কুমিল্লার রমজান মিয়াসহ ৫ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বাঁচাতে রক্তঋণ

জামাল উদ্দিন স্বপন:
কুয়েতে ৩ হত্যাকান্ডে ৫ বাংলাদেশীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করার ঘটনা নিয়ে পুরো দেশ জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহত পরিবারের লোকদের কাছে রক্ত ঋণ ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে রক্তঋণ নিয়ে নিহত পরিবারের নিকট ক্ষমা চাওয়ার জন্য ইতিমধ্যে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক সহ মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ইউএইতে দুই বাংলাদেশীর শিরেেñদ কার্যকর হওয়ার যে খবর প্রচারিত হয়েছে তা সঠিক নয়। এদিন রায় কার্যকর হওয়ার ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ শুনানিতে খুনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর সাথে সমঝোতায় পৌঁছার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হবে। একইভাবে সময় প্রার্থনা করা হবে কুয়েত সরকারের কাছে। দু’টি ক্ষেত্রেই তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দোষী সাব্যস্ত হয়ে আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আদালতে করা আপিল খারিজ হয়েছে। এখন খুনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের ক্ষমা করলেই কেবল তারা প্রাণে রক্ষা পাবেন। সরকার এজন্য প্রবাসীকল্যাণ তহবিল থেকে রক্তঋণের অর্থ পরিশোধ করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়-২০১১ সালের ২ মে ইউএই’র দুবাইয়ের রাস আল খাইমায় কর্মরত অবস্থায় মোহাম্মদ আইয়ুব (২৮) ও মোহাম্মদ তৈয়ব (২৫) নামে দুই বাংলাদেশী নিহত হন। তারা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের মোহাম্মদ শফিকের ছেলে। দুই ভাই হত্যার ঘটনায় ইউএইতে বসবাসরত চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার দাইয়াপাড়াার হারুনর রশিদকে অভিযুক্ত করা হয়। অন্য দিকে ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর দুবাইতে ঘুমন্ত অবস্থায় মোহাম্মদ ইউসুফকে (২৬) কেটে তিন টুকরো করে হত্যা করা হয়। নিহত ব্যক্তি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় একই উপজেলার নানুপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়। উভয় ঘটনার পরপরই ইউএই পুলিশ দোষীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ইউএই’র আদালত তাদের শিরñেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। অন্য দিকে ২০১০ সালের অক্টোবরে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার পূর্ব বান্দাইল গ্রামের মোহিদুর কুয়েতে খুন হন। এ ঘটনায় মোহিদুরের কুয়েত প্রবাসী স্ত্রী আনোয়ার বেগম মামলা করেন। কুয়েত পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে তিন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর গ্রামের রমজান মিয়া (২০),মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের দুই সহোদর ইকবাল হোসেন (২৬) ও হৃদয় (২৫)। কুয়েতের আদালত অভিযুক্তদের গত বছর সেপ্টেম্বরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক চিঠি পেয়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি চিঠি প্রেরণ এবং এ বিষয়ে সমঝোতার ব্যবস্থা করবেন বলে কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় জানান।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়-এ ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক গত বুধবার একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করলেও তা সফল হয়নি। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের ক্ষমা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে বৈঠক থেকে এ জন্য পরিবারের সদস্যদের সাথে সমঝোতা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এলাকার চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানান,এক মিসরীয় নাগরিক হত্যার জন্য গত অক্টোবরে সৌদি আরবে আট বাংলাদেশীর শিরñেদ কার্যকর করা হয়েছিল। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার রক্তঋণ নিয়ে ক্ষমা করতে রাজি হয়নি। গত ডিসেম্বরে এক পাকিস্তানি নাগরিককে হত্যার জন্য এক বাংলাদেশীর শিরñেদের আদেশ দেন সৌদি আদালত। পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিহতের পরিবারকে রক্তঋণ নিতে রাজি করাতে পারায় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাণে রক্ষা পান। এক্ষেত্রে সৌদি সরকার তাদের বিশেষ তহবিল থেকে রক্তঋণ পরিশোধ করেছিল।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply