মতলবে টপ সয়েল কেটে নেয়ায় উর্বরা শক্তি হারাচ্ছে ফসলি জমি

শামসুজ্জামান ডলার, মতলব (চাঁদপুর) :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফসলের মাঠ থেকে টপ সয়েল কেটে নেয়ায় উর্বরতা হারিয়ে যাচ্ছে আউশ, আমন ও বোরোসহ তিন ফসলি জমির। এতে কৃষক ধানের অধিক উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প এলাকার ভিতরে ও মতলবের মেঘনা ধনাগোদা নদীর তীরবর্তী হাজার হাজার একর আবাদযোগ্য ফসলি জমির টপ সয়েল হিসেবে পরিচিত উপরিভাগের মাটি কিনে নিয়ে যাচ্ছে পানির দামে। এসব জমির মালিকের অসচেতনতা, দারিদ্র্য ও আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর দালাল চক্র জমির উপরিভাগের মাটি স্বল্প দামে কিনে ট্রাক ও ট্রলার ভরে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর এ দালাল চক্র উচ্চমূল্যে মাটিগুলো ইটভাটায় বিক্রি করছে। কিছু মাটি আবার চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চলাচল অনুপযোগী ব্যক্তিগত কাঁচারাস্তা ভরাট করতে। এতে করে ফসলি জমির উর্বরতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে উৎপাদনমুখী ফসলের ওপর। প্রতি বছর জমির উপরিভাগের মাটি উঠিয়ে নেয়ার কারণে অপেক্ষাকৃত নিচু হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বর্ষায় জমিগুলোর আবাদের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

মৃত্তিকা বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর চাষাবাদ, ফসলের অবশিষ্ট অংশ পঁচে এবং সার প্রয়োগের কারণে জমির উপরিভাগে মূল উর্বরা শক্তি বাড়তে থাকে। কিন্তু উপরিভাগের মাটি কেটে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে জমিতে বিদ্যমান উর্বরা শক্তি হারিয়ে যায়। যা আবার ফিরে পেতে প্রচুর সময় লাগে। টপ সয়েলের নিচের অংশে চাষাবাদ করলে প্রচুর পরিমাণে সার প্রয়োগ করেও আবার উর্বর করতে ৫/৬ কয়েক বছর সময় লেগে যায়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফসলি জমিগুলোর মাটি বিক্রি শুরু হয়। প্রায় ৪/৫ মাস ধরে এসব মাটি কেটে ট্রলার, ট্রলি, ট্রাক ও ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উঠিয়ে নেয়ার হিড়িক চলে। উপজেলায় প্রতি বছর নভেম্বর থেকে শুরু করে সংশিষ্ট মাটির দালাল চক্রের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। এঁটেল জাতীয় মাটি ইটভাটার জন্য বেশি উপযুক্ত। তাই এ মাটির প্রতি দালালদের আকর্ষণ বেশি থাকে। বর্ষা মৌসুমে কোথাও মাটি সংকটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেয় ওই দালালচক্র।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ছাইফুল আলম বলেন, মাটির উপরিভাগের ৮/৯ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরা শক্তি থাকে। কিন্তু ঐ টপ সয়েলটা ইট ভাটায় চলে যাওয়ায় জমির অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এ ক্ষতি এক-দুই বছরে সার দিয়ে কোনভাবে পুষিয়ে নেয়ার সুযোগ নেই। সার, গোবর, কচুরিপানা দিয়ে উর্বরতা বাড়াতে বেশ ক’বছর সময় লাগবে। ফসলি জমির মাটি কেটে উঠিয়ে নেয়া রোধে সুনির্দিষ্ট কোন শক্তিশালী আইন না থাকায় উৎসাহিত ওই চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। আর এমতাবস্থায় জমির মালিক ও কৃষককে তাদের জমির ব্যাপারে সচেতন হওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply