ব্যবহারে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। ভিটামিন ’এ’ যেহেতু কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধির সাথে সম্পৃক্ত, সেহেতু ভিটামিন ’এ’ এর অভাবে লোহিত কনিকার স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
লক্ষ্য করে দেখা গেছে যে, একজন পূর্ন বয়স্ক পুরুষ অথবা মহিলার জন্য ৭৫০ মাইক্রোগ্রাম রেটিনল ( Ratinol ) অথবা ২৫০০ আন্তর্জাতিক একক ( I.U ) দরকার। অথচ যেখানে আমাদের দেশের একজন পূর্ন বয়স্ক লোক গ্রহন করেছে শহর এবং গ্রামে যথাক্রমে ১৫৮০ এবং ১৭১৫ আন্তর্জাতিক একক, উপরে যে হিসাব দেখানো হলো তা ১৯৬২ সালের পুষ্টি জরিপের হিসাব অনুযায়ী। বিগত স্বাধীনতা যুদ্ধে এ অবস্থা আরও বেশী শোচনীয় হয়ে পড়েছিল।

নিন্মে বিভিন্ন বয়সে প্রতিদিন কতটুকু ভিটামিন ’এ’ গ্রহন করা দরকার তার একটা হিসাব দেয়া হল –
বয়স দৈনিক গ্রহনের প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক একক( ও.ট ) অনুযায়ী
০-৬ মাস ৩-৪
৬-১২ মাস ১০০০
১ বৎসর ৮২৫-৮৫০
২ বৎসর ঐ
৩ বৎসর ঐ
৪-৬ বৎসর ১০০০
৭-৯ বৎসর ১৩২৫-১৩৫০
১০-১২ বৎসর ১৯১০-১৯২০
১৩-১৫ বৎসর( ছেলে মেয়ে) ২৪১০-২৪২০
১৬-১৯ বৎসর (ছেলে মেয়ে) ২৫০০
পূর্ন বয়স্ক ( পুরুষ ও মহিলা) ২৫৮০

ভিটামিন ’এ’ এর অভাবজনিত রোগ দেখা দেয় প্রকটভাবে বিশেষ করে ৯ মাস থেকে ৪ বৎসরের বাচ্চাদের মধ্যে এবং ছেলেরাই মেয়েদের থেকে বেশী করে এ রোগের শিকার হয়। ভিটামিন ’এ’ এর অভাবজনিত রোগের সাথে প্রায়ই ( protein Colorie Deficiency ) দেখা দেয়, ভিটামিন ’এ’ এর অভাবজনিত রোগের প্রাথমিক লক্ষন হচ্ছে রাতকানা ( Night Blindners )। ভিটামিন ’এ’ কি করে শরীরে কাজ করে বিশেষ করে দৃষ্টি শক্তির উপর যেমন অল্প আলোর দর্শনের কার্যটি সমাধা করতে ভিটামিন ’এ’ র বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ভিটামিন ’এ’ এর অভাবে ঘা হয়।এ ছাড়া এই ভিটামিনের অভাবে অক্ষি – ঝিল্লির শুস্ক প্রদাহ রোগ হয় এছাড়া অক্ষি পর্দ্দার অস্বচ্ছতা রোগ ক্যারাটোম্যালেশিয়া ( Yeropmalmia) ও হতে পারে।

ভিটামিন ’এ’ এর উৎস হিসাবে মাছ, মাংস, কলিজা, লাল পাম তেল, বাঁধা কপি, ধনে পাতা, ডাটা শাক, মূলা শাক, লাল শাক, পালং শাক, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পাকা আম, কাঁঠাল, পাঁকা পেঁপে ইত্যাদি গন্য হয়ে থাকে।

আমাদের দেশের প্রতিটা মানুষকে ভিটামিন ’এ’ র অভাবজনিত রোগের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হলে শিক্ষিত এবং পুষ্টি বিষয়ক সাধারন জ্ঞান সম্পর্কে অভিজ্ঞ করে তুলতে হবে। কি প্রক্রিয়ায় খাদ্য খেলে খাদ্য সামগ্রীতে ভিটামিন ’এ’ এবং অন্যান্য ভিটামিনের ক্ষতি কম হবে সে বিষয়ে জানতে হবে, উদাহারন স্বরূপ বলা যেতে পারে যে শাক-সবজী বাগান থেকে তুলে সাথে সাথে রান্না করে খেলে ভিটামিন ’এ’ র আদি উৎসের যতটা ক্ষতি হবে যদি শাক-সবজী ঘরে কয়েকদিন রেখে খাওয়া হয়। এ সমস্ত পুষ্টি বিষয়ক সাধারন জ্ঞান সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করে তুলতে হবে এবং এ ব্যাপারে পুষ্টিবিদরা এক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে পারেন বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে সমাজের এলিটদের সহযোগিতা নিয়ে।সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে সমাজের এলিটরা এলাকা ভিত্তিক পুষ্টিবিদদের সহযোগীতা নিয়ে সমাজের সাধারন মানুষ গুলিকে একত্রিত করে কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করতে পারেন। আমাদের শরীরে কোন ভিটামিনের অভাব না থাকলে, রোগমুক্ত জীবন লাভের আশা করতে পারব।তাই সুস্থ জীবন -প্রশান্ত মন -কর্মব্যস্ত -সূখী জীবন আমাদের কাম্য হওয়া উচিত।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply