কুমিল্লার জনগণের দায়িত্ব নিলেন মেয়র সাক্কু

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা :

* দায়িত্ব নিয়েই নগরীর ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানে বৈঠক

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কু তার দায়িত্ব বুঝে নিলেন। দায়িত্ব বুঝে নিয়েই উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে মনিরুল হক সাক্কু তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, আমি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবো। আপনাদের সমস্ত সমস্যা ও অসুবিধা নিয়ে আমার কাছে আসবেন। আমি আপনাদের চাহিদা মতো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো ইনশায়াল্লাহ।

গতকাল বেলা ১১টায় মনিরুল হক সাক্কু নগরীর নানুয়ার দিঘীরপাড় তার বাসভবন থেকে নগর ভবনের উদ্দেশ্যে দায়িত্বগ্রহণের জন্য হেঁটে রওয়ানা হলে কুমিল্লা পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ প্রধানমন্ত্রীর হাতে শপথ গ্রহণের পর ঘোষণা দিয়েছিলেন গতকাল ৬ ফেব্র“য়ারী হেঁটে নগর ভবনে গিয়ে দায়িত্ব বুঝে নেবেন। ওই ঘোষণার পর থেকে তার এ পদযাত্রায় সঙ্গী হতে সকাল ৮টা থেকেই নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত হাজার হাজার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মী তার বাড়ির সামনে জড়ো হয়। অনেকের সঙ্গে ছিল ফুল, বাদ্যযন্ত্র ও সাক্কুর ছবি সম্বলিত ফেষ্টুন। বেলা ১১টায় তিনি রওয়ানা হলে তার পদযাত্রা রূপ নেয় এক বিশাল বিজয় মিছিলে। রাস্তার দু’পাড়ে এবং বিভিন্ন ভবনের ছাদে দাড়িয়ে মহিলা, শিশুসহ উৎসুক জনতা মিছিল দেখতে ভীড় জমায়। এদিকে দায়িত্বগ্রহণের পরপরই নগরীর উন্নয়ন প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক ও পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে। তিনি আগামী বৃহস্পতিবার থেকেই নগরীর প্রধান সমস্যা ড্রেনেজ সমস্যা নিষ্কাশন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

নবনির্বাচিত মেয়র তার বাসা থেকে ডিগাম্বরীতলা, রাজগঞ্জ, মোগলটুলী, ফৌজদারী চৌমুহনী হয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনে প্রবেশ করেই নীচতলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। পরে নগর ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২০১ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন। পুরনো কুমিল্লা পৌরভবন বর্তমান নগর ভবনের ভেতরের তখন তিল ধরনের ঠাই ছিল না। নগর ভবনে তাকে অভ্যর্থনা জানান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সদ্য বিদায়ী প্রশাসক নাসির উদ্দিন আহমেদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান ও সচিব ছামছুল আলম। এসময় সিটি কপোরেশনের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

দায়িত্বগ্রহণকালে মনিরুল হক সাক্কু তার বক্তব্যে বলেন, আমি বিলুপ্ত কুমিল্লা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও মেয়র ছিলাম। তখন থেকেই চেয়েছিলাম কুমিল্লার প্রতিটি মানুষ যেন সুখে শান্তিতে থাকে। কিভাবে নগরীর উন্নয়ন করা যায় সর্বদা এটাই ছিল আমার একমাত্র চিন্তা। নির্বাচনের পূর্বে আমি জনগণকে কথা দিয়েছি কুমিল্লা পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন যে উন্নয়ন করছি বর্তমানে দ্বিগুন উৎসাহে সিটি কর্পোরেশনে উন্নয়ন করে যাব। জনগণ আমার উপর আস্থা রাখছে বলেই আমাকে তারা বিজয়ী করেছে। বিজয় আমার নয়, এ বিজয় জনতার। আমার উপর যে আস্থা এবং বিশ্বাস জনগণ রেখেছে আমি তা পালন করার চেষ্টা করব।

বিলুপ্ত কুমিল্লা পৌরসভায় মেয়র থাকাকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে অনেক সমস্যারই আমি সমাধান করতে পারিনি। একজন সিটি মেয়রের ক্ষমতানুযায়ী যা সম্ভব তা দ্বারা জনগণের উন্নয়ন করে যাব। আজ থেকেই আগামী প্রতিটি কর্মদিবসে নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে সমপরিমাণ উন্নয়নে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো। নাগরিকরা প্রতিটি ওয়ার্ডে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব কাজ চায় সেগুলো চিহ্নিত করে জরুরী ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করব। সকলে মিলেমিশে নতুন এই সিটি কর্পোরেশনকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশা’আল্লাহ। তিনি কাউন্সিলরদের উদ্দেশে বলেন, সিটি করপোরেশনে এসে জনগণের উপকার করার মনমানসিকতা মাথায় রেখে দলমতের উর্ধ্বে উঠে জনগণের সেবা করবেন।

বক্তৃতা শেষে বর্তমান প্রশাসক নাসির উদ্দিন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। পরে মেয়র মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করে নিজ চেয়ারে বসেন। এসময় বিভিন্ন সংগঠন, দলীয় নেতাকর্মী ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি নবগঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির ইভিএম ও সেনা মোতায়েন নিয়ে ছিল নানা নাটকীয়তা। দুইদফা দাবীতে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও দল থেকেও অব্যাহতি নিয়ে সম্মিলিত নাগরিক কমিটির ব্যানারে প্রার্থী হন সাবেক পৌর মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। প্রায় অর্ধেক ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খানকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। পরে গত ২ ফেব্র“য়ারী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর ঢাকাস্থ তেজগাঁও কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র শাপলায় মেয়র হিসেবে শপথ নেন মনিরুল হক সাক্কু। তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় নির্বাচিত ২৭ কাউন্সিলর ও ৯ সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরকে শপথ করান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply