সরাইলে খুনের ঘটনায় সালিশ ৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায় মামলা ফাইনাল রিপোর্ট দিতে পুলিশের ২ লাখ টাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া/ ১১ অক্টোবর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক নৃশংস খুনের ঘটনা নিয়ে সালিশ করেছেন সমাজপতিরা। এতে আসামিদের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা জরিমানাও আদায় করেছেন সালিশকাররা। আর এ আলোচিত হত্যা মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দিতে পুলিশকে দেওয়া হয়েছে ২ লাখ টাকা। এলাকায় এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা সূত্র ও এলাকাবাসী জানান, সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল তেলিকান্দি গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মো. নুরু উদ্দিনকে গত বছরের ১৮ নভেম্বর গভীররাতে গ্রামের পাশে নদীরপাড় এলাকায় নৃশংসভাবে খুন করে প্রতিপক্ষের লোকেরা। এ খুনের ঘটনায় নিহতের ভাই মো. জুরু মিয়া বাদী হয়ে গত ২০ নভেম্বর তেলিকান্দি গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের ছেলে সৈয়দ আলীসহ ৩৬ জনকে আসামি করে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৪৪ তাং-২০/১১/২০১১ইং। তেলিকান্দি গ্রামের লোকজন জানান, আলোচিত এই খুনের ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি গ্রামে এক সালিশ হয়। সালিশে উপজেলা পরিষদের দুইজন জনপ্রতিনিধি, গ্রামের সর্দার-মাতব্বর সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সালিশে নুরু উদ্দিন হত্যা মামলার আসামিদেরকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ বিষয়ে মামলার ১১ নং আসামি মো. বাচ্চু মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, সালিশের রায় আমরা (সকল আসামি) মেনে নিয়ে জরিমানার ৭ লাখ টাকা দিয়েছি। এ টাকা গ্রামের সর্দার মো. হাবীবুর রহমানের কাছে সালিশকারকরা জমা রেখেছেন। মামলার ফাইনাল রিপোর্ট করার জন্য জরিমানার ৭ লাখ টাকা থেকে ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। মামলার সকল কার্যক্রম নিস্পত্তি হওয়ার পর বাদী জুরু মিয়াকে জমাকৃত বাকি ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত করেছেন সর্দাররা। সালিশকারক তেলিকান্দি এলাকার গ্রাম্য মাতব্বর মো. শাহেদ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা পরিষদের দুইজন জনপ্রতিনিধিকে নিয়েই আমরা এ সালিশ করেছি। এতে অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। সালিশে ৭ লাখ টাকা রায় আসে। তিনি বলেন, এ হত্যা মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে পুলিশের সাথে চূড়ান্ত কথা হয়ে গেছে। এর জন্য ২ লাখ টাকাও দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে লেখালেখির দরকার নেই। এদিকে গ্রামের অনেকে জানান, তেলিকান্দি গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামাল মিয়া, গ্রাম্য সর্দার হুসু মিয়া, হামিদ মিয়া, সাবেক মেম্বার আবদুল হামিদ এ সালিশে উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে নুরু উদ্দিন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. শহিদ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, শুনেছি গ্রামে তারা নিজেরা সালিশ বসে এ হত্যার ঘটনাটি আপোস-মিমাংসা করেছে। তিনি বলেন, এ মামলার চার্জশিট কিংবা ফাইনাল রিপোর্ট কোন কিছুই এখনো হয়নি।

(আরিফুল ইসলাম সুমন, স্টাফ রিপোর্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply