অনলাইন বাংলা পত্রিকা ও আমাদের দায়বদ্ধতা

মো. আলী আশরাফ খান :

তথ্যপ্রযুক্তির এমন এক পর্যায়ে মানুষ উপনীত হয়েছে যে, এরপর হয়তো নতুন কিছু আবিস্কার কঠিন হয়ে পড়বে। মানবজাতি নিঃসন্দেহে আধুনিকতার সর্বশীর্ষে অবস্থান করছে। যা মানুষ ভাবেনি তাও এখন মানুষের দোরগোড়ায়। এ নব নব প্রযুক্তি অতি সহজতরভাবে এগিয়ে দিয়েছে মানবযাত্রাকে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকাল কেনো যেনো মনে হয়, এই বুঝি অন্ধকারকে ভেদ করে ঝলমলে আলো আরো আলোর বিচ্ছুরণ ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে। প্রচণ্ড খরতাপে ফেটে চৌচির বিবর্ণ হওয়া মৃত্তিকা সিক্ত হয়ে জন্মাতে শুরু করছে সুশোভিত ছোট ছোট বৃক্ষরাজি। প্রখর রোদ্রের মাঝে দক্ষিণের নির্মল হাওয়ায় সবগুলো প্রাণ সজিবতা পাচ্ছে ফিরে। দৃষ্টিনন্দন সুষমায় আহ! কি আনন্দ বইছেরে সৃষ্টিশীল সব মনে-প্রাণে। এমনি করে আমরা বদলিয়েছি-বদলাবো, পরিবেশ বদলিয়েছে-বদলাবে, বদল হয়েছে-বদলাবে সকলের দৃষ্টিভঙ্গি এমনটিই প্রত্যাশা সকলের।

এসব লেখার অর্থ হয়তো প্রিয় পাঠকদের অনেকেই বুঝে ফেলছেন, আমি সারাবিশ্ব থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা অর্থাৎ বাংলা অনলাইন পত্রিকার কথা বলছি। বলছি দাউদকান্দি থেকে প্রথম প্রকাশিত অনলাইন বাংলা পত্রিকা ‘বিডি নিউজ টু ইউ ডট কম’-এর কথা। বলছি দেশ-বিদেশ থেকে আগামিতে যেসব অনলাইন পত্রিকা প্রকাশিত হবে এসব পত্রিকার কথা। আমরা গৌরবাণ্বিত ও সৌভাগ্যবান যে, যেভাবে একের পর এক অনলাইন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা আমাদের মাঝে আসছে, তা সমাজের যাবতীয় সমস্যা-সমাধানে এক বিরাট ভূমিকা রাখবে এ ভেবে। আমাদের প্রত্যাশা, সংবাদপত্র-অনলাইন পত্রিকার জন্ম হয় যে উদ্দেশ্য ও আদর্শ নিয়ে, তা যেনো শতভাগ ঠিক রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যায় অনলাইন পত্রিকাগুলো। সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্ব থেকে যেভাবে অনলাইন পত্রিকা বের হয়েছে, হচ্ছে, হবে। তা অবশ্যই সাধারণ মানুষের জন্য গর্বের বিষয়, আশা ও আকাক্সক্ষার প্রতিফলনও বটে। তবে আমরা আশা করবো, নিরপেক্ষ ভূমিকা ও নিঃস্বার্থ হয়ে সমাজের কল্যাণই যেনো হয় এসব অনলাইন পত্রিকার মূল কাজ। সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়গুলো যেন ওঠে আসে পাতায় পাতায়। আর তবেই স্বার্থক হবে পত্রিকা সংশ্লিষ্টরা, লাভবান হবে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষ, সর্বোপরি সকল মানুষ ফিরে পাবে তাদের ন্যায্য অধিকার।

আমরা এখন একটু পিছনে ফিরে যাবো। এমন একসময় গেছে, একটি লেখা-সংবাদ ছাপাতে বহু জনের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। পত্রিকা সংশ্লিষ্টদের অনেক অনুনয়-বিনয় করেও অনেক সময় লেখা-সংবাদ ছাপানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে মফস্বলের লেখক-সাংবাদিক হলে যে কতরকম মন্তব্য শুনতে হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কিন্ত এখন আর সেই দিন নেই। আমরা আজ অনেকটা পথ এগিয়ে এসেছি। এক যুগেরও বেশি সময়ধরে লেখালেখি করছি পত্র-পত্রিকায়। দেশের জাতীয় দৈনিকগুলোতে আমাদের লেখা ছাপা হয়েছে-হচ্ছে অহরহ। আমাদের নিজস্ব দৈনিক ও সাপ্তাহিক অনলাইন পত্রিকাও রয়েছে কয়েকটি। লেখা-সংবাদ ছাপার ব্যাপারে কোনো চিন্তা নেই। লেখা-সংবাদ যদি হয় প্রাসঙ্গিক, তথ্য-তত্ত্ব সমৃদ্ধ ও বস্তুনিষ্ঠ তাহলে তা ছাপা হবে হবে-ই। এখন আমরা চাই, লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় এগিয়ে আসবে নতুনরা। সুন্দর সুন্দর বিষয়ে লিখবে-প্রকৃত সংবাদ সংগ্রহ করবে এবং সমাজের সঙ্গতি-অসঙ্গতি তুলে ধরবে পত্রিকার পাতায়-এটাই আমাদের কাম্য। প্রয়োজনে নতুনদের আমরা সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবো, দেয়া উচিৎও। এ প্রসঙ্গে কবির ভাষায় বলবো-

“এসেছে নতুন শিশু/তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান/

জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ/ মৃত আর ধ্বংসস্তুপের পিঠে/

মোদের চলে যেতে হবে।

চলে যাব/

তবুও যত দিন দেহে আছে প্রাণ/

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল/

এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি/

নব যাতকের কাছে/ এ আমার দৃঢ় অঙ্গিকার।”

আমরা বরাবরই অভিনন্দন জানাই, দেশ-বিদেশের সকল অনলাইন পত্রিকার মতো দাউদকান্দি থেকে প্রকাশিত ‘বিডি নিউজ টু ইউ ডট কম’ শিরোনামে দৈনিক পত্রিকাটিকে। যারা দাউদকান্দি থেকে এই প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা প্রকাশের ব্যবস্থা করেছেন তাদের সকলকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। মন থেকে কামনা করি, তারা যেনো প্রকৃতই সত্য-সুন্দর ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড সম্পাদনের মধ্যদিয়ে অনেক বড় মানুষদের কাতারে নিজেদেরকে দাঁড় করাতে পারেন। আমরা যেনো তাদের নিয়ে গর্ববোধ করতে পারি। ভুলেও যেনো কোনো রকম নিন্দাবাদ তথা ভর্ৎসনা প্রাপ্য না হন তারা। এটাই তাদের কাছে আমাদের চাওয়া-পাওয়া। বিশেষ করে বিডি নিউজ টু ইউ ডট কম’র সম্পাদক মোঃ শফিউল বাসার সুমন, উপসম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল বারী, বার্তা সম্পাদক মোহাম্মদ মোহসিন মিয়া, সহযোগী সম্পাদক মোহাম্মদ দ্বীন ইসলাম রাজুসহ সংশ্লীষ্টদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তাদের এ সাহসী পদক্ষেপের জন্য। কেননা, বাজারে বহু অনলাইন পত্রিকা থাকার পরও তাদের এ উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা বিশ্বাস করি, তাদের দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় ও মনোবল দেশ, জাতি ও বিশ্বকে অবাক করে দেবে একদিন।

পরিশেষে আর দু’টি লাইন দিয়ে শেষ করবো এ লেখা। আমার অনুরোধ থাকবে সম্মানিত কিছু নবাগত লেখক ও অনলাইন পত্রিকার সঙ্গে যুক্তদের প্রতি, এটি এখন সৃষ্টিশীল কর্মের বড় রকমের প্রতিযোগিতা, আপনার কর্মকাণ্ড দ্বারা আপনাকে প্রমাণ করতে হবে, কতটা সমৃদ্ধশালী ও উন্নত চিন্তার মানুষ আপনি। আপনার দ্বারা সমাজ-দেশ-জাতি কি পেয়েছে বা কি পাবে সময়ই বলে দেবে। মনকে ডুবিয়ে কাজ করে যান। দেখবেন, একদিন অনেক বড় হবেন। বিডি নিউজ টু ইউ ডট কম-সহ সকল অনলাইন পত্রিকাকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা। শুভেচ্ছা সমবেত অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলো পাঠক-লেখক ও সম্পাদকসহ সকলের প্রতি। আল্লাহ আপনার-আমার-সকলের মনোবাঞ্ছনা পূর্ণ করুক। আমাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের তৌফিক দান করুক। আমিন।

লেখক:
কবি, কলামিস্ট, প্রবন্ধকার ও সংগঠক, গৌরীপুর, দাউদকান্দি, কুমিল্লা।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply