অযত্নে অবহেলায় রয়েছে নওগাঁর জগদ্দল বৌদ্ধবিহার

নওগাঁ প্রতিনিধি :

আজ সেই রাজ্য নেই, রাজা নেই। পড়ে রয়েছে তার কীর্তি। কিন্তু নেই তাতে যতœ আর দেখভাল। তবে পাল রাজা রামপালের ইতিহাস সমৃদ্ধ জনপদ এ দেশেরই সম্পদ। নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার ১২’শ খিষ্ট্রাব্দে প্রাচীন নির্দশন জগদ্দল বিহার বা বিশ্ববিদ্যালয়টির রয়েছে হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যময় ইতিহাস। জগদ্দল বিহারের অবস্থান নওগাঁর ধামইরহাট জয়পুর হাট সড়কের উত্তর দিকে।

বাংলাদেশে যে কয়টি বৌদ্ধবিহার রয়েছে তার মধ্যে নওগাঁর ধামইরহাট জগদ্দল বৌদ্ধবিহার একটি। কিন্তু প্রাচীন এই নির্দশনটি পড়ে রয়েছে অযতœ আর অবহেলায়। ১৯৯৬ সালের পর তিনবার উৎখননের কাজ হয়। উৎখননের ফলে এখানে যে ধ্বংসাশেষ পড়ে রয়েছে তার আয়তন পূর্ব-পশ্চিমে দীর্ঘ ১০৫মি.ঢ৮৫মি, দেয়াল প্রায় ৫মি.ঢ৫মিটার। পরবর্তিতে অর্থ বরাদ্ধের অভাবে উৎখনন বন্ধ রয়েছে প্রায় ১১ বছর।

প্রতœত্বত্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উৎখননের সময় এখান থেকে প্রচুর প্রাচীন নির্দশন পাওয়া যায়। এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেক নির্দশন ও টক্কামারী দিঘীসহ নানান স্থাপনা। ধামইরহাট উপজেলার জয়পুর ধামইরহাট রাস্তার উত্তর দিকে অবস্থিত জগদ্দল বিহার একটি প্রাচীন কীর্ত্তি। বর্তমানে স্থানীয় জনগণ এটাকে বটকৃষান রায় নামক একজন জমিদার বাড়ির ধ্বংসাশেষ বলে মনে করে। কিন্তু ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, রামপাল গৌড় রাজ্য পুনরুদ্ধারের পর রামাবর্তী নগরের রাজধানী স্থাপন করেন। আইন-ই-আকবরী রচয়িতা আবুল ফজল এ স্থানকে রমৌতি বলে উল্লেখ করছেন। প্রাচীন বাংলার ধর্মমঙ্গল কাব্য গুলিতে রামাবর্তীর উল্লেখ আছে। রামপালের পুত্র মদন পালের তাম্র শাষণে ও রামাবর্তী নগরীর উল্লেখ আছে।

দীনেশ চন্দ্র সেন বলেছেন যে, এই রামাবর্তীর নগরে রামপাল জগদ্দল মহাবিহারের প্রতিষ্ঠা করেন। দেশের মানুষের কাছে আজো স্থানটি তেমন পরিতিচ নয়। অথচ এই বিহারটি প্রাচীন বাংলা শিক্ষা-দীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সুভাষ মুখ্যপাধ্যায় বলেছেন যে উত্তর বঙ্গের জগদ্দল বিহারের দুজন সুনামধন্য পন্ডিত হলেন, দানশীল ও বিভূতি চন্দ্র। প্রায় ষাটখানা তন্ত্র গ্রন্থের তিব্বতী অনুবাত করেছেন আচার্য দানশীল। রাজপুত্র বিভূতী চন্দ্র ছিলেন একাধারে গ্রন্থকার, টীকাকার, অনুবাদক ও সংশোধক। কথিত আছে যে, কাশ্মীরে প্রসিদ্ধ সাধু ও পন্ডিত সাক্য শ্রীভদ্র ১২০০ খ্রীষ্ট্রাব্দে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহার দর্শন করে জগদ্দল বিহারে এসেছিলেন। বাংলার জগদ্দল বিহারের বৌদ্ধ পন্ডিত বিদ্যাকর সুভাষিত রতœকোষ নামে একটি কোষ বাক্য সংকলন সমাপ্ত করেছিলেন। প্রাচীন বাংলার এমন উন্নত জ্ঞান সাধন কেন্দ্র আজ সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত।#

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply