বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৩১৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে———সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা / সেপ্টেম্বর-৬(কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———–
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা জরুরি ভিত্তিতে মোকাবেলার লক্ষ্যে গ্যাস সংকটকে বিবেচনায় রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী সরকারি দলের এক সাংসদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকার দেশের উৎপাদন ও উন্নয়নের কথা বিবেচনায় রেখে নতুন নতুন শিল্প কারখানায় গ্যাস সংযোগ প্রদানের বিষয়টি ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আর গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি কৈলাস টিলায় তেল প্রাপ্তির কথাও উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে অনেক সময় প্রয়োজন। তবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হলে ক্ষিদ্যমান সমস্যা সমাধান করা আরো সহজ হবে। পাশাপাশি সোলার প্যানেলসহ নবয়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার এ ব্যাপারে কার্যক্রম শুরু করেছে। শহরের রাস্তায় স্থাপিত বাতিগুলোর জন্য সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে।তিনি কাবিখা, টিআর ইত্যাদি কর্মসূচির আওতায় গ্রাম এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপন করার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে মোট ৩৫৯৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫১টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক ১৭২৩ মেগাওয়াট এবং তেল ভিত্তিক ১৮৭২ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮৩১৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, রমজান মাসে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ৬৩৫০ মেগাওয়াট এবং গ্যাস ও তেল প্রাপ্যতার প্রেক্ষাপটে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ছিল প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট। এ সময়ে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ যথেষ্ট ছিল। গত ২০ জুলাই থেকে উৎপাদন প্রান্তে কোন লোডশেডিং ছিল না।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মোট প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তকরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে।
সংসদনেত্রী বলেন, এছাড়া সরকারি খাতে ৮টি এবং বেসরকারি খাতে (আইপিপি) ১৭টিসহ মোট ২৫টি প্রকল্পের আওতায় মোট ৩৯৬৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যেগুলোর চুক্তি ধারাবাহিকভাবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, গ্যাসের মজুত সীমিত হওয়ার কারণে দেশীয় ও আমদানি নির্ভর কয়লা ভিত্তিক মোট ২৯৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া ভারতের সাথে যৌথ উদ্যোগে বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আওতায় ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারত থেকে ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদারি লক্ষ্যে গ্রিড লাইন ও সাবস্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০১১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং গত রমজান মাসে সর্বোচ্চ ৬৩৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০১৩ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৭ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ জনসাধারণের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জাতীয় জ্বালানির নিরাপত্তার স্বার্থে দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার কোন বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করার যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, অতীতে বাপেক্স ২৪ থেকে ৩২ বছরের পুরনো রিগ দিয়ে খনন কার্যক্রম পরিচালনা করতো। বর্তমান সরকারের আমলে ইতোমধ্যে ২টি রিগ ক্রয় করা হয়েছে এবং আরও ১টি ড্রিলিং রিগ ক্রয়ের সকল প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এ রিগটি আগামী ১০/১২ মাসের মধ্যে দেশে পৌঁছবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে দেশে গড়ে দৈনিক মোট ২২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে এ সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে গত জুলাই পর্যন্ত মোট ৫৯৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বৃদ্দি পেয়েছে। যার মধ্যে দৈনিক প্রায় ৫শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সিস্টেমে যুক্ত হয়েছে।
রমজান মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন সন্তোষজনক পর্যায়ে রাখার জন্য সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ খাতে প্রতিদিন ৯৫০-১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ফলে বিগত রমজান মাসে বিদ্যুতের কোন লোডশেডিং ছিল না।
দেশের ভবিষ্যৎ গ্যাস চাহিদা মোকাবেলায় বর্তমান সরকার গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এজন্য বাপেক্সের নতুন ও পুরাতন রিগসমূহ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্ট্রাকচারে ৮টি অনুসন্ধান কূপ খননের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনরত বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্রের ৪টি কূপে ওয়ার্কওভার এবং ১৫টি উন্নয়ন কূপ খনন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। চলমান গ্যাস সংকট মোকাবেলার জন্য দ্রুত গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম-এর সঙ্গে মোট ১০টি কূপ খনন চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এছাড়া আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি কর্তৃক গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রমও হাতে নেয়া হয়েছে এবং আগামী ২০১৩ সালের মধ্যে প্রায় ৫শ’ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্যাস গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সঞ্চালন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আশুগঞ্জ ও এলেঙ্গায় দু’টি কম্প্রেসার স্থাপন কার্যক্রম চলমান আছে। গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নতুন সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণের কার্যক্রমও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply