শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ

গ্রেপ্তারের ভয়ে দেশে না এলে সংসদ সদস্য হারাতে পারেন সেই কায়কোবাদ

মোঃ শরিফুল আলম চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে :

শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ
একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক আসামী বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপি তার সংসদ সদস্য পদ হারাতে পারেন। সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়ে তাকে বিএনপি’র সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হবে।

জানা গেছে, শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন আছে। যদি তিনি গ্রেপ্তার আশংকায় দেশে না আসেন এবং আগামী ২৫ জানুয়ারী থেকে শুরু হওয়া সংসদের ১২তম অধিবেশনে যোগ দিতে না পারেন, তবে তার সদস্য পদ বিলুপ্তির সম্ভাবনা আরও বেশ জোড়ালো হয়ে উঠবে।

বিএনপি’র সংসদীয় দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র ভোরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সূত্র জানায়, সম্প্রতী সংসদীয় দলের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের কয়েকজন সংসদ সদস্য এ বিষয়ে একাধিকবার বৈঠক করে আলোচনাও করেছেন। অনির্ধারিত এক বৈঠকে বিরোধী দলীয় চিফহুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুক, এবি এম আশরাফ উদ্দিন মিজান ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু ওই বিষয়ে কায়কোবাদকে চিঠি দেওয়ার ব্যাপারে আলোচানা করেছেন। সূত্র এও জানায়, বিএনপি’র সংসদ সদস্যরা কে কতদিন সংসদে অনুপস্থিত এরই মধ্যে পর্যলোচনা শেষ করে বিরোধী দলীয় চিফহুইপের দপ্তর একটি চূড়ান্ত হাজিরা তালিকা তৈরী করেছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে নির্বাচিত কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ টানা ৫৩ কার্য দিবস সংসদে অনুপস্থিত রয়েছেন। একই সমীকরণ বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তিনিও অনুপস্থিত রয়েছেন ৫৩ দিন। আসন্ন অধিবেশন ৩০ কার্য দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে আর তাতে যোগ না দিলেও বিরোধী দলের শুধু কায়কোবাদই নয়, এরকম অনেক সংসদ সদস্যই একারণে তাদের পদ হারাবেন না। তবে যদি অধিবেশন আরও সাত কার্যদিবস বেশী চলে এবং সেই অধিবেশনে তিনি বা তারা কোন কারণে যোগ না দেন তাহলে সদস্য পদ হারাতে পারেন। সংসদ সচিবালয় সূত্র আরও জানায়, সংসদ পদ রক্ষার জন্য হলেও সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিতে হবে কায়কোবাদ সহ তার সমর্থিত প্রধান বিরোধী দল বিএনপি কে। কারণ, এ অধিবেশন দুই মাস চলার সম্ভাবনায় কায়কোবাদ সহ বিরোধী দলের অনেক সদস্যেরই টানা অনুপস্থিতি ৯০দিনে পেরিয়ো যাওয়ার আশংকা রয়েছে। বছর শুরুর প্রথা অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ভাষণ দেবেন। এ ভাষনের উপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হবে বিধায় অধিবেশনটিও দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। এবারও সংসদের এ অধিবেশনটি দুই মাসের বেশী সময় চলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সদস্যপদ রক্ষার ঝুঁকি এড়াতে শুধু একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামী কায়কোবাদ কে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা মাথায় নিয়েই নয়, স্বয়ং বিএনপি কেও এ অধিবেশনে ফিরতে হচ্ছে কেবলমাত্র তাদের সদস্যপদ টিকিয়ে রাখার জন্য। কারণ, ইতোমধ্যে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ও এমপি কায়কোবাদ সহ একাধিক সংসদ সদস্যের টানা অনুপস্থিতি ৫৩দিন পার হয়ে গেছে। ফলে এবার শীতকালীন অধিবেশন ৩৭ কার্য দিবস চললেই সদস্যপদ হারানোর মতো ৯০ দিনের টানা অনুপস্থিতির রেকর্ড কায়কোবাদ সহ তাদের হয়ে যাবে। সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পীকারের অনুমতি ছাড়া কোন সদস্য টানা ৯০ দিন সংসদে অনুপস্থিত থাকলে তার সদস্যপদ স্বয়ংক্রীয়ভাবে শূন্য হয়ে যায়। এর আগে টানা ৭৪ দিন সংসদ বর্জনের পর গত বছর ১৫ মার্চ কায়কোবাদ এক দিনে মাত্র পাঁচ মিনিট ও বিএনপি দুই দিনের জন্য সংসদে উপস্থিত ছিল। ২৪ মার্চের পর থেকেই আবার তাদের রীতিমতো সংসদ বর্জন শুরু হয়। ওই সময়েও সদস্যপদ রক্ষাই কায়কোবাদ ও তার দল বিএনপি সংসদে ফেরার মূল কারণ ছিল। নবম জাতীয় সংসদের গত এগারটি অধিবেশনে ২৫৪ কার্য দিবসের মধ্যে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া মাত্র ৬দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন। আর বিরোধী দলের সংসদদের গড় উপস্থিতি প্রায় ৪৫ দিন। ১১টি অধিবেশনের মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয়. ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, দশম ও একাদশ অধিবেশনে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল বিরোধী দল। পঞ্চম অধিবেশনে তারা যোগ দেয় মাত্র একদিন। প্রধান বিরোধী দল বিহীন ছিল ৭টি অধিবেশনই। বর্তমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫৪ কার্যদিবসের মধ্যে ১৮৯ দিন সংসদে উপস্থিত ছিলেন আর বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া একই সময়ে সংসদে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৬দিন। এই সংসদে সবচেয়ে কম উপস্থিতির রেকর্ড বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার। তার পরই রয়েছেন একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার আসামী কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সাংসদ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি সংসদে উপস্থিত হয়েছেন মাত্র ১০ দিন। বিগত অষ্টম সংসদে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকা কালে ৩৭৩ কার্যদিবসের মধ্যে ১৯৫ কার্যদিবস উপস্থিত ছিলেন। আর ওই সংসদে একই সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন ৪৫ দিন। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা কি আছেন মুরাদনগরের এমপি কায়কোবাদের ভাগ্যে তা বলা এখনও অনিশ্চিত কারণ, তিনি দেশে এলে গ্রেপ্তার হবেন এটা যেমন নিশ্চিত তেমনিই দেশে না এলে তার সংসদ সদস্যপদ টিকিয়ে রাখা অনেকটাই অনিশ্চিত।

Check Also

করিমপুর মাদরাসায় বোখারী শরীফের খতম ও দোয়া

মো. হাবিবুর রহমান :– কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার করিমপুর জামিয়া দারুল উলূম মুহিউস্ সুন্নাহ মাদরাসায় ১৪৪০ ...

Leave a Reply