একদল যুবক কারিগরের দক্ষতা নিরক্ষর মুক্ত এলাকা গড়ার প্রয়াস

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা :
একটি শিশু যখন নিরক্ষর সমাজে জন্মগ্রহণ করে, তখন পরিবেশই তাকে নিরক্ষর করতে বাধ্য করে। নিরক্ষর শিশুরাই সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়ায় ঠিক সেই মুহূর্তে রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ সকল নিরক্ষর শিশুরা। আর এ অবস্থা থেকে উত্তরনের লক্ষ্যে নিরক্ষর মুক্ত গ্রাম গড়তে বিভিন্ন স্কুল কলেজে অধ্যায়নরত ছাত্রদের উদ্ব্যোগে এক আলোকিত এক সংগঠন করে এলাকাবাসী তথা গ্রামবাসীর নিকট সুনাম অর্জন করেছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চেওঁরিয়া গ্রামের একদল যুবক। যে যুবকদের থাকার কথা খেলাধূলা ও বন্ধুবান্ধবের সাথে আড্ডা দেয়ার মতো কাজে। কিন্তু ঠিক ঐ মূহূর্তে যখন যুবকরা নিরক্ষর মুক্ত জাতি গড়তে মাঠে নামে তখন মনে হয় আমাদের দেশে গর্ব বোধ করার মতো সন্তান আমাদের দেশে জন্ম নিচ্ছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের চেওঁরিয়া গ্রাম থেকে কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন স্কুল কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রচেষ্টার মাধ্যমে এবং সম্পূর্ণ নিজেদের শ্রম ও মেধা দিয়ে। গ্রামকে নিরক্ষর মুক্ত করতে এবং গ্রাম থেকে হিংসা-বিদ্বেষ থেকে শুরু করে যাবতীয় হীনমন্যতা দূর করে। প্রতিটি শিশুকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা লক্ষ্যে এক মহৎ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে সংগঠটির উদ্যেগতারা প্রতি মাসে একবার করে গ্রামের সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে ডেকে গ্রামবাসীর সাথে এবং সমাজের মরুব্বিদের সাথে কি ভাবে আচরণ করতে হবে,কি ভাবে প্রতিদিন নিজেদের পিতা-মাতাকে সম্মান ও সহযোগিতা করতে হবে,কেন প্রতিদিন স্কুল-কলেজ এবং মাদ্রাসায় যেতে হবে,স্কুল-কলেজ মাদ্রাসার প্রতিদিনের পাঠ কিভাবে শেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হবে এমন সব বিষয়ে নিয়ে গ্রামের শিশু ও অধ্যায়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের ফ্রি ক্লাস নেয়া হয়। প্রতিটি ফ্রি ক্লাসে গ্রামের দরিদ্র পরিবারে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বিনামূল্যে বই,খাতা,কলম ইত্যাদি সামগ্রী বিতরন করা হয়ে থাকে। প্রতি বছর এই গ্রাম থেকে যে সকল ছাত্র-ছাত্রী জে এস সি,এস এস সি,এইচ এস সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করবে তাদের মধ্যে থেকে গরীব পরিবারে ছাত্র-ছাত্রীদের নগদ অর্থ প্রদান,শিক্ষা সামগ্রী বিনা মূল্যে দেয়া হয়। এছাড়াও এসকল শিক্ষার্থীদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে পরিক্ষা চলাকালীন সময়ে ব্যবহারের জন্য কলম ও ফাইল তুলে দেয়া হয়। এছাড়াও পরীক্ষার হলে কিভাবে লিখলে ভাল ফলাফল অর্জন করা সম্বব হবে তা নিয়েও পরমর্শ মূলক ক্লাস করা হয়ে থাকে। এমনই একটি সংগঠনের নাম ‘‘চেওঁরিয়া আলোর মেলা সংঘ’’। সংগঠনটি গঠনের শুরুতে এগিয়ে আসেন সংগঠনের বর্তমান সভাপতি এই গ্রামেরই কৃতি সন্তান শিক্ষানুরাগী ইসমাইল হোসেন পারভেজ ও আরেক শিক্ষানুরাগী সাংবাদিক এস এন ইউসুফ। প্রথমে গ্রামের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে তাদের অভিমত নিয়ে যাত্রা শুরু হয় এই সংগঠনের। সংগঠনের প্রথমিক পর্যায়ে গ্রামে নানান জনের নানা কথা আর ঠাট্ট বিদ্রুপ শুনতে হয় সকল শিক্ষার্থীদের। সংগঠনকে চালাতে হয় সম্পূর্ণ নিজেদের দেয়া অর্থদিয়েই। সংগঠনের কর্মী থেকে শুরু করে গ্রামের শিক্ষার্থীরা যখন তাদের নিজেদের অভিমত পিতা মাতার নিকট তুলে ধরতে থাকে ঠিক তখনই সংগঠনের প্রতি গ্রামের লোকজন জানতে শুরু করে। গ্রামের সকল শ্রেনীর মানুষ ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেলে তারাও হাসি মুখে মত দেন সংগঠটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য। পরবর্তীতে নানান জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গ্রামের বৃত্তবানদের কাছথেকে সামান্য সহায্য সহযোগিতা ্ও পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে ‘‘চেওঁরিয়া আলোর মেলা সংঘ’’। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সংগঠনের উদ্যোগে গ্রামের দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রী, যারা সামনে এস এস সি ও এইচ এস সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করবেন তাদের পরীক্ষা উপলক্ষে পরর্মশ মুলক ক্লাস, খাতা,কলম ও ফাইল বিতরন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চেওঁরিয়া পূর্বপাড়া মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে গ্রামে সম্মানিত মুরব্বি আবুল বাশারের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবক আব্দুল বারীক, মাওলানা হারুন অর রশিদ, গ্রীস প্রবাসী আব্দুল কাদের বাচ্চু,সহিদুল ইসলাম,সংগঠনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন পারভেজ,সংগঠনের সধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এস এন ইউসুফ,সহ সধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী শামছুলআলম,শাহ নেয়াজ,ফরহাদ,শামীম,কাউছার,আকতার,ইকবাল,ইশিতা,সুমাইয়া,শারমিন,জাহানারা,ফাতেমা,নাজমা সহ গ্রামের ও স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় পড়ুয়া সকল শিক্ষাথী ছাত্র-ছাত্রী বৃন্দ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের একনিষ্ঠ কর্মী অহিদুর রহমান অনিক। যা আমাদের দেশ ও জাতি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। মনে রাখবে তাদের কথা পুরো জাতি।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply