সরাইল আ’লীগে বিশৃঙ্খলাঃ দলের নেতা-কর্মীদের হাতে সভাপতি লাঞ্ছিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ১৮ অক্টোবর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল আওয়ামী লীগ রাজনীতির অঙ্গনে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গত ১২ অক্টোবর উপজেলা সদরে রাজপথে নিজ দলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের হাতে সভাপতি হাজী আব্দুল হালিম লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে দলে এ অবস্থা চলছে বলে অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী এ কথা জানিয়েছেন। তারা আরো জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের অনেক নেতার মধ্যে তাদের দলীয় এবং ব্যক্তিগত বিরোধ এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজ দলের একাংশের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার পর থেকে গত এক সপ্তাহ যাবত সভাপতি আব্দুল হালিম উপজেলা সদরে আসছেন না। তিনি এ ঘটনায় তার ইউনিয়ন নোয়াগাঁও এবং পার্শ্ববতী কালীকচ্ছ ইউনিয়নের নানা শ্রেণী পেশার লোকদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। গত বুধবার এ দুই ইউনিয়নের নানা শ্রেণী পেশার কয়েক হাজার লোকের অংশগ্রহণে কালীকচ্ছ ঈদগাহ মাঠে এক সমাবেশ হয়। সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী আব্দুল হালিম আক্ষেপ করে উপস্থিত লোকদের বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন অপমান কখনো হয়নি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি একেএম ইকবাল আজাদের ইশারায় তার অনুসারী উপজেলা যুবলীগের প্রথম যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তুর নেতৃত্বে কিছু উছৃঙ্খল যুবক আমাকে জনসম্মূখে লাঞ্ছিত করে। এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী রফিক উদ্দিন ঠাকুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তিনি এ ঘটনায় কোন প্রতিবাদ করেননি। নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা শেখ এহসানুল হক সেলিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে দুই ইউনিয়নের বেশকয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, আব্দুল হালিম শুধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকও ছিলেন। তিনি উপজেলার অনেক মানুষের উপকারে এগিয়ে এসেছেন। তারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে পরবর্তীতে উপজেলার আট ইউনিয়নের লোকদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে দুই ইউনিয়নের উত্তেজিত জনতা কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় আ’লীগ নেতা ইকবাল আজাদ এবং যুবলীগ নেতা আশরাফ উদ্দিন মন্তুর বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের মাঝে মিশ্রপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, সভাপতি আব্দুল হালিম বিষয়টিকে নিয়ে যে পন্থায় এগোচ্ছেন তা মোটেও শুভ নয়। ঘটনাটি সম্পূর্ণ দলের আভ্যন্তরীন ব্যাপার। এ সমস্যার সমাধান দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক হওয়া উচিত। কিন্তু আঞ্চলিকতার দোহাই দিয়ে এলাকায় মাইকিং করিয়ে দুই ইউনিয়নের লোকদের জমায়েত করে বিষয়টি নিয়ে তিনি কোন খেলা খেলতে চাইছেন তা ইতিমধ্যে অনেকেই বুঝে গেছেন। নেতারা আরো বলেন, এমনিতেই সরাইলে তুচ্ছ ঘটনায় বড় ধরণের সংঘর্ষের নজির রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার মানুষ যদি উত্তেজিত হয়ে কোন অঘটন ঘটিয়ে ফেলে তবে এর দায়ভার আব্দুল হালিমকেই নিতে হবে।
উপজেলা যুবলীগের প্রথম যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তু বলেন, কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই বার বার সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন করার কারণে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সভাপতিকে লাঞ্ছিত করেছে। আমিসহ অন্যরা তাদের ফিরিয়ে নিয়েছি। এ যুবলীগ নেতা আরো বলেন, সভাপতি আব্দুল হালিম গম-চালের রাজনীতি করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে মসজিদ-মাদ্রাসার নামে টিআর বরাদ্দের খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা রয়েছে। তাছাড়া বিগত সংসদ নির্বাচনে দলের কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অমান্য করে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ‘আনারস’ মার্কায় নির্বাচন করেছেন। তিনি নিজের স্বার্থ হাসিল করতে একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতি করে যাচ্ছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, দলীয় একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এ অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে। আব্দুল হালিম দলের সভাপতি এবং একজন প্রবীণ নেতা। এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি এ ঘটনাটিকে নানাভাবে এলাকার লোকদের কাছে ফোকাস করে চলেছেন। এতে একদিকে দলের যেমন সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। অপরদিকে বিরোধী চক্র এতে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি আশা করব তিনি এ ঘটনাটি দলের গন্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী একেএম ইকবাল আজাদ বলেন, ঘটনাটি আমার ইশারায় হয়েছে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই এ ঘটনা ঘটে। আমি বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের ফেরানোর চেষ্টা করেছি। তিনি আরো বলেন, আব্দুল হালিম গমের রাজনীতি করেন। আমি এসব করি না। একজন প্রবীণ নেতা হয়েও দলের বিষয়টি নিয়ে তিনি এখন গ্রাম্য রাজনীতিতে নেমেছেন।
সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আব্দুল হালিম এর জেলা শহরের বাসায় যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সভাপতির বাসায় উপস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মাহফুজ আলী জানান, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply