সরাইলে নদীতে বাঁধ দিয়ে মৎস্য নিধন : ফসলি জমিতে সেচ সঙ্কট

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পুটিয়া নদীতে বাঁধ দিয়ে নির্বিচারে মৎস্য নিধন করছে প্রভাবশালীরা। এতে নদীর পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টির ফলে হাওর এলাকায় শত শত একর ফসলি জমিতে সেচ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সরেজমিন জানা যায়, সরাইল উপজেলার উত্তরাঞ্চলে বিশাল হাওরের বুক ছিঁেড় বয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী তিতাসের শাখা পুটিয়া নদী। হাওর এলাকার প্রায় ৩০০ একর ফসলি জমির একমাত্র সেচ ব্যবস্থা এ নদী। কিন্তু নদীতে বাঁধ দিয়ে একাধিক সেলু মেশিনে পানি সেচ করে মাছ নিধন করছে কিছু প্রভাবশালী লোকেরা। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, হাওর এলাকার জলমহাল ইজারাদার পরিমল চন্দ্র দাস সহ কয়েকজন গত দুই বছর ধরে এ নদীতে বাঁধ দিয়ে নির্বিচারে মৎস্য নিধন করছেন। ফলে নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বোরো জমিতে সেচ সঙ্কট দেখা দেয়।

স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে বিগত ২০১০ সালের শেষ দিকে স্থানীয় কৃষক ও মৎসজীবিরা উপজেলা প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তৎকালীন সরাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনিরুজ্জামান ওই বছরের ১৪ নভেম্বর তার দফতরের ১০৩৯নং স্মারকে ইজারাদার পরিমল চন্দ্র দাসকে একটি নোটিশ দেন। নোটিশে উল্লেখ রয়েছে, সরকারি খোলা নদীর ওপর অবৈধভাবে নির্মিত বাঁধ ১ দিনের মধ্যে সরিয়ে নিতে। কিন্তু প্রভাবশালী লোকেরা নদীর বাঁধ না সরিয়ে উপরন্তু নদীর পানি সেচ দিয়ে মৎস্য নিধন করছে। এলাকার একাধিক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইজারাদাররা ক্ষমতাসীন দলের ক’জন প্রভাবশালী নেতার মদদে নদীর পানি সেচ করছে। নেতাদের তদবিরে প্রশাসনের লোকেরা নীরব রয়েছে। হাওর এলাকার কৃষক অদুদ মিয়া, কামরুল মৌশান, হাবু মিয়া, জজ মিয়া, হামদু মিয়া, মোর্শেদ মৌশান সহ অনেকে জানান, নদীতে পানি প্রবাহ না থাকায় জমিতে পানি সেচ দেয়া যাচ্ছে না। নিরুপায় বেশ’জন কৃষক নিজ উদ্যোগে গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থা করলেও তাতে চাহিদা মাফিক পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে কৃষকেরা চরম দূর্ভোগে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইজারাদার পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, মোড়ল গজারিয়া কুড়ি বিল নামে ওই জলমহালটি আমরা ৩ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। দুই বছর পার হয়ে গেছে। বাঁধ নির্মাণের কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে কোন নদী নেই। হাওরের মাঝখান দিয়ে শাখা নদীর মতো যেটি রয়েছে, এর ভিত্তিতেই সরকার জলমহাল ইজারা দিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহে দুল ইসলাম বলেন, নদীর বাঁধ সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply