কুমিল্লার একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে খোলা আকাশের নিচে

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা :
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন উচ্চ বিদ্যালয়ের দখলে।
অর্ধেক শিক্ষার্থী ক্লাস করতে পারে না।
শিশুরা শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
প্রশাসন থেকে অনুরোধ করা হলেও ভবনটি ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে না।
সকল শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।
২২ বছর ধরে উচ্চ বিদ্যালয়ের দখলে।
উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাবি ভবনটি তাদের।

সরকার যখন নিরক্ষর মুক্ত দেশ ও জাতি গঠন করতে এবং শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয় মুখি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। ঠিক তখনই বিভিন্ন সরকারী, রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যলয়ে চলছে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস। তেমনি একটি কুমিল্লার পুলিশ লাইন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। সিটি কর্পোরেশনের খুব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই বিদ্যালয়টি হলেও নজরে পরেনি এই দৃশ্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এই বিদ্যালয়ের মাঠে বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা ভাবে খোলা আকাশের নিচে পাঠ দান করছেন শিক্ষকরা। তথ্য উপাত্ত ঘেটে জানা যায় ১৯৭৩ সালে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে এই বিদ্যালয়টি সরকারী করা হয় এবং সরকারী প্রজ্ঞাপন মোতাবেক বিদ্যালয়ের ভূমি লিজ, শিক্ষক ও আসবাবপত্র সহ সকল কিছু সরকারের অধীনে চলে আসে। ১৯৮৮ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের কিছু অংশ ভেঙ্গে একটি দ্বিতল ভবন নিমার্ণ করে এই ভবনটিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শ্রেণী কক্ষের কাজ শুরু করে । কিন্তু ওই সময়ে পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ না থাকায় উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের কাজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনে শুরু করে। এই অবস্থায় গত ২২ বছর ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দখলে রয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে দেখা দিয়েছে ভবন সংকট। যার কারণে ভবনের তুলনায় শিক্ষর্থী দ্বিগুন আকারে বেড়ে দাড়িয়েছে। যার পরিমান দাড়িয়েছে ৫০০ শতাধিক। এর বিপরীত রয়েছে বিদ্যালয়ে ৫টি শ্রেণী কক্ষ। প্রতিটি শ্রেণী কক্ষে ১০০ জন করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করতে হয়। কিন্তু শ্রেণী কক্ষগুলো শিক্ষার্থীদের পরিমানের তুলনায় অতি ছোট হওয়ায় প্রতিটি শ্রেণীকক্ষে মাত্র ৫০ জন করে শিক্ষাদান করতে পারে বিদ্যালয়টিতে। এর ফলে শ্রেণী কক্ষে মাত্র ২৫০ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করতে পারে। বাকি ২৫০ জন শিক্ষার্থী মাঠে ক্লাস করতে হয়। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্লাস করার সুযোগ পায়না এর কারন হিসেবে জানা যায়, গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে প্রচন্ড গরম ও বৃষ্টি থাকার কারণে মাঠে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করানো সম্ভব হয় না। এ ছাড়াও শীতকালেও অনেক শিক্ষার্থী প্রচন্ড রোদ্র সহ্য করতে না পাড়ায় ক্লাস করতে অনিহা প্রকাশ করে। এর বাইরেও প্রচন্ড রোদ্রে অনেক শিক্ষার্থী মাঝে মধ্যে শারীরিক অসুস্থ হয়ে পড়ে তা দেখে বাকি শিক্ষার্থীরাও মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এত সমস্যার সম্মুখীন হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বরাবর ভাল ফলাফল করে আসছে। তবে পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত সংখ্যক ভবন থাকলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়র পুরাতন ভবনটির দখল ছাড়ছেনা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এই ভবনটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে বার বার বলা হচ্ছে। পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, থানা নির্বাহী কর্মকর্তা স্মারক নং- ১২১১০/০৭ তাং- ১২/০৮/৯৭ইং, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, স্মারক নং- জেঃ প্রাঃ অঃ/১৩৬/১ (৮) তাং ১৮/০১/১৯৯৮ইং মোতাবেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও সম্পত্তি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ২২ বছর ভবনটি ব্যবহারের পর আজও ফিরিয়ে দেয়নি ভবনটি। এ ব্যাপারে পুলিশ লাইন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, এই ভবনটি আমাদের, আমরা কেন প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দেব। আর আপনার কাছে কোন ডকুমেন্ট থাকলে আমার সাথে দেখা করবেন। কিন্তু পুলিশ লাইন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, এ ভবনটি তাদের অনেক দিনের পুরোনো। এ ভবনটি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও তা ফিরিয়ে দেয়নি উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা জাহান বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা এ ভবনটি তাদের কাছে ফিরিয়ে দেব। কিন্তু ১৯৯৭ সালের অভিযোগের ব্যাপারে আমি জানিনা তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন হলে তাদের ভবন তারা ফিরে পাবেন। কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাজেদা নার্গিস সুলতানা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি আমরা অতিসত্ত্বর তাদের কাছে ফিরিয়ে দেবার চেষ্টা করব। যদি ভবনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হয়ে থাকে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply