সরাইল বিশ্বরোডে চাঁদাবাজি : অতিষ্ঠ পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

আরিফুল ইসলাম সুমন ॥
ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড মোড় এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে পরিবহন শ্রমিক ও এখানকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার শ্রমিক এবং বিশ্বরোড মোড়ের চা-পান দোকানী সহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চিহ্নিত চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না। আর এই চাঁদাবাজির নেপথ্যে রয়েছে এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ রশিদ ও তার বাহিনী। এসব অভিযোগ বিশ্বরোড মোড় এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বরোড এলাকায় রশিদ বাহিনীর লোকেরা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে আসলেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রহস্যজনক কারণে নীরব। এ প্রসঙ্গে বিশ্বরোড হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এস আই নুর হায়দার তালুকদার বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকান থেকে কিছু লোক টাকা-পয়সা নেয়। এ বিষয়টি দেখবেন থানাপুলিশ ও সওজ বিভাগের লোকেরা। পরিবহন থেকে চাঁদা তুলার বিষয়টি আমার জানা নেই।

গতকাল বুধবার বিশ্বরোড মোড় এলাকার পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, একাধিক সিএনজি পাম্প ও ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন অফিস। এছাড়াও মহাসড়কের দু’পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় গড়ে উঠেছে প্রায় তিন শতাধিক দোকান। এসব দোকানের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রশিদ বাহিনীর লোকেরা প্রতিদিন ৫০ থেকে ১৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। এছাড়াও তারা বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করে। এখানকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, চাঁদা না দিলে তারা ব্যবসায়ীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইব্রাহিম, রাজ্জাক, রাজু সহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, দৈনিক চাঁদা দিয়েই এখানে ব্যবসা করতে হয়। টাকা না দিলে চাঁদাবাজরা ব্যবসায়ীদের মারপিট করে। চাঁদা তুলাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি বিশ্বরোড মোড় এলাকায় একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সবকিছ জেনেও অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা নেয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাটিখাতা গ্রামের একাধিক ব্যক্তি ও বিশ্বরোড এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, সামান্য কাঠ ব্যবসায়ী রশিদ চাঁদাবাজি ও চোরাচালান ব্যবসায় জড়িয়ে চার বছরে এখন কোটিপতি। তার বিরুদ্ধে অতীতে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ধর্ষণ সহ একাধিক মামলা হয়। বর্তমানে তার রয়েছে একাধিক ক্যাডার বাহিনী। তারা চাঁদাবাজি, ছিনতাই সহ নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অপরাধ কর্মকান্ডে মদদ দিয়ে যাচ্ছেন কতিপয় স্থানীয় ক’জন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার অপকর্মের প্রবিাদ করার কেউ সাহস করে না। কারণ রশিদ বাহিনীতে সম্প্রতি যোগ দিয়েছে এলাকার কুখ্যাত কয়েকজন ডাকাত। ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে রশিদ মিয়া মুঠো ফোনে জানান, একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply