মনিরুল হক সাক্কু ও এডভোকেট আফজাল খান

আজ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন : দুই প্রধান প্রার্থীর প্রতিশোধ আর প্রতিরোধের প্রকাশ্য ঘোষণা

কুমিল্লা সংবাদদাতা :

মনিরুল হক সাক্কু ও এডভোকেট আফজাল খান
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিনে প্রতিশোধ আর প্রতিরোধের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খান ও বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। নির্বাচনী পরিবেশ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে পুনরায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অন্য প্রার্থীরাও। সরকার দলীয় লোকজন প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন দিয়ে নির্বাচনী মাঠে আতংক সৃষ্টির সঙ্গে হয়রানিও করছে বলে অভিযোগ করেছেন মনিরুল হক সাক্কু।

নির্বাচন কমিশন হুমকি দিয়ে দিয়ে বলেছে প্রার্থীদের পক্ষে যে সব কেন্দ্রীয় নেতা প্রচারণা চালাচ্ছে তারা মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে কুমিল্লা ছেড়ে না গেছে নির্বাচন স্থগিত করে দেয়া হবে। কমিশন বলছে, বহিরাগত কেন্দ্রীয় নেতারা কুমিল্লায় আসার পর থেকে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নীত হয়েছে। এ দিকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে মাঠে নেমেছে র‌্যাব ও পুলিশ। র‌্যাব নগরে মহড়া দিয়েছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে প্রচারণার শেষ হওয়ার আগের দিন রাত দেড়টায় পুলিশ কুমিল্লা শহরের উত্তর ঠাকুরপাড়ায় কুমিল্লা শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রউফ চৌধুরী ফারুকের বাসায় হানা দেয়। ফারুক জানান, পুলিশ এসে তা মা মিসেস সাত্তার চৌধুরীর কাছে জানতে চান এটা কি ফারুকের বাসা। হ্যাঁ বলার পর আমাকে খোঁজাখুজি করে।

এদিকে নগরের গর্জনখোলা এলাকায় শহর বিএনপির নেতা আতাউর রহমান ছুটির বাসায়ও পুলিশ গিয়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী ও বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া মনিরুল হক সাক্কু অভিযোগ করেছেন, পুলিশ অন্তত ৪০ জন বিএনপি নেতাকর্মীর বাসায় গিয়েছে। তারা কেন গেলো? যদি এভাবেই নির্বাচন করতে চায় তাহলে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই জনগণ নিয়ে আমি এসব অপচেষ্টা জনগণ নিয়ে প্রতিহত করবো।

তিনি আরও বলেন, আমি কুমিল্লা পৌরসভার মেয়র ও চেয়ারম্যান ছিলাম, একটি দলের নেতা ছিলাম। এ অপচেষ্টার জবাব দেয়ার ক্ষমতা আমার আছে।

তিনি বলেন, কোন প্রার্থী ৫ শ মোটর সাইকেল নিয়ে বের হলে আমি ২ হাজার মোটর সাইকেল নিয়ে বের হওয়ার ক্ষমতা আছে। আমি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আফজল খান প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন দিয়ে নির্বাচনী মাঠে আতংক সৃষ্টির সঙ্গে হয়রানিও করছে বলে অভিযোগ মনিরুল হক সাক্কুর।

তবে সব অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খান। পাল্টা অভিযোগ করে তিনি জানান দিয়েছেন, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে চাইলে মনিরুল হক সাক্কু ক্ষমা পাবেন না। আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ আফজল খান বলেছেন, মনিরুল হক সাক্কুরা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। তাদেরকে দয়া করে মাফ করে দিয়েছিলাম। প্রশাসন খুব শক্ত। সাক্কুর বাবা কবর থেকে উঠে আসলেও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি কিছু করতে পারবে না।

মনিরুল হক সাক্কুর মতো অন্য প্রার্থীরাও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। মেয়র প্রার্থী নুর উর রহমান মাহমুদ তানিম বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে কর্মক্ষম বা গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। একের পর এক মিছিল হচ্ছে, কেন্দ্রীয় নেতারা এসে মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

অপর মেয়র প্রার্থী আনিসুর রহমান মিঠু অভিযোগ করেছে বলেছেন, শঙ্কায় আছি কেন না আইন শৃংখলা বাহিনীর কোন তৎপরতা চোখে পড়ে না।

এ সব অভিযোগের পর মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রির্টানিং অফিসার আবদুল বাতেন হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন বিকাল পাঁচটার মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতার কুমিল্লা ছেড়ে না গেলে নির্বাচন স্থগিত করা ছাড়া কোন পথ থাকবে না। সোমবার বাইরে থেকে কিছু কেন্দ্রীয় নেতা আসায় নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। নির্বাচন বন্ধ হলে এর দায়দায়িত্ব বহিরাগত কেন্দ্রীয় নেতাদের নিতে হবে।

উল্লেখ, সোমবার কুমিল্লায় এসে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী আফজল খানের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো: নাসিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ। এ ছাড়া আফজল খানের নির্বাচনী প্রচারণা অংশ নিয়েছেন ৬ জন সংসদ সদস্য।

এ দিকে নির্বাচনকে সু-শৃংখল, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষে মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে ৩৬ ম্যাজিষ্ট্রেট এবং ৮শ র‌্যাব সদস্য। সেই সাথে নির্বাচনের দিন আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার সদস্য থাকবে। কেন্দ্রগুলোতে লাগানো হবে সিসি ক্যামেরা।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান জানান, প্রতিটি কেন্দ্র ১৩ জন পুলিশ, আর্মড ব্যাটেলিয়ন, আনসারসহ ৩০ সদস্য। কুসিক নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ম্যাজিষ্ট্রেটদের মধ্যে ৯জন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এবং ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট থাকবেন। ১জন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৩টি ওয়ার্ডে এবং ১জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ১টি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্র আরো জানায়, নির্বাচনের আগের ও পরের দিন এবং নির্বাচনের দিন ২৭ ওয়ার্ডে ২৭টি র‌্যাবের টিম সার্বক্ষণিক টহল দেবে। ৮জন করে একটি টিম গঠন হবে। নির্বাচনের দিন র‌্যাবের ৮শ পুলিশ ও আনসারের প্রায় ২ হাজার ৩শ এবং বিজিবির ১শ ৫০জন সহ মোট ৩ হাজার আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকবে। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন এবং প্রতিটি ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকবে। কেন্দ্রের বাইরের পরিস্থিতি দেখাশোনাও নিয়ন্ত্রনের জন্য ১ জন এসআই এর নেতৃত্বে ৫ জনের অ্যাকশন ফোর্স থাকবে এবং প্রতি ৩টি কেন্দ্রের জন্য পুলিশের ১টি করে মোবাইল টিম থাকবে।

এছাড়াও ২৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ জন করে ২৭ জন ইসির নিজস্ব গোপন পর্যবেক্ষক থাকবেন। তারা কমিশনকে নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দিবে এবং কোথাও কোন অনিয়ম হলে তা রিটার্নিং অফিসারকে জানাবেন। সেই সাথে কোন অনাকাঙ্খিত বিশৃংখলা সৃষ্টি হলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য র‌্যাব ও পুলিশের ৫০ জনের রিজার্ভ ফোর্স রিটার্নিং অপিসার এর কার্যালয়ে থাকবে।

এ বিষয়ে কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন জানান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সকল কার্যক্রম ঠিক ভাবেই সম্পন্ন করা হচ্ছে। কুসিক নির্বাচন অবশ্যই একটি সুষ্ঠু, সুশৃংখ্যল এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। মঙ্গলবার সকলেই তিনটি কাভার্ড ভ্যানে করে কুমিল্লায় আনা হয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইভিএম মেশিন। রাখা হয়েছে কুমিল্লা টাউন হলে। আজ প্রতিটি কেন্দ্রে পৌছে দেয়া হবে এসব ইভিএম মেশিন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply