দেবিদ্বারের যক্ষা-জীবাণুবাহী রুগী নাছিমা আক্তার পালিয়ে থাকার ১বছর পর অবশেষে মঙ্গলবার প্রশাসনের নিকট আত্মসমর্পণ

দেবিদ্বার/ সেপ্টেম্বর-২৫(কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
দেবিদ্বারের এম.ডি.আর (মাল্টি ড্রাগস রেজিষ্ট্রেন্ট) আক্রান্ত ভয়াবহ যক্ষা-জীবাণুবাহী রোগী নাছিমা আক্তার ভ্রান্ত ধারনা নিয়ে মিথ্যে মৃত্যু আতঙ্কে পালিয়ে থাকার ঘটনায় কয়েকিট দৈনিক পিত্রকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় প্রশাসনের টনক নরলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যাগে তাকে চিকিৎসার জন্য খোজে বের করার খবর পেয়ে সে প্রায় একবছর পর অবশেষে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবে এসে তার পালিয়ে বেড়ানোর কারন, সামাজিক ভাবে এক ঘরে করে রাখা এবং প্রশাসনের কাছে ধরা দেয়ার পর জীবন বিপন্ন হওয়ার আশংকাসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনীময় শেষে সে জানায়, আমি ‘বাঁচতে চাই’ ওরা আমাকে নিয়ে মেরে ফেলবে। আমার একমাত্র শিশু সন্তান সুভ(৩)র জন্য বাঁচতে চাই। আমি স্বামী পরিত্যাক্তা, হতদরিদ্র পিতার বোঝা হয়ে আছি। যত সমই লাগক উপযুক্ত চিকিৎসা সেবায় সুস্থ্য জীবন নিয়ে আপনজন এবং সমাজে ফিরে আসতে চাই। আমার জীবনের নিরাপত্তা পেলেই প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পন করবো। সে আরো জানায় ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, ব্র্যাক এলাকার ব্যক্তিরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে ধরে আনতে পারেনি, আজ নিজ ইচ্ছায় ধরা দিতে এসেছে।
পরে সাংবাদিকদের সহায়তায় দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বেলায়েত হোসেন’র কাছে নিয়ে গেলে,- সংবাদ পেয়ে দেবিদ্বার উপজেলা ডটস কমিটির উপদেষ্টা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) এস,এম বদিউজ্জামান, ব্র্যাক উপজেলা ব্যবস্থাপক মোঃ মাইদুল ইসলাম, উপজেলা কুষ্ট ও যক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুল কাদের খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় ভিক্টিম নাছিমা আক্তার’র বড় ভাই মোঃ আলী আজ্জমও উপস্থিত ছিলেন।
সবার উদ্যেশ্যে নাছিমা আক্তার বলেন, প্রায় দু’বছর আগে আমার যক্ষা জীবানু ধরা পড়ে, স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা করা কালে দেবিদ্বার থেকে ঔষধ না নিয়ে আমাকে বারেরা ব্র্যাক অফিস থেকে ঔষধ আনতে হত। অনিয়মের কারনে নির্দিষ্ট সময়ে কোর্স শেষ না করায় ভয়াবহ যক্ষা-জীবাণু ধরা পড়ে, কর্মকর্তারা আমাকে ঢাকা জাতীয় বক্ষব্যাধী হাসপাতালের নিয়ন্ত্রনে চিকিৎসা সেবা দেয়ার উদ্যোগ নেন। গতবছর কোরবানী ঈদের ১৫দিন আগে ব্র্যাকের লোকজন আমাকে ঢাকা জাতীয় বক্ষèব্যাধী হাসপাতালের নিয়ে যেতে চান। আমি আমার সন্তানকে নিয়ে ঈদ করার পরই যাব বলে জানালে তারা কোন ভাবেই মানতে চায়নি। একপর্যায়ে ব্র্যাকের কর্মকর্তারা হুমকী দিয়ে বলেন, আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে পুড়িয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলবেন। ওই কথা শোনার পর থেকে গত এক বছর ধরে পালিয়ে বেড়ালেও গত এক সপ্তাহ ধরে দেবীদ্বার সদর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনসহ এলাকার লোকদের হুমকীর মুখে আজ আসতে বাধ্য হয়েছি। আমার প্রতিবেশীরা আমাকে একঘরে করে রেখেছে। পিতার পরিবার ছাড়া কেউ আমার সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ এমনকি কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছে। আমি স্বামী পরিত্যাক্তা একটি অবুজ সন্তান নিয়ে হতদরিদ্র পিত্রালয়ে একটি ঘরের কোনে আশ্রয় নিয়েছি। মায়ের সহযোগীতায় সূতাকেটে জ্বাল বুনে ওই জ্বাল বিক্রির আয় দিয়ে মা বাবাকে সহযোগীতা করছি।
দেবদ্বার উপজেলা ডটস কমিটির উপদেষ্টা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেন, তাকে ভুল বুঝিয়ে মানষিক বিপর্যয় ঘটানো হয়েছে, ভ্রান্ত ধানা নিয়ে সে মিথ্যে মৃত্যু আতঙ্কে বেঁচে থাকার আশায় এ ভুল পথে পালিয়ে বেড়িয়েছে। নাছিমাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘যক্ষা হলে রক্ষা নাই’ এখন আর এসব কথার ভিত্তি নাই। কিছু নিয়ম মেনে নিয়মিত ঔষধ খেলেই ভালো হয়ে যাবে। তোমার সহযোগীতা পেলে রোগ মুক্তির দায় ভার আমরা নেব। নাছিমা উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাস্থ্যবিভাগ ও ব্র্যাককে তার সু-চিকিৎসাসেবা দানের নির্দেশ দেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ বেলায়েত হোসেন এসময় এম.ডি.আর’র আওতায় যক্ষা রুগীদের জীবানুর ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরে এইডস্ এর ভয়াবহতার সাথে তুলনা করে বলেন, এম.ডি.আর’র আওতায় যক্ষা রুগীদের শ্মাস নালী থেকে নির্গমনকৃত বাতাস প্রতি সেকেন্ডে বায়ুমন্ডলে নিস্মৃত হয়ে লক্ষ লক্ষ জীবানু সুস্থ্য দেহে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারন একজন যক্ষার জীবানুবাহী রুগীর একটি কাসি ৫বর্গমাইল জীবানু ছড়াতে সক্ষম। যার (এম.ডি.আর) চিকিৎসা প্রচলিত যক্ষা প্রতিরোধে নিয়োজীত ৪টি ঔষধে সুস্থ্য করা সম্ভব নয়। তাদের সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন অবস্থায় জাতীয় বক্ষব্যধী হাসপাতালের নির্দিষ্ট কক্ষে থেকে ৬ থেকে ১৮ মাস চিকিৎসা সেবা নিতে হয়। সুস্থ্য হয়ে তারা আবার লোকালয়ে ফিরে আসেন। চিকিৎসার আওতার বাহিরে থাকা রুগীরা যেমন নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়, তেমনি সুস্থ্য দেহে ওই (এম.ডি.আর রুগী যা সাধারণ যক্ষা আক্রান্ত রুগীদের থেকে অত্যন্ত ভয়াবহ ও জীবন ঝুকিপূর্ণ চিকিৎসা ত্রুটিতে এইডস্ রুগীদের মতো পরিনতি নিশ্চিত মৃত্যু) জীবানু আক্রান্তদের একই পরিনতি হয়।

মোঃ ফখরুল ইসলাম সাগর

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply