মতলব উত্তরে ৩৫০ জনকে আসামী করে পুলিশের মামলা

মতলব উত্তর/ সেপ্টেম্বর-২৯(কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মাথাভাঙ্গা ও মোহনপুর গ্রামবাসীর মধ্যে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে সংঘর্ষ হয়। ৩৫০ জনকে আসামী করে পুলিশের মামলা। এলাকা পুরুষ শূন্য। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্য গুরুত্বর ও বাকী আহতদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। পুলিশ কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম ঢাকা রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া মোহনপুর গ্রামের আখালী সরদারের ছেলে কাইউমসহ সংঘর্ষে কমপক্ষে দুই গ্রামের ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মতলব উত্তর থানার পিএসআই মোঃ মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মোহনপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম মাষ্টার ও উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক শাহ জালাল মাষ্টারসহ ৩৪জনকে এজাহার নামীয় ও মাথাভাঙ্গা গ্রামের ৩’শ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাতেই মাথাভাঙ্গা গ্রামের ৫জনকে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। এরা হলো: মৃত আবু মিয়া সিকদারের ছেলে খোকন শিকদার, আঃ রাজ্জাক প্রধানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল বাসার প্রধানের ছেলে মহসিন প্রধান, রফিক মিয়াজীর ছেলে জহিরুল হক মিয়াজী ও মৃত তমিজ উদ্দিন প্রধানের ছেলে রওশন আলী প্রধান।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৫ নভেম্বর উপজেলার আইঠাদী মাথাভাঙ্গার অহিদ সর্দারের ছেলে মোহন নিখোঁজ হলে তাহার মা সাজেদা বেগম বাদী হয়ে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট চাঁদপুর আদালতে ৩ ব্যক্তিকে বিবাদী করে একটি কোর্ট প্রিটিশন মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলাটি অত্র থানায় গৃহিত হইলে তদন্তাধীন থাকাবস্থায় উক্ত বিষয় নিয়ে মাথাভাঙ্গা গ্রামে গত ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক বসে।
সালিশে মাথাভাঙ্গা গ্রাম ও মোহনপুর গ্রামের লোকজনদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে নিষ্পত্তি ছাড়াই সালিশ বৈঠক শেষ হয়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে আসামীরা অজ্ঞাতনামা আরো ২৫০-৩০০ জন মাথাভাঙ্গা ও মোহনপুর গ্রামের দাঙ্গাকারী বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া দাঙ্গাহাঙ্গামা শুরু করিলে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে, মতলব উত্তর থানার পিএসআই মোঃ মিজানুর রহমান সঙ্গীয় এসআই মোঃ ওয়াজেদ আলী, এএসআই মোঃ কামরুল হাসান, কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম, শাহ আলম, আব্দুল হাই ও মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির হাবিলদার আবুল কালাম, মোঃ মহসিন, মোবারক মিয়া, নিজাম উদ্দিন, নূর নবী ও কাজী সেলিম পুলিশ পৌছিলে মাথাভাঙ্গা ও মোহনপুর গ্রামের দাঙ্গাকারী আসামীগণ পুলিশকে লক্ষ্য করিয়া ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও শফিকুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাহার মাথার ডান পাশে লাঠিদ্বারা আঘাত করিয়া গুরুত্বর জখম করে এবং কয়েকজন পুলিশকে সামান্য আহত করে ও সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বপ্রকার আইনগত কার্যক্রম অবলম্বন পূর্বক দাঙ্গাকারীদের নিবৃত করার সর্বপ্রকার কার্যক্রম গ্রহণ করিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাথায় গুরুত্বর জখমপ্রাপ্ত হইলে, তাহাকে চিকিৎসার জন্য মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। তাহার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাহাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

শামসুজ্জামান ডলার, মতলব(চাঁদপুর)

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply