মালামাল লুটে নেয়ার সময়ে ভাংচুর ও তছনছ করা ঘরের মালামাল

সরাইলে একই পরিবারের ৮জনকে অজ্ঞান করে নগদ টাকা সহ ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥

মালামাল লুটে নেয়ার সময়ে ভাংচুর ও তছনছ করা ঘরের মালামাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রবাসীর বাড়িতে একই পরিবারের ৮ জনকে অজ্ঞান করে নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার সহ প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দূর্বৃত্তরা। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আখিঁতারা তিয়রকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অজ্ঞান ৮ জনের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলো- বাড়ির কর্তা আবু নেছার (৫৫), তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৪৮), বাড়ির কাজের লোক মো. হাসান মিয়া (৬৫), প্রবাস ফেরত হানিফ মিয়া (৩৫), সদ্য প্রবাস ফেরত আয়েশা বেগম (২৬), ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্র রাজ্জাক (১৩), ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া (১০) ও ৩য় শ্রেণীর ছাত্র ইয়াছিন (৯)। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ, প্রবাসীর পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার আখিঁতারা তিয়রকোনা গ্রামের আবু নেছার মিয়ার তিন পুত্র ও দুই পুত্রবধূ দুবাই প্রবাসী। সম্প্রতি তার এক ছেলে ও এক পুত্রবধূ দেশে ফিরে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রবাস ফেরত গৃহবধূ আয়েশা বেগম বাড়ির লোকদের রাতের খাবার রান্না করছিল। এসময় অজ্ঞাতনামা এক মহিলা এসে গৃহবধূর শ্বাশুড়ি মর্জিনা বেগমকে খোঁজ করে। গৃহবধূ তার শ্বাশুড়িকে ডাকতে গেলে সুযোগে ওই মহিলা রান্না করা খাবারের সঙ্গে অজ্ঞান করার পদার্থ জাতীয় ওষুধ মিশিয়ে দেয়। গৃহবধূ ফিরে এসে তার শ্বাশুড়ি ঘরে মাগরিবের নামাজ আদায় করছে জানালে ওই অজ্ঞাতনামা মহিলা আবার আসবেন বলে চলে যায়। রাতে ওই খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে গভীর রাতে দূর্বৃত্তরা প্রবাসীর বাড়ির বিল্ডিং ঘরের তিনটি কক্ষে প্রবেশ করে ষ্টীলের আলমারি সহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাংচুর সহ মালামাল লুটে নেয়।

পরিবারের গৃহবধূ রানু বেগম (২২) বলেন, আমি পিতার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সকালে খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসেছি। তিনি বলেন, সবাইকে অজ্ঞান করে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার সহ প্রায় ১২ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেছে দৃর্বৃত্তরা। ঘরে রাখা একটি মোটর সাইকেলও তারা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি বাড়ির পাশেই কৃষি জমিতে মোটর সাইকেলটি ফেলে যায়। বাড়ির কুকুর ও বিড়ালটি পর্যন্ত অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছে। অজ্ঞান হানিফ মিয়ার কিছুটা সুস্থ হলেও বাকি ৭ জনের জ্ঞান এখনও ফিরেনি। প্রতিবেশী মো. আয়ূব আলী (৭৫) ও ওয়ার্ড মেম্বার লুৎফুর রহমান জানান, সকালে বাড়ির লোকদের ঘুম না ভাঙ্গলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে যান। অজ্ঞান অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রতিবেশী নাছিমা বেগম (৩৫) বলেন, গভীররাতে মোটর সাইকেলের শব্দ শুনতে পেয়েছি।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply