সীমান্ত দিয়ে মাদক আসছেই : নেপথ্যে কারা !

আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ——–
সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে ফেনসিডিল, হেরোইন, নেশার ইনজেকশন, গাঁজা, মদ, নেশা জাতীয় ট্যাবলেটসহ নানা প্রকার মাদকদ্রব্য পাচার হয়ে আসছেই। বিভিন্ন সময়ে এসব মাদকদ্রব্যের বড় বড় চালান পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি’র সদস্যদের হাতে আটক হলেও জঘন্য এ অবৈধ ব্যবসার নেপথ্যে থাকা অপরাধীচক্র থাকছে সম্পূর্ন ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদিও মাদকদ্রব্যসহ মাদক বহন ও পাচারকালে অনেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অভিযানে আটক হয়েছে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পূর্বাঞ্চল বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলায় সীমান্ত এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য পাইকারি ও খুচরা বিক্রির একাধিক আস্তানা গড়ে উঠেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ আশপাশ এলাকার বিপথগামী একদল যুবক মাদক সেবন এবং মাদকদ্রব্য সংগ্রহের জন্য তারা প্রতিদিন মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ওইসব এলাকায় ভীড় করছে। মাদক সেবন করে মাতাল অবস্থায় বেপরোয়াগতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় ইতিমধ্যে বেশ’কয়েকজন যুবকের অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ আছে, এসব মাদক আস্তানা পরিচালনা করছে স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু মাদক ব্যবসায়ী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু ব্যক্তিদের সাথে তাদের যোগসাজশ রয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা এলাকার মাদক আস্তানাগুলোতে অভিযান না চালিয়ে মাদক বিরোধী অভিযানের নামে তারা চান্দুরা-আখাউড়া সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের সাধারণ যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৬ মাসে সীমান্ত এলাকায় পাচারের সময়ে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১২ ব্যাটালিয়ন বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সদস্যদের হাতে আটক হয়েছে অন্তত ২ কোটি ৩ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। এছাড়াও র‌্যাব-৯ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যদের হাতে মাদকের বিশাল বিশাল চালানসহ পুলিশের একাধিক অভিযানে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য আটক হয়েছে।
১২ বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক মেজর মুহাম্মদ শাহজাহান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মাদকদ্রব্য পাচারসহ চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড যথাযথ দায়িত্ব পালন করে আসছে। ফলে সীমান্তে মাদকপাচার আগের চেয়ে কমেছে। তিনি জানান, চলতি বছরের ১লা মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১২ বর্ডার গার্ড মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ভারতীয় ১ হাজার ১৬ কেজি গাঁজা, ৩ হাজার ৭শ’ ৪০ বোতল হুইস্কী, ১১ হাজার ৫শ’ ৮বোতল ফেন্সিডিল, ২শ’ ২৯ লিটার চোলাই মদ, ২২ বোতল বিয়ার, ৪শ’ ৯৬ বোতল রিকোডেক্স, ১শ’ ৪৩ বোতল কোরেক্স, ৫৫ বোতল সিলেন্সার, ২শ’টি নেশার ইনজেকশন, ১২ বোতল এক্সটার্ণ, ১১হাজার ৫শ’ পাতাবিড়ি, ৯ পুড়িয়া হেরোইন, ৫ হাজার ৭শ’ ৫০পিস নেশা জাতীয় ট্যাবলেট আটক করা হয়েছে। এসবের মূল্য ২ কোটি ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯শত ৩৮ টাকা। এরমধ্যে মালিকবিহীন ১ কোটি ৪২ লাখ ১২ হাজার ২৫ টাকার মাদকদ্রব্য গত ২৫ সেপ্টেম্বর ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ৬ মাসে মোট ৫শ’ ৯৪টি মামলা হয়েছে এবং ১শ’ ৪৩ জন আসামীকে আটক করা হয়। প্রতিমাসে গড়ে ৯৯ টি মামলা হচ্ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply