দেবিদ্বারে পোনরা পৌষ মেলায় চলছে চাঁদাবাজী ,লুটপাট, জুয়ার আসর : সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত-১০ গ্রেফতার ২

মোঃ ফখরুল ইসলাম সাগর,দেবিদ্বার(কুমিল্লা)সংবাদদাতা :
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পোনর পৌষ কান্তি মেলায় রবিরার দুপুরে বখাটে সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজী,ও দোকানে লুটপাটের প্রতিাবাদ করলে মেলায় দোকান মালিকদের মারধরে ঘটনায় অন্তত ১০জন আহত হয়েছে। দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এবং ২জনকে আটক করেছে।

স্থানীয়রা জানায়,মেলার প্রথম দিনেই কয়েকজন বখাটে সন্ত্রাসীরা মেলায় খেলনার দোকান, চটপটি দেকান ,হোটেলে খাবার খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাওয়ায় প্রতিবাদ করায় তাদের উপর উল্টো হামলা চালিয়ে অন্তত ১০জনকে আহত করে। এদের মধ্যে আহতরা হলো দেবিদ্বার পৌর এলাকার পোনরা গ্রামের মোঃমনির হোসেন (২০),এরশাাদ (২১), হাাছান মজুমদার(১৮) ও মোঃ হোসেন(২২) আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরতর আহত মাসিকাড়া গ্রামের মোঃ সামসু মিয়ার পুত্র মোঃ আক্তার রহমান (২৪) কে দেবিদ্বার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্রে ভর্তি করা হয়েছে। ওই সন্ত্রাসীরা মেলায় হামলা করার কারনে লোকজন আতংকিত হয়ে লোকজন ভয়ে মেলা ত্যগকরেন। ব্যবসায়ীরা মেলার স্টল গুলোতে বেঁচা কেনা বন্ধ রাখেন। চটপটি দোকানের মালিক কামাল হোসেন,সাংবাদিকদের জানান, ১০/১২জন বখাটে যুবক চটপটি খেয়ে চলে যাওয়ার সময় টাকা চাইলে তাকে অকথ্য ভাসায় গালমন্দ করে দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে।

দেবিদ্বার পৌরসচিব সহিদুল ইসলাম জানায় এবার মেলা চলবে ১৩ই জানুয়ারী থেকে ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১২পর্যন্ত। মেলার ইজারাদার হচ্ছেন হাজী কেফায়েত উল্লাহ ,ইজারাবাবদ ধরা হয়েছে ৪ লক্ষ টাকা,১৫%ভ্যাট ৬০ হাজার টাকা,৫% আয়কর ২০হাজার টাকা। মেলা প্রসঙ্গে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোঃ হারুন-অর রশিদ জানান,ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স দিয়ে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে তবে মেলায় কাউকে চাদাবাজী,সন্ত্রাসী ও জোয়ার আসর বসিয়ে মেলার পরিবেশ নষ্টকরলে তাদের কঠোর বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য এ মেলা চলবে মাস ব্যাপী। উল্লেখ্য এ মেলা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল নয় সুদুর ইরান,পাকিস্থান,পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে অসংখ দর্শনাথী,ব্যবসায়ী ও ক্রেতার ভির জমে উঠে কিন্তু শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পোনরা পৌষ ক্রান্তি মেলা আজ চাঁদাবাজি,সন্ত্রাসী,বখাটে,জুয়ারীদের দখলে এবং মৌলবাদিদের রোষানলে পড়ে প্রায় ধ্বংসের পথে।এই মেলা মূলত কাঠের মেলা হিসাবে পরিচিত। কিন্তু দেড় দশকের নিপীন,নির্যাতন ও অব্যবস্থাপনার কারনে কক্রবাজার,চট্রগ্রাম,নোয়াখালি,সিলেট,বি-বাড়িয়া,সাভার নরসিংদীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ীরা আর এ মেলায় মালামাল নিয়ে বর্তমানে আসছে না। বখাদেদের উৎপাতে মেলায় মহিলাদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। বাংলা বর্ষে এ মেলা অনূষ্ঠিত হয় পৌষ মাসের শেষ দিন ওমাঘ মাসের প্রথম দিন।তবে কাঠের মেলা হলে মাসব্যাপী। অত্র অঞ্চলের সাংস্কৃতির অংশ হিসাবে যুগ যুগ ধরে দেবিদ্বার,ব্রাক্ষ্মণ পাড়া,বুড়িচং, হোমনা,দাউদকান্দি,চান্দিনা,কসবা,নবীনগর উপজেলাধীন হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায় পৌষক্রান্তি মেলার সময় উৎসবে মেতে উঠে। বিভিন্ন এলাকার শিশু,কিশোর যুবক,যুবতী আবাল,বৃদ্ধারাও মেলায় কেনা কাটার জন্য অর্থকড়ি জমাতে থাকে। প্রতি বছর মেলা এলে সার্কাস,চরকি,কুটির শিল্প,মিষ্টান্ন কাচাবাজার, দ্রব্য,কুমারের তৈজস, লোহা,পিতল, এলমুনিয়াম,মেয়েদের কসমেটিক,কেলেন্ডার,বেত শিল্পের দোকানিরা বসে হরেক রকম দ্রব্য নিয়ে। এক প্রান্তে কাঠ ওপারটেক্রের বিভিন্ন আসবাবপত্র সহ নানা আয়োজনে ভরে উঠে মেলা প্রাঙ্গন।

Check Also

নিউইয়র্কের চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকারে দেওয়া খাদ্য পাচ্ছে দেবিদ্বারের ১ হাজার পরিবার

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারনে কর্ম হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে দেশের হাজার হাজার ...

Leave a Reply