সরাইলে সৌদী প্রবাসী নারীর স্বামী খুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া/ ১০ অক্টোবর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গলানিয়া শ্বশুড়বাড়ির এলাকায় সৌদি আরব প্রবাসী এক নারীর স্বামী খুন হয়েছেন। নিহতের নাম মো. সাত্তার মিয়া (৩০)। পিতার নাম মৃত আরজু মিয়া। তার বাড়ি জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে।
বুধবার দুপুরের দিকে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রাম থেকে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অনুমান ৫ বছর আগে গলানিয়া গ্রামের সিরাজ মিয়ার মেয়ে নাজমা বেগমের সাথে সাত্তার মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের এর বছর পর নাজমা বেগম তার স্বামী এবং শ্বশুড়বাড়ির লোকদের বাধা উপেক্ষা করে সৌদি আরবে চলে যান। এরপর থেকে প্রায়ই স্ত্রীর খোঁজে স্বামী সাত্তার মিয়া এই এলাকায় আসত। দীর্ঘ ৪ বছর পর এ সপ্তাহে স্ত্রী নাজমা বেগম প্রবাস থেকে দেশে ফিরছেন এমন খবর পেয়ে গত ৫ দিন আগে সাত্তার মিয়া গলানিয়া গ্রামে আসেন। কিন্তু শ্বশুড়বাড়ির লোকেরা তাকে বাড়িতে স্থান দিত না। প্রবাসী স্ত্রীর অপেক্ষায় তিনি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে রাত্রিযাপন করতেন। বুধবার সকালে শ্বশুড়বাড়ির পাশেই পুকুরপাড় সংলগ্ন জমিতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। নিহতের ভাই মো. মন্নাফ মিয়া সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আর এ কাজে নিহত সাত্তারের শ্বশুড় বাড়ির লোকজন জড়িত থাকতে পারে। নিহতের মা রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে পূর্ব পরিকল্পনা করেই হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
এদিকে গ্রামবাসী জানিয়েছেন, অনুমান ৬/৭ বছর আগে নাজমার প্রথম বিয়ে হয়েছিল এ গ্রামের মৃত মারফত আলীর ছেলে মো. শাহেদ আলীর সঙ্গে। তাদের একটি কন্যা সন্তান আছে। শাহেদ আলীকেও পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ নাজমার পিতা সিরাজ মিয়া এবং মাতা নুরুন্নাহার বেগমকে গ্রেফতার করে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে এ খুনের মামলায় দীর্ঘ দিন জেলে ছিল। পরে এক লাখ টাকা মামলার বাদীকে দিয়ে ঘটনাটি মিমাংসা করে ফেলেন সিরাজ মিয়া। এ ঘটনায় নাজমার পিতা সিরাজ মিয়া বলেন, জামাতা সাত্তারের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে আমরা এর কিছুই জানি না। আমার মেয়ে নাজমা সৌদী আরবে আছেন। ২/১ দিনের মধ্যে দেশে আসার কথা শুনেছি। নাজমার আগের স্বামীর মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলা হয়েছিল। পরে টাকা দিয়ে বাদীর সাথে আপোষ-নিস্পত্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা সরাইল থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এস আই) ইশতিয়াক বলেন, নিহত সাত্তারের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছি। নিহতের গলায় একটি কাল দাগ পরিলক্ষিত হয়েছে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন বলেন, নিহতের গলায় কাল দাগ রয়েছে। কিন্তু এটি হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

(আরিফুল ইসলাম সুমন, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply