কুয়েতে মানিকগঞ্জের মহিদুল হত্যাকাণ্ড শিরচ্ছেদ থেকে রক্ষা পেলো তিতাসের রমজান হোসেন

তিতাস / ৫ অক্টোবর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
কুয়েতে খুন হওয়া মানিকগঞ্জের মহিদুল হত্যা মামলায় শিরচ্ছেদ দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ৩ আসামীর মধ্যে তিতাসের রমজান হোসেনকে শিরচ্ছেদের পরিবর্তে ১৫ বছর জেল দিয়েছে সেখানকার আদালত। নিহতের পরিবারের ক্ষমাপত্র ও ব্লাডমানি গ্রহণের বিষয় আদালত বিবেচনা করে এ রায় দেন। রমজান হোসেন উপজেলার উত্তর বলরামপুর গ্রামের রবিউল হোসেনের ছেলে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর উপ-পরিচালক খান মো. রেজাউল করিমের একটি পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালে চাকুরী করতে কুয়েতে যান মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাগবাড়ী বিবন্ধী গ্রামের দু’ভাই ইকবাল ঢালী (২৫) ও হৃদয় ঢালী (২৩) এবং কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার উত্তর বলরামপুর গ্রামের রমজান হোসেন। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার মাহিদুল তাদের সঙ্গে একই কোম্পানীতে গাড়িচালক হিসেবে চাকুরী করতেন। রমজান, হৃদয় ও ইকবাল একই বাসায় থাকতেন। তবে মাহিদুল থাকতেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে। সেই সময় মাহিদুলের স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমঘটিত একটি বিষয়ে তাদের বিবাদ হয়। ২০১১ সালে খুন হন মাহিদুল। তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ইকবাল ঢালী, হৃদয় ঢালী ও রমজান হোসেনের বিরুদ্ধে কুয়েতের থানায় মামলা করেন। সেই প্রেক্ষিতে সেখানকার নিম্ন আদালত জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। কুয়েতের আইন অনুযায়ী, নিহতের পরিবার ক্ষমা করলেই কেবল দণ্ড মওকুফ করা যায়। তাই গত ২৫ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আসামী পক্ষের পরিবার ও নিহতের পরিবারের মধ্যে বসে সমঝোতা করা হয়। নিহতের পরিবারের দাবী অনুযায়ী ২১ লক্ষ টাকা দাবী করেন। যার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মাইক্রো বাসের মালিক তিতাসে রমজানের পরিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ৭ লক্ষ টাকা জমা দেন। সিঙ্গাইর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান হান্নান জানান, কুয়েতে নিহত মহিদুলের পরিবারের দেয়া ক্ষমাপত্র কুয়েতের আদালত গ্রহণ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ১৫ বছর করে জেল দিয়েছে এটা জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর একটি পত্রের মাধ্যমে জেনেছি। আসামিদের পক্ষের রাখা ২১ লাখ টাকা আমার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যৌথ একাউন্টে জমা আছে, আগামী রোববার উক্ত টাকা মহিদুলেরর ওয়ারিশদের মাঝে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে রমজানের মা মনোয়ারা বেগম ও বাবা রবিউল হোসেন জানান, আমার ছেলে নিরপরাধ। অপরাধীদের কাছে গাড়ী ভাড়া দেওয়াই কাল হলো তার জীবনে। তারা জানান, ২০০৭ সালে রমজান কুয়েতে গিয়ে প্রথমে টাইলস মিস্ত্রির কাজ করে সে দু’টি পিকআপ গাড়ী কিনে ভাড়া দিতেন। মুন্সিগঞ্জের হৃদয় ও ইকবাল তার গাড়ী ভাড়া নিয়ে হত্যাকাণ্ড চালায়। আর রমজান গাড়ীর মালিক হওয়ায় তাকেও আসামী হতে হলো। আমার ছেলে যদি জানতো গাড়ী ভাড়া নিয়ে মানুষ খুন করবে তাহলে সে কখনও গাড়ী ভাড়া দিত না।

নাজমুল করিম ফারুক
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply