পুলিশ ও সাংবাদিকের প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের ক্ষোভ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / সেপ্টেম্বর ১৭(কুমিল্লাওয়েব ডটকম)—
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিক ও পুলিশের জন্য সব কিছু ডুবতে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান। সোমবার নিজ কার্যালয়ে বসে এমন মন্তব্য করে জেলা প্রশাসক বলেন, ’ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছিনতাইয়ের শিকার এক ব্যক্তি অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করায়। সাংবাদিকরা এসব নিয়ে না লিখে পুলিশ কী ধরল সেটাই লিখে’।
একটি পাক্ষিক পত্রিকার অনুমোদন সংক্রান্ত ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক প্রভাবশালীর দখলে থাকা অর্পিত সম্পত্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক সাংবাদিকের সামনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফরহাদুর রহমান মাক্কীসহ একাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক কালের কণ্ঠের জেলা প্রিতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু জানান , জেলা প্রশাসক বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন থানার ওসির (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মধ্যে কসবার ওসি গ্রেড ওয়ান। সকল কাজেই ওস্তাদ তিনি। পুলিশ যে টাকা ঘুষ দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বদলি হয়ে আসে ঘুষ নিয়ে তা এক মাসের মধ্যেই উঠিয়ে ফেলে’।
কথা টেনে নিয়ে সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফরহাদুর রহমান মাক্কী বলেন, ’আর যাই কন আমাদের সরাইল থানার ওসির মতো এমন কাউকে দেখিনি। তাঁর আচার ব্যবহার ভালো। এ কারনে লুটপাট সহজ হয়। সরাইল থানায় মামলা দিতে গেলে আগে টাকা দিতে হয়’।
জেলা প্রশাসক বলেন, ’আমি সরাইল থানায় একাধিকবার গিয়েছি। সরাইলের ওসি এতটা খারাপ না। কসবার ওসির কাছে সরাইলের ওসি ছাত্র’। তিনি আরো বলেন, ’পুলিশ ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেনা। আমি বলি তারা প্রতিজ্ঞা করুক যে প্রতিদিন অন্তত ৫ জন মানুষের উপকার করবে। এটা করে বাকি ৯৫ জনের কাছ থেকে ঘুষ খাক না’।
পাক্ষিক পত্রিকা সম্পর্কে বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকের প্রতি ক্ষেপে গিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ’ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পত্রিকার ছড়াছড়ি। এদিক ওদিক হাঁটতে গেলেই সম্পাদক চোখে পড়ে। সম্পাদক হওয়া মানেই তো ওসির টেবিলের সামনে বসার সুযোগ পাওয়া। এ কারনেই পত্রিকা বের করার হিড়িক পড়েছে। আপনার কয় কোটি টাকা আছে যে পত্রিকা বের করবেন। কালের কন্ঠ পত্রিকা মাসে এক কোটি টাকা গচ্ছা দিচ্ছে’। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন পত্রিকায় জনগনের উপকার হয় এমন সংবাদ ছাপা হয় উল্লেখ করলে জেলা প্রশাসক সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন নি।
প্রসঙ্গত, ঢাকায় কর্মরত ডা. সাদিয়া তাবাসসুমের প্রকাশনায় ও কালের কন্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পালের সম্পাদনায় ’খবরের খোঁজে’ নামে একটি পাক্ষিক পত্রিকা বের করার অনুমতি দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের নামের ছাড়পত্র ও বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা হয়েছে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারের এক উর্ধ্বতন সাবেক কর্মকর্তার দখলে থাকা অর্পিত সম্পত্তির বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রনালয়, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একাধিক চিঠি চালাচালি হয়েছে। ওই কর্মকর্তা অর্পিত সম্পত্তি থেকে তাঁর দখলীয় জায়গা বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply