শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক অঙ্গন হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়- জয়নাল হাজারী

কুমিল্লা সংবাদদাতা:

কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের ঘোষপা আবদুল বাসেত মজুমদার মর্ডান স্কুলের বার্ষিক ফলাফল ঘোষনা, আলোচনা সভা, পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে ফেণী জেলার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সাংসদ জয়নাল হাজারী প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্যে বলেন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক অঙ্গন হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সরকার দলীয় স্থানীয় সাংসদ নাসিমুল আলম চৌধুরীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বক্তারা রাজনৈতিক বক্তব্য দিলে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সকলের। তিনি বাসেত মজুমদারের নামে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম করনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন যার নামে এ প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে তিনি শুধু কুমিল্লার কৃতি সন্তান নয় সারাদেশের পরিচিত মুখ। সুতরাং এ প্রতিষ্ঠানের স্মৃতি ধরে রাখার দায়িত্ব এখন জনাব বাসেত মজুমদারের। এলাকাবাসী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের ভালবাসার আবেগ আপ্লুত হয়ে জনাব হাজারী প্রতিষ্ঠানকে ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা নগদ অনুদান প্রদান করেন। বিজয়ের মাসের শেষ দিনে মুক্তিদুদ্ধের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি যখন তার বক্তৃতায় দু:খ করে বলেন বিজয়ের মাসে এ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে একজন মুক্তিযোদ্ধার দেখা পেলাম না। তখন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা এগিয়ে এসে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার নামে রাস্তা নামকরনের আহবান জানান। এবং তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী জনাব ওয়াহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে তা দ্রুত পাকাকরনের ব্যবস্থা করবেন। তাৎক্ষনিকভাবে উপস্থিত জনতা একটি কাঁচা রাস্তা দেখিয়ে তা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মরহুম ফিরোজ উদ্দিন সড়ক নাম করনের প্রস্তাব করেন জনাব জয়নাল হাজারী দাবী করে বলেন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে রাজাকারেরা কোন ভাবেই পার পাবে না।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলরের ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সাবেক সভাপতি জনাব এডভোকেট বাসেত মজুমদারের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানের নির্ধারিত প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সাংসদ নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল কিন্তু সিনিয়র রাজনীতিবিদ ও সাবেক সাংসদ ফেণীর মুকুটহীন সম্রাট জয়নাল হাজারীর উপস্থিতিতে তিনি জয়নাল হাজারীকে প্রধান অতিথির সম্মানে সম্মানীত করেন। সকাল ১০টা থেকে জয়নাল হাজারীকে এক নজর দেখার জন্য গালিমপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে থাকেন। আবেগ জড়িত কন্ঠে জনাব জয়নাল হাজারী বলেন আমি কোন দিন জনাব বাসেত মজুমদারের ঋণ শোধ করতে পারব না। ২০০১ সালে বিএনপি তথা জোট সরকারের সময় জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে লুকিয়ে ছিলাম। তখন একমাত্র বাসেত মজুমদারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছি এবং তিনি আমাকে সবসময় সাহস ভরসা যুগিয়েছেন এবং বর্তমানে সকল মামলা থেকে অব্যাহতি পাবার আইনি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদান স্বরূপ আমি আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি কৃতজ্ঞতা জানাতে। আজকে আমার পাশে দাঁড়িয়ে যে ভাব্ েআইনি সহায়তা করছে তদ্রুপ আপনাদের আইনি কোন সমস্যা দেখা দিলে আপনাদের পাশেও দাঁড়াবে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি আরো বলেন যতদিন বেঁচে থাকবো সামাজিক কর্মকান্ড ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সময় ব্যয় করবো।

সভায় স্থানীয় সাংসদ নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল ছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন বরুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব হাফিজ আহমেদ, এডভোকেট ওয়াজি উল্যাহ, নির্বাহী কর্মকর্তা কবির উদ্দিন স্থানীয় আ’লীগ নেতা মাস্টার মোবারক হোসেন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায় এডভোকেট আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। সভায় সভাপতি এডভোকেট বাসেত মজুমদার সমাপনী বক্তব্য শেষে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply