নাঙ্গলকোটের কোদালিয়ার মালেক : টোকাই থেকে কোটিপতি!

বিশেষ প্রতিনিধি:

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার ‘৯০ দশকের টোকাই ত্রাশ সম্রাট আওয়ামী (১৯৯৬-২০০১, ২০০৯-বর্তমান) আমলে গম চাউল সিন্ডিকেট নেতা, থানা, সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, উপজেলা প্রকৌশলী অফিস, পি আই ও অফিস, ইউ এনও অফিসের দালাল, গোডাউনের কুলির সর্দার, ৮০ দশকের টোকাই, বহু অপকর্মের হোতা আবদুল মালেক (কোদাল্লার ইলেভেন ব্রাদার্স নামে আতকিংত হিসেবে পরিচিত) আ’লীগ শাসনামলে কোটি কোটি টাকার মালিক, সাধারণ মানুষ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি এলাকায় এই সন্ত্রাসী গডফাদার অধ্যক্ষ সাদেক হোসেন ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ ইউছুফ এর সহযোগিতায় নাঙ্গলকোট থানার দালাল টোকাই মালেক, বিভিন্ন মামলার সাজা প্রাপ্ত আসামী জাফর, শাহিন কে দিয়ে নাঙ্গলকোট কলেজে নকল সিন্ডিকেট গড়ি তোলে। সম্প্রতি এলাকায় ঘোষণা দিয়েছে নাঙ্গলকোট পৌরসভা তার এলাকাধীন আশেপাশে এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক কর্মকান্ডে তার নির্দেশ ছাড়া একটি গাছের পাতাও নড়বে না। এই ত্রাস সম্রাট টোকাই মালেক, গোডাউনের সেন্ডিকেট সদস্য থানার দালাল পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, শিশু পাচার সহ বিভিন্ন ও সিন্ডিকেট নেতা ৫ বৎসরে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যান। জনশ্রুতিতে আছে ওনারা ১১ ভাই নাকি কাউকে পরোয়া করে না। আওয়ামী শাসনামলে বিএনপিসহ অন্যান্য সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের থানায় মামলা জড়িয়ে হয়রানি করেছে। যখন তখন সাদেক হোসেন ভূঁইয়া, অধ্যক্ষ ইউছুেফর সহযোগিতায় থ্রী স্টার বাহিনী গঠন করে একের পর এক ত্রাস সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছেন। বাতুপাড়া ও মাঝিপাড়া গ্রামের দুটি লুটপাটের ঘটনা ৭১’র পাকহানাদার বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।

এই সন্ত্রাসী টোকাই মালেক ও সন্ত্রাসী বাহিনী শাহিন, জাফর সহ বিএনপি ক্ষমতায় থাকা কালীন কৃষক লীগ থানা সেক্রেটারী হাজী আবদুর রশিদকে লাঞ্চিত করার হীনমানসে মদ পান করে আরো কয়েকজনসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে উলঙ্গ হয়ে হাজী রশিদের গায়ে প্রশ্রাব করার চেষ্টা করলে হাজী রশিদ মালেকের পুরুষাঙ্গ ধরে ফেলে ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এই টোকাই মালেক, শাহিন, জাফর সহ বিএনপি আমলে থানা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জহিরুল হক (গোত্রশাল) এর উপস্থিতিতে বর্তমান আ’লীগ নাঙ্গলকোট থানার সভাপতি এডভোকেট লিটনসহ রেল স্টেশন আলাউদ্দিনের হোটেলে কয়েকজন নেতা কর্মীকে নিয়ে ভাত খাচ্ছিলেন। মালেক সন্ত্রাসী নিয়ে হোটেল ভাংচুরসহ আ’লীগ নেতা-কর্মীদের লাঞ্চিত করে। এই মালেক/১১ ভাই আওয়ামী ক্ষমতা থাকাকলীন সময়ে থানার সাথে আতাত করে নাঙ্গলকোটে যাত্রার আয়োজন করে। এক যাত্রা শিল্পিকে খুন করে লাশ চৌদ্দগ্রাম থানায় ফেলে দেয়। পরবর্র্তীতে মামলাটি ধামাচাপা দিয়েছে। আরেক যাত্রা শিল্পীকে আটকিয়ে রেখে নাঙ্গলকোট এর জনৈক আলী নোয়াবের ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছে। তাদের সংসারটি ধ্বংস করেছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি শাসনামলে দাউদকান্দি থানায় তার বিরুদ্ধে নারী ধর্ষণের পর খুন মামলা হয়েছে বলেও জানা গেছে। পরবর্তীতে মামলাটি ধামাচাপা দেয়া হয়।

গত ০৫.০৪.০৭ইং নাঙ্গলকোট থানার ওসিসহ থানার সকল স্টাফকে এক বড় ধরনের ভোজনের আয়োজন করেছে বলে জানা গেছে।

এই সন্ত্রাসী মালেক রেজিষ্ট্রি অফিসে দালালী করে বলেও জানা যায়। কেউ তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলে না। এই মালেক খুলনার এরশাদ শিকদারকেও হার মানায়। বর্তমান কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক ওমর ফারুক এর গাড়ি ভাংচুর এবং তাকে লাঞ্চিত করে। আ’লীগ নেতা (অব:) ক্যাপ্টেন হুমায়ুন কবির এর গাড়ি ভাংচুর ও লাঞ্চিত করে। বাঙ্গড্ডা ইউপি ছাত্রলীগের নেতা মোহসীন কে মারধর করে, জেলা ছাত্রলীগ নেতা সাদেক হোসেন কে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ্জাহান মজুমদারের সামনে তার অফিসে মারধর করে, গোত্রশালের দেলোয়ার হোসেন কে মারধর করে, হরিপুরের বাবুল বর্তমান মেয়র সামছুদ্দিন কালুর পিএস কে মারধর করে, হরিপুরের শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবির কে মারধর করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দেয়, গোত্রশালের জহির নেতার ছেলে রাসেল কে মারধর করে পরবর্তীতে প্রকাশ্য দিবালোকে হাজার হাজার মানুষের সামনে ক্ষমা প্রার্থনা করে, শ্রীকান্তার জসীম কে মারধর করে, সাবেক আ’লীগ সভাপতি রুহুল আমিন মোল্লাকে লাঞ্চিত করে, জোড্ডা ইউপি যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন কে থানার ভেতর লাঞ্চিত করে, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসহাক মিয়ার ভাই আবদুল মতিন কে মারধর করে, দৌলখাঁড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের কে মারধর করে,

আ’লীগ ক্ষমতায় থাকতে নাঙ্গলকোট থানার সামনে (২০০১-০৫) এর এমপি আবদুল গফুর ভূঁইয়া সাহেবকে মারধোর ও রক্তাক্ত করে ভাঙ্গা অস্ত্র দিয়ে জেলহাজতে প্রেরন করে।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে খোকন বাবুদের বাড়ীর জায়গা জোরপূর্বক দখল করে পরবর্তীতে বিচারের মাধ্যমে নামমাত্র দাম ধরে জমি কবলা করে নিতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-কুমিল্লায় ৫তলা ভবনের কাজ চলছে। যে কেউ এই টোকাই মালেকের মাধ্যমে জমি দখল থেকে শুরু করে খুন রাহাজানি, চিনতাই, চাঁদাবাজি করে কোটি পতি হয়ে যান।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply