বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার নির্মাণ করে মরতে চান বঙ্গবন্ধু পাগল জহিরুল হক

মোঃ শরিফুল আলম চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বঙ্গবন্ধু পাগল মুরাদনগরের সবার প্রিয় জহিরুল হক জহির। বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ৫ ও ৪০টাকার নতুন নোট ও একটি জাতীয় পতাকা ভাষার মাস উপলক্ষ্যে ওই অঞ্চলের প্রায় তিন সহস্রাধিক ধনী, গরীব, পথশিশু ও ফকিরদের মাঝে প্রায় ১৫হাজার টাকা ও শতাধিক জাতীয় পতাকা বিতরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। ডাক নামে সবাই তাকে আওয়ামীলীগের জহির ভাই বলে ডাকে। বর্তমানে পেশায় নামে মাত্র ক্ষুদ্র ক্রোকারিজ দোকানদার। পৈত্রিক ভিটা বলতে মাত্র ৩শতক জমির উপর তার বসবাস। ৬৫বছরের বয়স্ক জহির ভাই প্রতি বছরই অত্যন্ত জাকঝঁমক পূর্ণ ভাবে মুরাদনগর উপজেলার দারোরা বাজারে তার নিজস্ব ছোট দোকানে বাঙ্গালী জাতির জাতীয় শোক দিবস ১৫ই আগষ্ট পালন করেন। বাদ দেন না ২১ফেব্র“য়ারী, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ জাতীয় দিবস ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের স্বরনীয় দিবসগুলো পালন করতে। এবারও তিনি নয়নঅভিরাম তোরন এবং মুক্তিযোদ্ধা সহ আওয়ামীলীগের অন্যান্য ব্যাক্তিবর্গ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে নিয়ে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জোবেদা খাতুন পারুল, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন আল রশিদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সানোয়ারা বেগম লুনা, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম স্বাক্ষী যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্পোরাল অবঃ আবদুল মতিন চৌধুরী ও দারোরা ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মোক্তারের উপস্থিতিতে ব্যাক্তি উদ্যোগে ২১শে ফেব্র“য়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে চান। এছাড়া দারোরা বাজারে কুমিল্লা জেলার মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবচেয়ে বেশী ছবি সম্বলিত নিজের দোকানকে অফিস সাজিয়ে প্রত্যহ ভোর সকাল হতে মধ্যরাত পর্যন্ত স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, হতদরিদ্র অসহায় নারী পুরুষ ও গুনী ব্যাক্তিদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে দোকান (অফিস) প্রাঙ্গন। কেবলমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নয়, তার পাশাপাশি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নিহত পরিবার বর্গের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধের সর্বাধিক নায়ক এমজি ওসমানী, সেক্টর কমান্ডারদের ছবিসহ মাওলানা হামিদ খান ভাষানী, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, নোবেল বিজয়ী রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর, দেশরতœ স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহিদ, ভাষা শহিদ ছাড়াও অসংখ্য গুনীগ্রাহী সহ স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা কুমিল্লা (উঃ) জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের ছবি দিয়ে সাজিয়ে রাখা দোকানটি (অফিস) দেখলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু পাগল এই মানুষটি তার ক্ষদ্র ব্যবসা হতে উপার্জনের পুরো টাকা অফিসের আপ্যায়ন চা চক্র ও নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা কেনার মধ্য দিয়ে খরচ করেন। দেশ বিদেশের তাৎক্ষনিক খবর শুনতে ও শোনাতে বেশ জোঁক রয়েছে এই বঙ্গবন্ধু পাগলের। সবার জন্য উন্মুক্ত খবর দেখার জন্য ঐ দোকানে রেখেছেন ৬ইঞ্চি একটি ছোট আকারের সাদাকালো টেলিভিশন। রয়েছে নিয়মিত দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকা। আগে বেসরকারী সেটেলাইট কেবল নেটওয়ার্কের মাসিক বিলের অভাবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিবির) খবর দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো তাকে। পরে তার খবর জানা শোনার আগ্রহ দেখে উদারতার হাত বাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী পায়ব গ্রামের ডিজিটাল ক্যাবল নেটওয়ার্কের স্বত্তাধীকারী মোঃ মামুন সরকার বিনা বিলে বেসরকারী টিভি চ্যানেলের খবর দেখাশোনার জন্য বঙ্গবন্ধু পাগল জহিরকে একটি সৌজন্য সংযোগ দেন।

কথা হয় এ প্রতিবেদকের বঙ্গবন্ধু পাগল আওয়ামীলীগের জহির ভাইয়ের সাথে, তিনি জানান দেশ স্বাধীনের সময় তার বয়স ২৪ কি ২৫ বছর। তখন তিনি মুরাদনগর থানার সামনে চা দোকানী করতেন। তিনি চোখের সামনে দেখেছেন, রাজাকার, আলবদর, আল সামছ ও পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন। সেই নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে দুচোখের পানি ভাসিয়ে দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনে চায়ের দোকান গুটিয়ে যোগ দেই এলাকার অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে। যুদ্ধ করতে গিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন কুখ্যাত রাজাকারদের নিজের হাতে পিটিয়ে মারি। পরে দেশ স্বাধীন হলে জীবিকার তাগিদে যোগ দেই প্রফেশনাল যাত্রা পার্টিতে নাট্যকর্মী হিসেবে। প্রথমেই ছালিয়াকান্দি পান্ডব আলীর পরিচালনায় আদি বঙ্গলক্ষীঅপেরা পরে বুড়িচংয়ের হাবিলদার ছামছুল হকের পরিচালনায় রূপালী অপেরা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোপাল চক্রবর্তীর ভাগ্যলক্ষী অপেরা ও ইলিয়টগঞ্জ ভাটতলার উদয়ন নাট্য সংস্থার মতো দেশের খেতাব প্রাপ্ত জাতীয় অন্যান্য নাট্য সংস্থায় সর্বত্রই বেশ সুনামের সহিত নাট্য কর্মী হিসাবে কাজ করেছি। আবেগ প্লাবত হয়ে তিনি বলেন, নাট্য কর্মী হিসাবে এ পেশাতে এসে আমি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের গড়া এই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরতে পেরে নিজেকে অনেকটা গর্বিত মনে করছি। উপজেলার ১৯নং দারোরা ইউপির ১নং ওয়ার্ড সদস্য হিসেবে প্রথম ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ১৯৯২ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাছাড়াও এর পাশাপাশি ১৯৮৬ সাল থেকে প্রায় ১৮ বছর যাবত তিনি দারোরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে বেশ সুনামের সহিত কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধু পাগল জহির মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়া ছাড়া অতীতে নানাহ ভাবে হয়রানীতে স্বীকার হয়েছেন তিনি। বঞ্চিত হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি থেকে। তিনি বঙ্গবন্ধুর সমর্থক হওয়ায় এরশাদ সরকারের আমল থেকে শুরু করে জামায়েত জোট সরকারের আমল পর্যন্ত কোন অভিযোগ না থাকা সত্বেও তাকে ১১বার জেল হাজতে যেতে হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু পাগল জহির আরও জানান, জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার গড়ে তুলেই যেন তার মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যে তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে লেখা বিভিন্ন লেখকের প্রায় ৮২টি বই ক্রয় করেছেন। এছাড়াও মহা মনিষীদের জীবনী নিয়ে লেখা বইয়ের তালিকা তৈরী করলেও অর্থের অভাবে ক্রয় করতে পারছেন না বইগুলো। সর্বশেষ তিনি জানান, যে মানুষটি জন্ম না হলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশের স্থান হতনা সেই মানুষটিকে জানার ও বুঝার জন্য আগামী প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগার থাকবে মাইলফলক হয়ে। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সরাসরী সাক্ষাৎ সহ বঙ্গবন্ধু প্রেমিক অন্যান্য ভক্তদের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply