সরাইলে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা পারভীন যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় নারী নির্যাতন মামলা করে বিপাকে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নানা নাটকীয়তার পর মামলা রুজু হলেও ৪ দিনেও পুলিশ অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেনি। এদিকে মামলা তুলে নিতে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে কিছু প্রভাবশালী লোক। অপরদিকে যুবলীগ নেতা জাকিরকে রক্ষা করতে ক্ষমতাসীন দলের ক’জন নেতা উঠে পড়ে লেগেছে। এ ঘটনায় ওই নারী জনপ্রতিনিধি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা পরিষদে আসা-যাওয়ার পথে যুবলীগ নেতা জাকির বিভিন্ন সময় আমাকে উত্যক্ত করে। আমি লাজ-লজ্জার ভয়ে নীরব থাকি। তাছাড়া জাকির উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন ঠাকুরের ভাতিজি জামাই। গত ২২ জানুয়ারী দুপুরে উপজেলা পরিষদের নিজ অফিস কক্ষে বসে থাকা অবস্থায় দু’জন ইউপি জনপ্রতিনিধির সামনে জাকির আমাকে অশ্লীল কথাবার্তায় ও নানা অঙ্গ-ভঙ্গিতে যৌন হয়রানি করে। এসময় আমি প্রতিবাদ করায় সে আমাকে লাঞ্ছিত করে। তাৎক্ষনিক বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি কোন গুরুত্বই দেননি। পরে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করি। ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমার দায়ের করা অভিযোগ আমলে নিতে সরাইল থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন নানা তালবাহানা শুরু করেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওসি সহ ক্ষমতাসীন দলের ক’জন নেতা নানা ফন্দি করেন। অসহায় হয়ে আমি এ ঘটনাটি জেলা প্রশাসক সহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানালে তড়িঘড়ি করে মামলা রুজু হয়।

বর্তমানে আমি মামলা করে বিপাকে পড়েছি। মামলা তুলে নিতে নিত্যদিন আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। নইলে আমি সহ আমার পরিবারের অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হবে। অভিযুক্ত বখাটে জাকির প্রকাশ্যে তার দলবল নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। থানার ওসিকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেন না। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কারণ যুবলীগ নেতা জাকির খুনের মামলার আসামি। সেই মামলাটি বর্তমানে সি আই ডি পুলিশ তদন্ত করছেন।

এ ব্যাপারে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদ বলেন, নারী নির্যাতন দমন আইনে রুজু করা মামলাটির তদন্ত চলছে। তবে আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply