সরেজমিনে ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন মতলব উত্তরে অতিদরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পের হাল হকিকত

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি :

কর্ম না থাকা সময়কালীন সরকার অতিদরিদ্রদের জন্য ৪০দিনের যে কর্মসৃজনের ব্যাবস্থা করেছেন সেই কর্মসৃজনে মতলব উত্তর উপজেলায় প্রতিদিন ৫৬৬ শ্রমিক দৈনিক ৭ ঘন্ট করে ১৭৫টাকা হারে কাজ করার কথা এবং এ কাজে অর্থ বরাদ্ধ ছিল ৩৯ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা। আর অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের এই ৪০দিনের কাজের মেয়াদ ৩০নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবার কথা থাকলেও পরে এ কাজের সময়সীমা ৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছিল। উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে ফরাজীকান্দি ইউনিয়নে ৬৫ জন শ্রমিক ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকার কাজ করার কথা। সে মোতাবেক এই ৪০দিনের কাজের কি হাল হাকিকত তা দেখার জন্য গত ০৪ জানুয়ারী সকালে মোটরসাইকেরে করে উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের কাজ সরেজমিনে দেখি-

ইউনিয়নের ছোটহলদিয়া আবুর হোসেন শিকদারের বাড়ী বাড়ী হতে মঞ্জিল মোল্লার বাড়ী পর্যন্ত খালের কচুরীপানা পরিস্কার প্রকল্প দেখি। সত্যিকার অর্থে ৪০ দিনের এই কর্মসৃজন প্রকল্পে এ কাজ (কচুরীপানা পরিস্কার) করার কোন বিধানই নেই। তবুও সে কাজ ঘুরে দেখাযায়, ছোট পরিসরের এই খালের কিছু কচুরীপানা খালের পাড়েই কিছুটা পানিতে কিছুটা ডাঙ্গায় এভাবেই পড়ে আছে। তবে বলে রাখা ভালো, এ খালের প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অংশটি মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ভিতরে এবং এই খালে কোন পানি প্রবাহিত হয়না। যা পরিত্যাক্ত খাল হিসাবেই পড়ে আছে। আর একাজে শ্রমিক দেখানো হয়েছে ১৫ জন এবং এতে অর্থ বরাদ্ধ ছিল ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা। আর অর্থ বরাদ্ধের তুলনায় কাজটি খুবই সামান্য। অন্যদিকে, খবর নিয়ে জানা যায় এই খালে চেয়ারম্যান সাহেবের লোকরা মাছচাষ করবেন সে জন্যই খালের কচুরীপানা পরিস্কার করা হয়েছে।

এরপর, ভেদুরিয়া বাজার থেকে আনন্দ বাজার হয়ে তুজাম্মেল সরকারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা মেরামত প্রকল্পের কালা ব্যাপারীর বাড়ী সংলগ্ন রাস্তার দু’পাশে এবং নয়াকান্দি গ্রামের ছানাউল্যাহ মাষ্টারের বাড়ী সংলগ্ন রাস্তায় মাটির কিছু কাজ দেখাগেলেও এ প্রকল্পের বাকী অংশে কাজের কোন নমূনা চোখে পড়েনি। এ প্রকল্পে দৈনিক শ্রমিক সংখ্যা দেখানো আছে ১৫ জন এবং এ কাজে অর্থ বরাদ্ধ রাখা আছে ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা।

খালের কচুরীপানা পরিস্কার প্রকল্পের ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এর সাথে কথাহলে তিনি বলেন, খালের কচুরীপানা পরিস্কার করার কোন কাজ করা এ প্রকল্পের পরিপত্রে নেই। এতদ সত্বেও এই কচুরীপানা পরিস্কারের প্রকল্পটি কি করে স্থানীয় সাংসদ ও পিআইও অনুমোদন দিলেন তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা যায়, সপ্তাহের ৫ কর্মদিবসে শ্রমিকদের দৈনিক ১৭৫টাকা হারের টাকাটা সাপ্তাহিক বিল হিসাবে শ্রমিকদের প্রদান করার কথা এবং একাজে মহিলা শ্রমিক থাকবে শতকরা ৩০ জন । অথচ, ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের শ্রমিকদের লেন-দেনের সোনালী ব্যাংক ফরাজীকান্দি শাখায় গিয়ে দেখা যায়, এখানে জনপ্রতি ১ চেকের মাধ্যমে এককালিন ৪ হাজার ৩৭৫ টাকা করে দেয়া হয়েছে। যা প্রতি শ্রমিকের এককালীন ২৫ দিনের করে মজুরীর টাকা। শ্রমিকদের শতকরা ৩০ জনের হারে মহিলা শ্রমিক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ০৯ জন মহিলা শ্রমিকের নামে ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দানেসের এর সাথে (সাংবাদিকদের একজন) মুঠোফোনে কথা বলাকালে অফিসে কোন টাকা-পয়সা দেয়া লাগছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অসলে এব্যাপারে আমি মোবাইলে না বলে সামনা সামনি দেখা হলে বলবো।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply