মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের উদাসীনতায় বাল্য বিবাহ দিন দিন বেড়েই চলছে

মোঃ শরিফুল আলম চৌধূরী মুরাদনগর(কুমিল্লা) থেকে :
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাল্য বিবাহ দিন দিন বেড়েই চলছে প্রশাসনের কোন নজর নেই। প্রতিদিন বাল্য বিবাহর শিকার হচ্ছে অসংখ্যা নাবালিকা স্কুলগামী ছাত্রীদের। এদিকে সরকারী প্রসাশনসহ বিভিন্ন বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা(এনজিও) বাল্য বিবাহ রোধে লোকদেখানো নানামূখী কর্মসূচী গ্রহন করলে ও বাল্য বিবাহ রোধের তেমন কোন প্রভাব নেই বললে চলে। উপজেলার সদরসহ ২২ ইউনিয়নে কাজীরা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিদ্যালয় গামী নাবালিকা ছাত্রীদের প্রাপ্ত বয়স্ক দেখিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করছে। এরকম বাল্য বিবাহের ফলে দিন দিন নারী নির্যাতন আতœহত্যা, স্বামী পরি ত্যাক্তা ও বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জানাগেছে স্বল্প শিক্ষিত ও নীরক্ষর অভিভাবকরা তাদের নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ভাটি অঞ্চলে বাল্য বিবাহের প্রবনতা আশংকাজনক অভাবী মানুষেরা যৌতুক দিতে না পেরে ইজ্জত হারানোর ভয়ে বাল্য বিবাহের দিকে ঝুকে পড়ছেন। অনেক অভিভাবকরা সামাজিক অবক্ষয় ও বখাটেদের উৎপাতের হাত থেকে নিজের কন্যা সন্তানকে রক্ষা করার জন্য বিদ্যালয় মূখী নাবালিকা ছাত্রীদের বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। গ্রামের মেয়েরা প্রাইমারী গন্ডি পের হয়ে হাই স্কুলে পদার্পন করতে না করতেই অভিভাকরা মেয়েদের বিবাহ দেয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আবার অনেক অভিভাকরা যৌতুকের লোভে বিদ্যালয়গামী নাবালক ছাত্রকে বর সাজিয়ে বিয়ে দিচ্ছেন। বিয়ের সময় কন্যা পক্ষের মোটা অংকের বরপক্ষের নিকট যৌতুক হিসেবে নগদ অর্থ ও মোটর সাইকেল সহ অন্যান্য উপঢোকন দেয়ার প্রতিশ্র“তি দিতে হয়।ওই প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী কনের পক্ষ যৌতুকের অর্থ দিতে ব্যার্থ হলে স্বামী সহ শ্বাশুরীও ননদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ফলে কিশোরী বধূর উপর বছর ঘুরে আসতে না আসতেই দাম্পদ্যজীবনে নেমে আসে অশান্তির ছায়া। অনেক বধূই স্বামী ও শ্বশুর পরিবারের সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়ে আতœহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে। এ উপজেলায় ক্রমান্বয়ে স্বামী পরিত্যাক্তার সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। অনেক বধূই স্বামী পরিত্যাক্ত হয়ে পিতার ঘাড়ে বোঝা হয়ে দারিয়েছে। আবার অল্পবয়সী স্বামী পরিত্যাক্তরা অসমাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। উপজেলার সদর এলাকার কাজী মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ আলী জামান, সবচেয়ে বেশি কড়াকড়ি ভাবে বিয়ে পড়ানো হচ্ছে উপজেলা সদরে। ইউপি চেয়ারম্যানের সনদপত্র ছাড়া বিয়ে পড়ানো হয়না। অপর দিকে নিকাহ রেজিষ্টার ইউসুফ কাজী ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এজেন্ট নিয়োগ দেয়ার বাল্য বিবাহের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাপ্ত বয়স্ক বানিয়ে বিয়ে রেজিষ্টার করছে। অপরদিকে কতিপয় চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বেশী বয়সের জন্ম সনদপত্র গ্রহন করেন অভিভাবকরা বাল্য বিয়েতে প্রশাসনিক কোন ঝামেলা হবে না, অর্থের বিনিময়ে এ রকম নিশ্চিয়তা দিতে অনেক চেয়ারম্যান স্ব- শরীরে উপস্থিত থেকেই বাল্য বিয়ে পড়াচ্ছেন এ নিয়ে কাজিয়াতল দঃ পাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারন্ট্যান্ট মাওলানা আবদুস ছোবান জাহান গত কয়েক দিনের মধ্যে ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণীর ৭ মেয়ে এবং ১০ম শ্রেণীর ৫ মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বাল্য বিবাহ রোধে আইন থাকলে ও তা প্রয়োগ না করায় এ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবী করে মুরাদনগর উপজেলার পুলিশিং কমিটির সাধারন সম্পাদক মোঃ জামিউল ইসলাম চৌধুরী বলেল, বাল্য বিবাহের খবর উপজেলার প্রশাসনকে অবহিত করে ও কোন ফল হয়না উল্টে তথ্য দাতা প্রশাসনের পক্ষ পরিচয় জানিয়ে দেয়া হয় বাল্য বিবাহ অয়োজন কারী দের নিকট। ফলে তথ্য দাতাদের পড়তে হয় সামাজিক রোযানলে।

Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply