পরিকল্পনাকারীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে ॥ তিতাসে অপহরণ ও হত্যা মামলার বাদীকে প্রাণ নাশের হুমকি

তিতাস / ৮ অক্টোবর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শোলাকান্দি গ্রামের চাঞ্চল্যকর দুই সহোদর সুলতান মিয়া (২৭) সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ও ইমন মিয়া (১৮) হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারীর ৫ ঘাতকে পুলিশ এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। এদিকে খুনী ও অপহরণকারীরা মামলার বাদী স্বপন মিয়া সহ তার পরিবার পরিজনকে হত্যার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে বাদীর পরিবারের লোকজন উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শোলাকান্দি গ্রামের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ এবং বন্দুক যুদ্ধের ঘটনাও ঘটে। এরই জের ধরে গ্রামের শহীদুল্লাহর পুত্র সুলতান মিয়াকে গত ২৩ আগস্ট একই গ্রামের দুর্ধর্ষ চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজার এলাকা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে অপহৃতের ভাই স্বপন মিয়া বাদী হয়ে দাউদকান্দি থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করে। হত্যা ও অপহরণের ভয়ে তারই ছোট ভাই ইমন মিয়া পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর গ্রামে নিজেকে আত্মগোপন করে রাখে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাকেও অপহরণ করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে জবাই করে হত্যার পর গৌরীপুর বাজারের পশ্চিমে রাস্তায় ফেলে রাখে। পুলিশ ২৯ সেপ্টেম্বর লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে স্বপন মিয়া বাদী হয়ে দাউদকান্দি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে অপহরণের এক মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ সুলতান মিয়াকে উদ্ধার করতে পারেনি। এমনকি অপহরণের মূল ঘাতককেও গ্রেফতার করতে পারেনি। মামলা দু’টির বাদী স্বপন মিয়া জানান, আমাকে বাঁচান, আমাকেও সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলার জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছে। আমি এবং আমার পরিবার পরিজনের লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় দিন যাপন করছি। নিহতের মা রবিয়া খাতুনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি দুই পুত্র শোকে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, গত ১৯ জুলাই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র আক্তার হোসেনকে অপহরণ করে নিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে। উক্ত গ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী খুনীদের বিরুদ্ধে তিতাস ও দাউদকান্দি থানাসহ পার্শ্ববর্তী থানাগুলোতে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে মাসুদ ও রজ্জব আলীকে তিতাস পুলিশ গ্রেফতারের পর থেকে বাকী খুনীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর বলছে দুইজনকে শেষ করেছি বাকীদেরও শেষ করব-এমনি অভিযোগ পাওয়া গেছে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে। তিতাস থানা পুলিশ বলছে খুনীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে। এলাকায় একই পরিবারের দুই সহোদর সুলতানকে অপহরণ আর এক মাসের মাথায় তারই ছোট ভাই ইমনকে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠেছে। এলাকাবাসী চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও হত্যার ঘটনার নায়কদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply