সরাইলে বাউল মেলায় পুলিশের সহায়তায় রাতভর জুয়া

আরিফুল ইসলাম সুমন ॥

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বাউল মেলায় পুলিশের সহায়তায় রাতভর জুয়ার আসর চলে। রাতেই বিষয়টি মুঠো ফোনে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন সহ থানার কর্তাব্যক্তিদের জানিয়েও কোনো সুফল পায়নি স্থানীয় লোকজন। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিন জানা গেছে, শুক্রবার উপজেলার কালীকচ্ছ বাউল মেলায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সরাইল থানার এ এস আই মো. শাহজাহান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। সন্ধ্যায় জুয়াড়িরা মেলায় কর্তব্যরত পুলিশের সাথে চুক্তির পর পাশেই প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসায়। একপর্যায়ে বিষয়টি উপজেলার বিভিন্ন মহলে জানাজানি হয়। রাত ৯টার দিকে সাংবাদিকরা জুয়ার আসরের ছবি তুলতে গেলে জুয়া পরিচালনাকারী বাবুল ও হারুন মুসকি হেসে বলেন-‘স্যার আপনারা ছবি তুলে কি করবেন ! দেখতাছেননা মেলায় পুলিশ আছে। আমরা (জুয়াড়িরা) তাদের সাথে কথা বলেই জুয়ার আসর বসিয়েছি।’ মেলার উদ্যোক্তা ও কমিটির প্রধান এবং বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের বাউল শিল্পী দুর্গাচরণ দাস আক্ষেপ করে বলেন, আমি দীর্ঘ এক যুগ যাবত এ বাউল মেলা করে আসছি। এখানে কোনো অসামাজিক কাজ যেন না হয়, সেই জন্য পুলিশের সাহায্য নিয়েছি। এখন পুলিশ রেখেই জুয়া চলছে। বিষয়টিতে খুব দুঃখ পেলাম। মেলায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) শওকত আলী বলেন, জুয়া খেলা বন্ধ করার জন্য দারোগা শাহজাহান মিয়াকে আমি বলেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। উল্টো তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পরে আমি বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তাকে জানাই। মেলায় আগত কালীকচ্ছ ইউপি’র মেম্বার মো. আব্দুল লতিফ বলেন, এখানে এসে অবাক হয়েছি। একদিকে প্রকাশ্যে চলছে জুয়া। অন্যদিকে পুলিশ চেয়ারে বসে শিল্পীদের গান উপভোগ করছে, আর ফুর্তিতে মেতে উঠেছে। জুয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মেলায় কর্তব্যরত দারোগা শাহজাহান বলেন, বাউল মেলার সীমানার বাইরে কি হচ্ছে তা আমার দেখার বিষয় নয়। এলাকার লোকজন পারলে জুয়া বন্ধ করুক। সরাইল থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা (এস আই) কামরুজ্জামান বলেন, মেলায় জুয়ার আসরের খবর পেয়ে ওইখানে কর্তব্যরত দারোগা শাহজাহানকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. তকদীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাউল মেলায় পুলিশের সহায়তায় জুয়া খেলার বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও চৌদিকার আমাকে জানিয়েছেন। পরে ব্যবস্থা নিতে থানার ওসিকে অনুরোধ করেছি। তিনি আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। রাতভর জুয়া খেলা চলে।

এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহে দুল ইসলাম বলেন, বাউল মেলায় পুলিশের উপস্থিতিতে জুয়া খেলার বিষয়টি আমি রাতেই খবর পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলাপ করব।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply