কুমিল্লা জেলা পরিষদের সোয়া ৩ কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে উত্তেজনা : সিডিউল কিনতে পারেনি সাধারন ঠিকাদাররা

কুমিল্লা প্রতিনিধি : :
মঙ্গলবার কুমিল্লা জেলা পরিষদে সোয়া ৩ কোটি টাকার টেন্ডারের দরপত্র বিক্রি নিয়ে সরকার সমর্থক ঠিকাদারকের দুটি গ্রুপ ছাড়াও বিএনপি সমর্থক ঠিকাদারদের মাঝে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। সরকার সমর্থকরা দরপত্র বিক্রিতে বাঁধা দিলে জেলা পরিষদের প্রধান ফটকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজের সম্ভাব্য ভাগ-ভাটোয়ারা করার শর্তে সরকার দলীয় নিদিষ্ট কিছু ঠিকাদার দরপত্র ক্রয় করে নেয়। এদিকে নগরী ছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে ওই টেন্ডারের দরপত্র যেখানেই ক্রয়ের ব্যবস্থা ছিল, সেখানেও সরকার সমর্থক ঠিকাদার সিন্ডিকেট দরপত্রক্রয়ে বাধাঁ দিয়েছে।

জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে এডিপি ও নিজস্ব তহবিলের অর্থায়নে জেলার বিভিন্ন উপজেলার রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ড্রেন, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন, তৈরী, মেরামতে ৭৫টি প্যাকেজে সোয়া ৩ কোটি টাকার টেন্ডারের দরপত্র বিক্রির শেষ দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। তাই সকাল থেকেই জেলা পরিষদে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। সকালে সরকার সমর্থক ঠিকাদারদের দুটি গ্রুপ ছাড়াও যুবদল নেতা বিল্লাল গ্রুপের লোকজন দরপত্র ক্রয় করতে এলে জেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সামনেই এ নিয়ে চলে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা। খবর পেয়ে সরকার সমর্থক সকল ঠিকাদার ও ছাত্রলীগ -যুবলীগ নেতারা জেলা পরিষদ চত্বরে সমবেত হয়। পরে জিএস সহিদের নেতৃত্বে সোয়া ৩ কোটি টাকার কাজের সম্ভাব্য ভাগ-ভাটোয়ারা করার শর্তে সরকার সমর্থক ঠিকাদাররা ঐক্যমতে পৌছলে নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার দরপত্র ক্রয় করতে সক্ষম হয়। এদিকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকার সমর্থক ঠিকাদাররা জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসক ও এলজিইডি ভবনে অবস্থান নিয়ে দরপত্র বিক্রি কার্যক্রম তদারকী করে। তবে শেষ দিনে কতোটি দরপত্র বিক্রি হয়েছে তা রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানাতে পারেনি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার দরপত্র জমা দেয়ার কথা রয়েছে। সংঘর্ষের আশংকায় আজও জেলা পরিষদ চত্বরে পুলিশ মোতায়েন রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব ওমর ফারুক জানান, দরপত্র ক্রয় নিয়ে মঙ্গলবার অফিসের বাইরে কিছু সমস্যা হলে অফিসের ভেতর কেউ সমস্যা সৃষ্টি করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, জেলা পরিষদে কোন সিন্ডিকেট প্রথা রাখবেন না। পুলিশের নিরাপত্তা থাকলেও সাধারণ ঠিকাদাররা হয়তো ভয়ে জেলা পরিষদে সিডিউল ক্রয় করতে যায়নি। জেলা পরিষদের সচিব বিধায়ক রায় চৌধুরী জানান, ঠিকাদাররা নিজেরাই কিছুক্ষন দরপত্র ক্রয় করা নিয়ে গোলমাল করেছে। পরে আর বড় ধরনের কোন সমস্যা হয়নি, তাই যারাই দরপত্র ক্রয় করেছে আজ বুধবার সবার দরপত্রই জমা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। তবে ওই টেন্ডারের দরপত্র যেখানেই ক্রয়ের ব্যবস্থা ছিল, সেখানেও সরকার সমর্থক ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট ব্লক দিয়েছে বলে জানা গেছে।

Check Also

কুসিক নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার দাবি বিএনপির

সৌরভ মাহমুদ হারুন :– কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার ...

Leave a Reply