সরাইলে ভূমি কর্মকর্তারা সাংবাদিকের জমি লিখে দিলেন অন্যজনের নামে

সরাইল ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি ও সাপ্তাহিক নতুন মাত্রার নির্বাহী সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সুমনের বসতবাড়ির জমি জালজালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের নামে লিখে দিলেন স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তারা। আর এ জালিয়াতির কাজে সহযোগিতা করেছে সরাইল এস আর অফিসের দুর্নীতিবাজ দলিল লিখক এস এম বাবুল খাঁন (সনদ নং-৪৮)। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহল সহ সুশীল সমাজের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা এ জালিয়াতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার কালীকচ্ছ মৌজার ২৯৩৫ দাগের সাড়ে ছয় শতক ভূমির মালিক সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম সুমন ও তার ছোট ভাই মো. সুহাগ মিয়া। তারা এই জমিতে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে প্রায় ২৮ বছর যাবত বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি জেলা শহরের পাইকপাড়ার বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের পুত্র মো. হোসেনকে আদালত কর্তৃক ঘোষিত দু’টি জাল দলিলে মালিক ও জায়গায় দখল স্বত্ববান দেখিয়ে কালীকচ্ছ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. সোহরাব মিয়া কৌশলে ওই জমির ১১ শতক ভূমি নামজারী ও জমা খারিজ খতিয়ান করে দেন। যা মোকদ্দমা নং-৬০৭/২০১১-১২ইং, সৃষ্ট খারিজ খতিয়ান নং-৮৬৫৩। পরে দলিল লিখক বাবুল খাঁন সহ কয়েকজন যোগসাজশ করে মো. হোসেনকে দাতা সাজিয়ে দু’টি দলিলের মাধ্যমে ওই দাগের ১২ শতক ভূমি ২৪ লাখ টাকায় অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়।

সরাইল এস আর অফিস সূত্র জানায়, গত বছরের ১২ ও ১৯ ডিসেম্বর কালীকচ্ছ মৌজার ২৯৩৫ দাগের ভূমির দু’টি সম্পাদিত দলিল রেজিষ্ট্রি হয়। দলিল দু’টিতে সনাক্তকারী হিসেবে লিখক বাবুল খাঁন নিজেই স্বাক্ষর করেন। দলিল নং ৬০৩৮, ৬২৪৫। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিতে তারা দলিল দু’টিতে ভূমির প্রকৃত মূল্য কম দেখান।

এদিকে এ প্রতারণার শিকার সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম সুমন অবৈধ নামজারী ও জমা খারিজ খতিয়ান বাতিল এবং দুর্নীতিবাজ ওই দলিল লিখকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে কালীকচ্ছ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. সোহরাব মিয়া বলেন, কিছু লোকের তদবিরে নাম খারিজ খতিয়ানটি করা হয়েছিল। তারা আমাকে মিথ্যা তথ্য দেয়। এখন অনিয়ম ধরা পড়েছে। তাই খতিয়ানটি বাতিল করা হবে। দলিল লিখক এস এম বাবুল খাঁন বলেন, মো. হোসেনের নামে নামজারি খতিয়ান করেই দলিল দু’টি সম্পাদনের পর রেজিস্ট্রি করা হয়। ১১ শতক নামজারি খারিজ খতিয়ান হলেও ১২ শতক ভূমি কিভাবে দলিল হল ; জবাবে তিনি বলেন, টাকা দিলে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে সবই সম্ভব।

সরাইল উপজেলা দলিল লিখক সমিতির সভাপতি সৈয়দ আলী আবদাল ও সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন জানান, বিষয়টি আমরা শুনে আশ্চর্য হয়েছি। আইন বর্হিভূত এই কর্মকান্ডে এস আর অফিসের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। জড়িতদের শাস্তি হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বক্শি বলেন, নামজারী ও জমা খারিজ ছাড়া দলিল রেজিষ্ট্রি সম্পূর্ণ বে-আইনি। এখানে সব কাজ আইন মাফিক করা হয়। দলিল লিখক বাবুল খাঁন জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ১১ শতকের খারিজ দেখিয়ে দুই দফায় ১২ শতক ভূমি রেজিষ্ট্রি করিয়ে নেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহে দুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খারিজ খতিয়ানটি বাতিল করা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply