মুরাদনগরে স্বাধীনতার ৪০ বছরেও স্বীকৃতি মিলেনি বিরঙ্গনা বেলা রানী দাসের

মোঃ ফখরুল ইসলাম সাগর,ষ্টাফরির্পোটার,দেবিদ্বার :

মুরাদনগর উপজেলার নগরপাড় গ্রামের আলোচিত বিরঙ্গনা স্বীকৃতি না পাওয়া বেলা রানী দাস। ছবি ... সাগর
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নগরপাড় গ্রামের মনিন্দ্র চন্দ্র দাসের মেয়ে ,নরেন্দ্র চন্দ্র দে এর স্ত্রী এলাকার ব্যাপক আলোচিত বিরঙ্গনা বেলা রানী দাসের স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেলেও এপর্যন্ত কোন প্রকার স্বীকৃতি মিলেনি। এনিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ওই আলোচিত বিরঙ্গনা।
জানা যায় , ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন অপুর্ব সুন্দরী বেলা রানী দাসের বয়স মাত্র ১৫ বছর। নরেন্দ্র চন্দ্রর নব বিবাহিতা স্ত্রী বেলা রানী দাসকে স্থানীয় কুখ্যাত রাজাকার মোবারক , মুরতোজ , চাঁন মিয়া , ফরিদ গংদের সহযোগিতায় পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর কমান্ডার ক্যাপ্টেন জাকের হোসাইন সহ একদল পাক সৈন্য ঘর থেকে ধরে নিয়ে যেতে আসলে স্বামী নরেন্দ্র বাধা প্রদান করায় ওই মুহর্তেই পাক হানাদাররা তাকে গুলি করে হত্যার পর স্ত্রী বেলা রানী দাসকে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধ চলাকালীন পুরো সময় তাকে আটক রেখে অমানবিক নির্যাতন করেন। স্থানীয়রা জানান , অপুর্ব সুন্দরী হওয়ায় স্থানীয় রাজাকার ও পাক সেনাদের কুদৃষ্টি পরার কারনে তাকে এধরনের খেসারত দিতে হয়েছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তার চোখের সামনে অনেক বিরঙ্গনাকে প্রানে মেরে ফেললেও সুকৌশলে সে প্রানে বেচে যায় , কিন্তু বেলা রানী আক্ষেপ করে বলেন , বেচে যাওয়াটাই তার জীবনের সব চেয়ে বড় অভিশাপ , কারন এ সমাজ তাকে সহজ ভাবে মেনে নিতে পারেনি। চরম বৈষম্যের ফলে ওই বিরঙ্গনা বাকি জিবনে আর বিয়ে সাদী করতে পারেনি। এ পর্যন্ত তার ভাগ্যে জোটেনি কোন প্রকার মুক্তিযুদ্ধ ভাতা কিংবা বিরঙ্গনার স্বীকৃতি বা কোন মহলের সহানুভুতি , উল্টো স্থানীয় প্রভাবশালী ইঞ্জিনিয়ার মোকবল হোসেন সহ কতিপয় গংরা মিলে বেলা রানী ও তার ছোট ভাই প্রদীপ চন্দ্র দাসের শেষ সম্বল পৈত্রিক ভিটে মাটি কয়েক শতাংশ জায়গা বিভিন্ন কৌশলে বেদখলের জন্য ব্যাপক পায়তারা চালিয়ে আসছে এবং ইতিমধ্যে তাদের বাড়ির সামনের অংশে বাওন্ডারী দেয়াল নির্মান করে কুচক্রিরা তাদেরকে অনেকটাই অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। অবৈধ দখলদারদের কালো থাবার কারনে সে এখন তার নিজ গৃহে গৃহ বন্দি অবস্থায় মানবেতর জিবন যাপন করছেন। এ যেন মগের মুল্লুক , দেখার মত কেউ নেই , তাকে সাহায্য করার জন্য কেউ এগিয়ে আসছেনা বলে অভিযোগ করেছেন ওই বিরঙ্গনা। বেলা রানী দাস বিরঙ্গনা মুক্তিযুদ্ধার স্বীকৃতি সহ তার ভিটে মাটি রক্ষায় একটু দয়ার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেন।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply