সরাইলে আইন শৃঙ্খলা নিয়ে জনমনে শঙ্কা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত এলাকার সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া খুন, সংঘর্ষ, চুরি, ডাকাতি, হামলা ও মামলার ঘটনায় এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকে রয়েছেন অজানা আতঙ্কে। এদিকে অনেক ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। তারা অনেক অপরাধ কর্মকান্ডে যথাযথ আইন প্রয়োগ করে না। শুধু দায়সারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এ কারণে পুলিশের প্রতি এখানকার অনেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এসব অভিযোগ একাধিক ভূক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি দুপুরে উপজেলা সদরের বড় দেওয়ান পাড়া তালেবুর রহমানের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। এসময় চুরেরা ১২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। ৬ জানুয়ারি সকালে চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে চিহ্নিত ডাকাত জামির ও তার লোকেরা চাঁদার দুই লাখ টাকা না পেয়ে কৃষক আজগর আলীর চাষাবাদ জমির বিভিন্ন জাতের সবজি নষ্ট করে ফেলে। এতে কৃষকের প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। ৫ জানুয়ারি গভীর রাতে সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীকে বেঁধে দু’টি কক্ষের তালা ভেঙ্গে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ৪টি কম্পিউটার নিয়ে যায় চোরেরা। ৪ জানুয়ারি কুট্টাপাড়া গ্রামে পরিবহন বিষয় নিয়ে দু’দলের সংঘর্ষে পরিবহন শ্রমিক রিপন মিয়া (৩৫) টেটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। সংঘর্ষে আহত হয় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ। ৩ জানুয়ারি সদর ইউনিয়নের বড্ডাপাড়া গ্রামের প্রবাসী সাদেক মিয়ার কন্যা এসএসসি পরীক্ষার্থী মনি আক্তার সকালে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ২ জানুয়ারি চুন্টা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে কৃষক তাজু মিয়ার কন্যা ফাতেমা আক্তার (১৩) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। কিন্তু এলাকাবাসী বলছেন ঘটনাটি রহস্যজনক। ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে মৃত ফরিদ উল্লাহ ঠাকুরের ছেলে সোহরাফ উল্লাহ ঠাকুর (৫০) প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। গত ২৮ ডিসেম্বর চুন্টা ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামে নৃশংসভাবে খুন হন বৃদ্ধ ছিদ্দিকা খাতুন (৭০)। পুলিশ তার মুখবাঁধা রক্ষাক্ত লাশ উদ্ধার করে। এছাড়াও সম্প্রতি কালীকচ্ছ পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমিক, মহিলা বিষয়ক, ভূমি, নির্বাচন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরের তালা ভেঙ্গে কম্পিউটার নিয়ে যায় চুরেরা। অপরদিকে সরাইল-নাসিরনগর সড়কে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে নিত্যদিন।

ভূক্তভোগী লোকেরা অভিযোগ করে বলেন, এসব ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ কার্যত ব্যবস্থা নিচ্ছে না। চুরি হওয়া একটি কম্পিউটারও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না পুলিশ। কৃষকের জমির সবজি নষ্ট করে দিলেও পুলিশ বিষয়টিতে আমল দিচ্ছে না। দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় পুলিশ নীরব। খুনের মামলা হলেও আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের কোন তৎপরতা নেই। মামলা নিয়ে বাণিজ্যে নেমে তারা। সংঘর্ষের ঘটনা আমলে না নিয়ে পুলিশ তা গ্রাম্য সালিশের দিকে ঠেলে দেয়। সুযোগে কিছু প্রভাবশালী বিষয়টিকে পুঁজি করে কামিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের অর্থ। এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সকল বিষয়গুলো আমরা নিভীড় তদন্ত করছি। অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী রফিক উদ্দিন ঠাকুর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায়, দুর্বল ও গোজামিলের সালিশ ব্যবস্থা এবং কিছু স্বার্থান্বেশী সালিশকারকের জন্যই এখানে সংঘর্ষের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা সাংবাদিকদের জানান, কিছু লোক প্রবাসে থেকে নতুন টাকা-পয়সার মালিক হয়েছে। অনেকের হাতে এসেছে কালো টাকা। এসব লোকেরা টাকা-পয়সার গরম সহ্য করতে না পেরে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply