ডেনমার্ক’এ জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালিত

কাওসার মাহমুদ (কোপেনহাগেন, রবিবার, ৯ মাঘ ১৪১৯, ২২ জানুয়ারী ২০১২) :

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার জাতীয়তাবাদী দল, ডেনমার্ক শাখা এক আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। প্রথমে কোরান তেলওয়াত পাঠ করেন মোহাম্মদ ওয়াজিউল্লাহ, এরপর মিলাদ মাহফিল এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। অতপর যথারীতি জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মাধ্যমে রাত সাড়ে এগারটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।

স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত হলেও পরে তিনি বাংলাদেশের একজন বরেণ্য ও সফল রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন বলে মন্তব্য করেছেন আলোচকবৃন্দ।

আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উত্পাদনের রাজনীতি শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নামে নতুন রাজনৈতিক দর্শন উপস্থাপন করেন। তাঁর প্রস্তাবিত ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উত্পাদনের রাজনীতি বেগমান হয়। ১৯৭১ সালে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা যেমন এদেশের সংগ্রামী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল, তেমনি ১৯৭৫ সালে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে, তখন সিপাহি-জনতার যে অভ্যুত্থান হয়—তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হন। তিনি একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা রেখে অন্য সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল, হরণ করা হয়েছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাক-স্বাধীনতা। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বাক-স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন।

তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৭টি দেশকে নিয়ে ‘সার্ক’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সার্কের নানামুখী কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। ওআইসিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সংহতি জোরদার করার জন্য তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এছাড়াও পররাষ্ট্রনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন করে জিয়াউর রহমান চীনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক ও সহযোগিতা শুরু করেন।

ডেনমার্ক বিএনপির সভাপতি গাজী মনির আহমেদ বর্তমান আওয়ামী লীগ আবারো একদলীয় নীতি গ্রহন করে দেশে খুন, গুম এবং হত্যার রাজনীতি করছে, বিরোধী দলকে তার গনতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে তার ভাষণে তিনি বলেন, আজকে সরকার নতুনভাবে রক্ষী বাহিনী তৈরি করার নামে সেনা-ক্যুর নাটক সাজিয়েছে। তিনি শেখ হাসিনাকে হুশিয়ার করে বলেন সেনা-ক্যু, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের জন্য একদিন তাকে কাঠগড়ায় দাড়াইতে হবে।

দেশপ্রেমিক জিয়া ছিলেন আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক আপসহীন সৈনিক উল্লেখ করে সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক শহীদ জিয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশবাসীকে এদেশীয় এজেন্টদের তৈরি নীল নকশার যড়যন্ত্রকে পরাজিত করতে হবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহসভাপতি শামসুল আলুম, সহসভাপতি শাহনেওয়াজ ইকবাল, বেলায়েত হোসেন, নাভিদ আলম, জাকির, চৌধুরী মাহবুব, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শাহজাহান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মঈন, যুব বিষয়ক সম্পাদক সুলেমান তালুকদার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, সোহেল আহমেদ এবং কৃষিবিদ বদিউজ্জামান শেখ মামুন, ফোরকান, ওয়ালিউল গালিব, জিয়া হাসান, আবুবকর, বাবুল প্রমুখ।

Check Also

রিয়াদে জ্যাবের ‘অমর একুশে’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ষ্টাফ রির্পোটার :– “অমর একুশের চেতনায় গন মানুষের মনে জেগে উঠুক উজ্জলতা উৎকৃষ্টতা” শীর্ষক আলোচনা ...

Leave a Reply