কুমিল্লার ৩৭ বস্তি ও মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে বসবাসরত ৮০ হাজার নিম্নবিত্ত শ্রেণি ও বেদে সম্প্রদায়ের জীবনচিত্র

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা :

০ স্যাঁত স্যাঁতে ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস

০ শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে বিভিন্ন রোগের প্রসার

০ নেই কোন বিনোদনের ব্যবস্থা

০ আর্থিক সংকট ও স্থায়ী ঠিকানা না থাকার ফলে শিশুরা শিক্ষা হতে বঞ্চিত

০ বস্তিগুলোতে কিশোর অপরাধ ও মাদক ব্যবসা বৃদ্ধি

০ অপরাধিদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বস্তিগুলো

০ প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে উঠছে ১১ সহস্রাধিক শিশু

কুমিল্লা জেলায় অসংখ্য বস্তি রয়েছে, যেখানে বসবাস করছে লাখ লাখ নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ। তারা শিক্ষা,স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কুমিল্লায় বস্তিবাসীর উন্নয়নে কাজ করা ইউএনডিপির আরবান পাটনারশিপ ফর প্রভার্টি রিডাকশন প্রজেক্ট (ইউপিপিআরপি) সূত্র জানায়,কুমিল্লা মহানগরের ডজন খানেক বস্তির ৫৭টি কমিউনিটি ডেভোলপমেন্ট কমিটির(সিডিসি) অধীনে বসবাস করছে ৭২ হাজার মানুষ। কুমিল্লায় ইউপিপিআরপির জরিপে কুমিল্লা শহরে ৩৭টি বস্তি রয়েছে। ৩৭টি বস্তির মধ্যে ৩৩টি বস্তির জরিপ করা হয়েছে। জরিপে ৪২ হাজার ৮’শ ৩৯ জন জন সংখ্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে পুরুষ ২০ হাজার ৮শ’ ৯৬ জন, নারী ২১ হাজার ৯শ’ ৪৩ জন, শিশুর সংখ্যা ১০ হাজার ৩শ’ ১৬ জন। এছাড়া ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ৯৭ কিঃমিঃ অংশস জেলার বিভিন্ন উপজেলার রাস্তার পাশের জমিতে কিংবা ফুটপাতে কিংবা মাকের্টের পাশে, ইটভাটার পাশে, নদী-খালের পাশে তাবু বা ছাবড়া টানিয়ে বসবাস করছে ভাসমান মুসলমান ও হিন্দু বেদে সম্প্রদায় এবং অসংখ্য ছিন্নমূল মানুষ। বিভিন্ন সূত্রমতে, যাদের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।

স্যাঁত স্যাঁতে ঘিঞ্জি পরিবেশে ৫ জনের জায়গায় বাস করছে ১৫ জন মানুষঃ

সরেজমিনে কুমিল্লার মহানগরের শাসনগাছা, মফিজাবাদ কলোনী, থিরাপুকুর পাড়,গদারমার কলোনি,মুরাদনগর ও সুজানগরের কয়েকটি বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, এসব বস্তিতে স্যাঁত স্যাঁতে ঘিঞ্জি পরিবেশে ৫ জনের জায়গায় বাস করছে ১৫ জন মানুষ। ছোট ছোট কক্ষে পাটি বিছিয়ে অথবা পলিথিন বিছিয়ে তার উপর চাদর বিছিয়ে ৩ জনের জায়গায় বসবাস করছে ৭/৮ জন। অনেক কক্ষে ৫ জনের জায়গায় ১৫ জন বসবাস করছে। অনেকে পাটি অথবা চাদর-কাথাঁ ছাড়াই শুধু মাটিতে শুয়ে রাত্রিযাপন করছে। শীত-বর্ষা তাদের জন্য ভয়ংকর সময়। কারণ বর্ষার সময় ঘরে প্রতিদিন পানি ঢুকে আর শীতের সময় অসহ্য ভোগান্তির শিকার হয়। শীতের সময় তারা অনেকে কাগজ,গাছের বাকল ইত্যাদি কুড়িয়ে এনে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করে। এতে করে আরেকটি সমস্যার সৃষ্টি হয়। মাঝেমধ্যে অনেক কলোনি বা বস্তিতে ভয়ংকর অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। মফিজাবাদ কলোনির রহিম মিয়া (৫৬) বলেন, গরমের সময় তেমন সমস্যা হয়না। বর্ষাকালে ঘরে পানি ঢুকে তখন আর মাটিতে ঘুমানো যায়না। আর শীতের সময় তো অনেক কষ্ট হয়। ত্রানের কম্বল পেলে একটু উপকার হয়, তবে শীততো নিবারণ হয়না। গদারমার কলোনির রিকসাওয়ালা রাজ্জাক মিয়া জানান, এই বস্তিতে প্রায় ২০০ রিকসাওয়ালা ভাড়া থাকে, যারা রংপুর থেকে জীবিকা নির্বাহের কারণে এখানে এসেছে। তিনি জানান, আমরা এক ঘরেই ৭/৮ জন গাজাগাজি করে থাকি। বর্ষাকালে হাটু পর্যন্ত পানি থাকে এখানে। তখন কষ্টের কোন সীমানা থাকেনা।

শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব ঃ

শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবের কারণে এসব বস্তিগুলোতে রোগ ব্যাধি দরিদ্র মানুষগুলোর বন্ধু হয়ে গেছে। এসব নোংরা পরিবেশে থাকার ফলে এসব বস্তির মহিলা ও শিশুরা বিভিন্ন সংক্রামক রোগসহ নানাবিধ ভয়ংকর রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শাসনগাছা বস্তির ইকরাম হোসেন বলেন, এ নোংরা পরিবেশ থেকে আমাদের মুক্তি পাওয়ার উপায় নেই। এখানে আমাদের সন্তানদের বড় করতে, এটাই আমাদের নিয়তি। তবে চেষ্টা করছি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার। সুজাগরের পানির ট্যাংকির পূর্ব পাশের বস্তির মালিক শাহিনুল ইসলাম বলেন, এখানের মানুষ আগে আরো বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ছিলো। ইউপিপি আরপির টয়লেট ও নলকূপ বসানোর কারণে পরিবেশ কিছুটা উন্নত হয়েছে।

বিনোদনঃ

মহানগরের এসব বস্তির মানুষের বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা নেই। এখানে ঝগড়া-বিবাদ নিত্য দিনের বিনোদন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব বস্তির প্রায়গুলোতেই একে অপরের সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত থাকে। এসব বস্তিতে শিশুদের জন্য খেলাধুলার কোন ব্যবস্থা নেই। বয়স্ক পুরুষ-মহিলার জন্য নেই কোন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।

বস্তির শিশুরা শিক্ষা হতে বঞ্চিত হওয়ার কারণঃ

আর্থিক সংকট ও স্থায়ী ঠিকানা না থাকার ফলে এসব বস্তির শিশুরা শিক্ষা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। বস্তির লোকজন নিম্নবিত্ত শ্রেণির। তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক। তাছাড়া বস্তিগুলো তাদের স্থায়ী ঠিকানা নয়। তাছাড়া কুমিল্লায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চরম সংকট। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির লড়াই সর্বদা লেগেই থাকে আর প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হওয়া তো স্বপ্নেও ভাবতে পারেনা এসব বস্তিবাসি। কারণ ভর্তি হতে যে পরিমাণ টাকা লাগে তা দিয়ে তারা ৪/৫ মাস চলতে পারবে।

বস্তির লোকজনের পেশাঃ

এখানের বাসিন্দাদের অধিকাংশ দিন মজুর ও রিকশা চালক। অধিকাংশ বস্তিতে চলে মাদক ব্যবসা। আবার অনেকে অভাব অনটনের তাড়নায় চুরি ছিনতাই পেশায়ও জড়িত। আবার কাজকর্ম না পেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় জড়িত রয়েছে।

জানা যায়, এসব বস্তির পুরুষরা কাজের সন্ধানে বাইরে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মুখে আহার তুলে দেয়ার জন্য বাড়ির শিশুরা বের হয় ভিক্ষা করতে। এসব বস্তির অনেক মা-বাবা অভাবের কষ্ট নিবারণের জন্য শিশুদের ভিক্ষা করতে পাঠায়। কথা হয় শাসনগাছা বাস স্ট্যান্ডে ৮ বছরের শিশু ভিক্ষুক সুমনের সঙ্গে। সে শাসনগাছা রেলষ্টেশনের বস্তিতে থাকে । সে বাস স্ট্যান্ডে ভিক্ষা করছে। সব সময় ভিক্ষা করে না। যখন কোনো কাজ পায় না তখনই ভিক্ষা করে বলে সে জানায়। সে জানায়, তার মত বস্তির অনেক শিশু ভিক্ষা করছে। তার পড়ালেখা করার ইচ্ছা ছিল। অভাবের তাড়নায় তার ইচ্ছে পূরণ হয়নি।

বস্তিগুলোতে মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ছেঃ

শহরের মাদক প্রবণ বস্তিগুলো হচ্ছে শাসনগাছা, মফিজাবাদ কলোনী, থিরাপুকুর পাড় ও সুজানগর। মাদক প্রবণতার কারণে এসব বস্তির শিশুগুলোও মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। ঘুম থেকে উঠেই তারা ফেনসিডিলের বোতলের টুংটাং শব্দ শুনতে পায়। শাসনগাছা বস্তির জয়নাল হোসেন বলেন, এ নোংরা পরিবেশ থেকে আমাদের মুক্তির পথ দেখছি না। এ পরিবেশে সন্তানদের বড় করতে হবে, এটাই আমাদের নিয়তি। শাসনগাছা বস্তির যুবক হাছান বলেন, ভাই কিছু লোক এ বস্তিতে মাদক ব্যবসা করছে। আবার এখানকার কিছু লোককে স্থানীয় এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা করতে বাধ্য করেছে। যার কারণে আস্তে আস্তে এখানে মাদক ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। এখানকার ছোট ছোট শিশুরাও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।

কিশোর অপরাধির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছেঃ

কুমিল্লা মহানগরের শাসনগাছা , মফিজাবাদ কলোনি, ধর্মপুরের বস্তিগুলোতে কিশোর অপরাধির সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । অভাবের তাড়নায়, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশুরা চুরি-ছিনতাইয়ের পথ বেছে নিচ্ছে। বর্তমানে এসব বস্তিগুলো খুবই ঝুকিঁপূর্ণ। সন্ধ্যার পর থেকে এসব বস্তির কিশোররা অপরাধে নেমে যায়।

অপরাধিদের আশ্রয়স্থল বস্তিগুলোঃ

বড় বড় অপরাধিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে এসব বস্তিগুলো চিহিৃত। বড় বড় অপরাধিরা অপরাধ কর্ম করে বস্তিবাসিদের ভয় দেখিয়ে কিংবা কিছু আর্থিক সহায়তা দিয়ে এখানে গা ঢাকা দিয়ে থাকে। এসব বস্তির মধ্যে অন্যতম হল শাসনগাছা বস্তি ও মফিজাবাদ কলোনি।

বস্তির লোকরা স্থানীয় পাতি নেতাদের হাতে জিম্মিঃ
কিছু বস্তির বাসিন্দারা অন্য জেলার লোক হওয়ায় তারা জিম্মি থাকে স্থানীয় পাতি নেতাদের হাতে। তাদের ছোট খাট সমস্যায় নেতাদের কাছে নাকে খত দিতে হয়। মিছিল মিটিংয়ে তারা কম পয়সা কিংবা বাধ্য হয়ে যোগ দেয়।

প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে উঠছে ১১ সহস্রাধিক শিশুঃ

কুমিল্লা মহানগরের ৩৭টি বস্তির প্রায় ১১ হাজার শিশু প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে উঠছে। তাদের শতকরা ৯০ ভাগ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেনা। তাদের জন্য নেই কোন খেলাধুলার ব্যবস্থা। তারা প্রয়োজনমত খাবার পাচ্ছেনা। পাচ্ছেনা স্বাস্থ্য সেবা। নেই কোন ভালো টয়লেট ব্যবস্থা। তারা ঘুম থেকে উঠেই ঝগড়া-বিবাদ দেখছে। নোংরা-আর্বজনা সর্বদা তাদের ঘিরে রাখছে। তারা আপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠছে শ্রমিক কিংবা দিন মজুর হয়ে। সচেতনদের মতে এখনই তাদের শিক্ষার আলোর পথ দেখানো না গেলে সৃষ্টি হবে সমাজের ১১ হাজার বোঝা।

ইউপিপিআরপি কুমিল্লার টাউন ম্যানেজার ইন্দু ভুষণ রায় জানান, আমরা নিš§ আয়ের বস্তিবাসীদের জীবন মান উন্নয়নে বিভিন্ন কমসূচি পরিচালনা করছি। তার মধ্যে উলেখযোগ্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও সচেতনতা বৃদ্ধি।

২৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৮৭ জন কর্মসংস্থানে যোগ দিয়েছে। টিউবয়েল, টয়লেট ছাড়া বস্তির ফুটপাত পাকাকরণের কাজ করছি আমরা। তবে সূত্রমতে, তাদের কাজ অনেকটা দায়সারা ধরণের। ফলে তা বস্তিবাসির কোন উপকারে আসছেনা।

কুমিল্লার ২৭টি বেদে ভাসমান পল্লীঃ

ঢাকা-চট্রগাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে রাস্তার পাশে রয়েছে ২৭টি বেদে ভাসমান পল্লী। যারা ছিন্নমূল হিসেবে পরিচিত। এগুলোর মধ্যে চান্দিনার হাড়িখোলা মাজারসংলগ্ন ব্রিকফিল্ডের সাথে রয়েছে একটি ভাসমান বেদে পল্লী, দাউদকান্দি সদরে সুন্দরপুর ও ইলিয়টগঞ্জ বাজারের উত্তর পাশে রয়েছে দুটি বেদে পল্লী, বরুড়া, লাকসাম, সদর দক্ষিণ, পদুয়ারবাজার রেলক্রসিংয়ের উত্তর পাশে রয়েছে বেদে সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস ও চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজারেও রয়েছে কয়েকটি বেদে পল্লী। যেমন, সদর দক্ষিণের রামপুর এলাকার রাস্তার পাশে তাবু টানিয়ে বসবাস করছে ১৪টি মুসলিম পরিবার । এসব পরিবারে ৭ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩১ জন। রামপুর এলাকার এই ভাসমান পল্লীতে বসবাস করছে ৬৮ জন নারী-পুরুষ ও শিশু। যারা যাযাবর হিসেবে পরিচিত। তাদের শিশুরা স্কুলে যায়না। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের সন্তানদের ভর্তি করাতে চায়না। কারণ তাদের কোন অর্থ নেই। তাদের কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই। তাদের কোন পরিচয় নেই। তারা ভাসমান। সরেজমিনে রামপুর এলাকার রাস্তার পাশের ওই মুসলিম পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নেই কোন টয়লেট ব্যবস্থা, নেই পানির ব্যবস্থা। ভিক্ষা হল তাদের পেশা । সেখানে কথা হয় কয়েকজনের সাথে। তারা জানাল, তাদের করুণ জীবনযাপনের কথা। রহিম বাদশা,বয়স তার ৫৬। তার ৪ সন্তান। তার সন্তান সুজন (৭), ফারুক (৫), নীলু (৪) । তাদের কেউই স্কুলে যায়না। রহিম তার সন্তানদের ভর্তি করানোর জন্য গিয়েছিল সদর দক্ষিণের একটি স্কুলে। স্কুল কর্তৃপক্ষ তার সন্তানদের ভর্তি করায়নি দুটি কারণে। আর্থিক সংকটের পাশাপাশি স্থায়ী কোন পরিচয় নেই। রহিম জানাল, তার সন্তানরা অসুস্থ, পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তারা কোন জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারেনা। কারণ কোন রাস্তার পাশে তাবু টানিয়ে এক থেকে দেড় মাস থাকার পর দেখা যায়, স্থানীয়রা তাদের উঠিয়ে দেয়। পরে নতুন আবাসের খোজে বের হয়ে যায় তারা। নতুন আবাস না পাওয়া পর্যন্ত তারা ফুটপাতে রাত্রিযাপন করে।

মোঃ করিম (৪৩) একজন ফেরিওয়ালা। প্রতিদিন ৭০/৮০ টাকা উপার্জন করে। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। তার ৩ সন্তানও স্কুলে যায়না। কারন তারা ভাসমান। মোমেনা বেগম, বয়স ৩২। তার একটি বাচ্ছা বয়স ৯ মাস। বাচ্ছাটিকে টিকা দেয়া হয়নি। কারন সে জানেনা, কোথায় টিকা দেয়া হয়।

এখানকার কারো সন্তানই স্কুলে যায়না। তারা দুবেলা খাবারও পায়না। তাদের সন্তানরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তারা রাস্তার পাশের পুকুরের ময়লা পানি খায়। এভাবে চলছে তাদের জীবন।

চান্দিনার হাড়িখোলা মাজারসংলগ্ন ব্রিকফিল্ডের পাশে বসবাস করছে বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন। এখানে রয়েছে ৫০টি বেদে পরিবার। রাস্তার পাশে তাবু টানিয়ে বসবাস করছে তারা । এসব পরিবারে ৭ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৬৮ জন। তাদের শিশুরা স্কুলে যায়না। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের সন্তানদের ভর্তি করাতে চায়না। তাদের কোন পরিচয় নেই। সেখানে নেই কোন টয়লেট ব্যবস্থা, নেই পানির ব্যবস্থা। ভিক্ষা হল তাদের পেশা । তাদের শিশু বাচ্ছাগুলোকেও টিকা দেয়া হয়নি। কারন তারা জানেনা, কোথায় টিকা দেয়া হয়। তাদের সন্তানরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তারা রাস্তার পাশের পুকুরের ময়লা পানি খায়। এভাবেই চলছে কুমিল্লা মহাসড়কের পাশে বসবাসরত ছিন্নমূল বেদেদের জীবন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply