গোলাম আযমের গ্রেফতারে সক্রিয় হচ্ছে জামায়েতর কার্যক্রম : নিস্প্রভ উত্তরজেলা আওয়ামীলীগ

মোঃ শরিফুল আলম চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকে :
কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় কোন কর্মসূচী পালিত হয়না। নামে মাত্র জেলার মুরাদনগর উপজেলা ছাড়া বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যবর্তন দিবসের কোন কর্মসূচী অন্য কোন উপজেলায় পালিত হয়নি। স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচারের দাবিতে সারাদেশে গত ১১ই জানুয়ারী মিছিল সমাবেশ হলেও কুমিল্লা উত্তর জেলার মুরাদনগর উপজেলা ব্যতীত এই কর্মসূচী তেমন কোথাও পালিত হয়নি। এ ব্যাপারে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার কে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার কোন স্বদোত্তর দিতে পারেন নি। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আউয়াল হোসেনের নেতৃত্বের দূর্বলতার কারণেই কুমিল্লা উত্তর জেলার আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক অবস্থা এমন অবস্থা হয়েছে বলে মন্তব্য করলেন দলের প্রবীণ নেতারা।

জামায়েত-শিবির প্রায় প্রতিদিনই একমাত্র মুরাদনগর ব্যতীত কুমিল্লা উত্তর জেলার সবকটি উপজেলা সদরে মিছিল করে এবং জেলার প্রতিটি ওয়ার্ড ও মহল্লায়ও ওয়াজ জলসা ও মহিলাদের তাবলিগের নামে সরকার ও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কোন কোন জলসায় আবার আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা অতিথি হিসাবে থাকছেন। তারা যতক্ষণ ওই ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত থাকেন তখন ওই সময় আলোচনা বা ওয়াজ হয় ধর্মীয় বিষয়ে। তারা চলে যাওয়ার পরই বর্তমান সরকার ও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করা হয়। জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সরকার ও মুরাদনগর উপজেলা আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমিটির সভাপতি সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী কাজিয়াতল ফয়েজুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। ওই জলসায় জামায়েত নেতা মীর মহসিন ও আবদুস সোবহান উপস্থিত ছিলেন। কুমিল্লা উত্তর জেলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ, কবরস্থান এমনকি কারও বাড়ির ওয়াজ মাহফিল ও মহিলাদের তাবলীগ মহিলা জামায়াতের আয়োজন করা হচ্ছে। আর এসব জলসা ও মাহফিলের আয়োজক জামায়েত ইসলামী। বিভিন্ন ব্যনারে অতি কৌশলে চলছে এসব। সংখ্যার দিক দিয়ে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে এবারের এসব ধর্মীয় জলসা ও মাহফিলের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতী জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযম গ্রেফতারের পর কুমিল্লা উত্তর জেলার কেবল মাত্র মুরাদনগর ছাড়া বাকি উপজেলার সদরে জামায়াত ও শিবির প্রায় প্রতিনিনই মিছিল করে বন্দী জামায়াত নেতাদের মুক্তি দাবী করে আসছে। গোলাম আযম গ্রেফতার হওয়ার দিনও জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল সমাবেশ করেছে। বেসরকারী স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক, বিভিন্ন ব্যাংক বীমায় কর্মরত কর্মকর্তা এমনকি মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনরাও জামায়াত কর্মীদের সাথে মিছিল করে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃত্বের দ্বন্ধ এবং বেশ কয়েকজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বর্তমান চলমান দ্বন্দের কারণে আগের মতো মুক্তিযোদ্ধারা এখন আর স্বোচ্চার না থাকায় মাঠ পুরো ফাঁকা পেয়েছে জামায়াত-শিবির। এতে গোয়েন্দা বিভাগ ও পুলিশের দূর্বলতাও চোখে পড়ার মতো। গত মাসে কুমিল্লা উত্তর জেলার মুরাদনগর উপজেলা চত্বরে আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তন কমিটির সমাবেশ ছাড়া আর কোন তেমন কর্মসূচী পালিত হয়নি। আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থকরা বলেছেন, জেলা আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার আগেও পরে বেশ সক্রীয় ছিল। এখন নেতাদের গাফিলতি ও অদুর্দশিতার জন্য জামায়েত শিবিরের কর্মীরা মিছিল করার সাহস পাচ্ছে। জেলা ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি দ্বন্দের বেড়াজালে আবদ্ধ হওয়ায় ছাত্রলীগের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে। যুবলীগের দ্বন্দ লেগে আছে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার আগ থেকেই। দুগ্র“পের মধ্যে কয়েক দফা মারামারি হয়েছে। আর এসব হয়েছে টেন্ডার ও চাঁদাবাজি কে কেন্দ্র করে। ছাত্রলীগে এখন কোন্দল তেমন স্পস্ট না হলেও সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির। জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার এর বাড়ি কুমিল্লা উত্তর জেলার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুরে তিনি বেশিরভাগ সময়ই মুরাদনগর অবস্থান করায় ওই অঞ্চলে আওয়ামীলীগের কার্যক্রম কিছুটা চাঙ্গা লক্ষ্য করা যায়। একই ভাবে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আউয়াল হোসেন এর বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনায়, তিনি চান্দিনায় থাকেন না তিনি থাকেন ঢাকায়। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ এ বি এম গোলাম মোস্তফাও বেশিরভাগ সময় কুমিল্লার বাহিরে অবস্থান করেন। তার সাথে কুমিল্লা-৫ এর সাংসদ সাবেক আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু কুমিল্লার বাহিরে থাকেন। এক কথায় বলা যায় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগে নেতৃত্বের অনুপস্থিতি জনিত কারণে দলের নেতাকর্মীরা অনেকটাই হতাশ। এছাড়াও কিছু নেতার নানা অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে পড়ছেন সমর্থকরা। কুমিল্লা উত্তর জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে মাদকদ্রব্যের নাশকতা পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পুলিশের প্রধান পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন মাদকদ্রব্যের ব্যাপকতার কথা। এব্যাপারে তিনি তার পুলিশ বাহিনীর সীমাবদ্ধতা ও দূর্বলতার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে জেলা উপজেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন মধ্যম সারীর নেতা। কুমিল্লা উত্তর জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় জাহাঙ্গীর আলম সরকারের উপস্থিতিতে কুমিল্লার মাদকদ্রব্যের ব্যপকতা নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর প্রায় দুমাস অতিবাহিত হয়েছে পরিস্থিতির কোন উন্নয়ন হয়নি। কুমিল্লা উত্তর জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় শতাধিক পয়েন্টে নিয়মিত মদ, ফেন্সিডিল ও হেরোইন বিকিকিনি হয়। আর এসবের সঙ্গে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের হাতে গোনা কিছু নেতাকর্মী ছাড়াও জামায়েত শিবিরের কৌলশধারী নেতারা। পুলিশ নিয়মিত বকরা পেয়েই এসব অপকর্মে মদদ দেয় বলে আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতা ও বঙ্গবন্ধু হত্যামামলার অন্যতম স্বাক্ষী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্পোরাল অবঃ আবদুল মতিন চৌধুরী সহ একাধিক নেতা বলেছেন। জেলা আওয়ামীলীগের অন্য নেতারা দলের সভাপতি ও সেক্রেটারীর দিক নির্দেশনা ছাড়া কিছু করবেননা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। যুবলীগ, কৃষকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ এবং কর্মীদের নেতাদের প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধার অভাব লক্ষণীয়। জামায়েত নেতা মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত মাওলানা জব্বার হোসেন, হাজী গনি সরকার ও খেলাফত মজলিস নেতা একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কুমিল্লার বিভিন্ন অঞ্চলে জলসা মাহফিল ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ওয়াজ বক্তৃতা করছেন এ যাবত নিয়মিত। কুমিল্লা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দূর্বলতা আরও লক্ষনীয়। কুমিল্লা উত্তর জেলার প্রতিটি উপজেলার পুলিশ এখনও জানেনা ওই এলাকায় কতজন যুদ্ধাপরাধী রয়েছে। অতি সম্প্রতী কুমিল্লা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদক সহ কয়েকজন সাংবাদিক কে জিজ্ঞাসা করেন রাজাকারের তথ্য কিভাবে পাওয়া যেতে পারে। কুমিল্লা উত্তর জেলার সবকটি থানা পুলিশ জামায়াত ইসলামীর কিছু চর বা সমর্থক রয়েছে এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন চৌধুরী ও কমান্ডার রোশন আলী। ক্ষমতাসীনরা নৈতিক শক্তি হারিয়ে এখন দিক নির্দেশনায় বেড়াজালে আটকে পড়েছেন এমন মন্তব্য করলেন মহাজোটের শরীক দলের আরও চার নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply