ইউপি নির্বাচনে ঢাকাইয়াদের পাশ করাইয়া বিপাকে এখন তিতাসবাসী

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস থেকে :
গত বছর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ঢাকায় বসবাসরত বিভিন্ন ব্যক্তিদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে এখন বিপাকে পরেছে বলে তিতাসের সর্বমহলে অভিযোগ উঠেছে।

বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে সাতানী ইউনিয়নে দেলোয়ার হোসেন ধন মিয়া, জগতপুর ইউনিয়নে আলহাজ্ব আব্দুল রাজ্জাক ভূঁইয়া, বলরামপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, কড়িকান্দি ইউনিয়নে মোশারফ হোসেন সরকার, কলাকান্দি ইউনিয়নে জবেদ আলী, ভিটিকান্দি ইউনিয়নে দেলোয়ার হোসেন, নারান্দিয়া ইউনিয়নে ইঞ্জিনিয়ার সালাহ উদ্দিন, জিয়ারকান্দি ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদ হোসেন আখন্দ ও মজিদপুর ইউনিয়নে আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন সাধারণ জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

নির্বাচনের আনন্দ উপভোগ পর্যন্ত নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণ স্ব স্ব ইউনিয়নে অবস্থান করলেও বর্তমানে তাদের সাক্ষাত পাওয়া তিতাসবাসীর জন্য দুস্কুর হয়ে উঠেছে। অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে সাত দিনের মধ্যে ৬ দিন এলাকার বাহিরে থাকার অভিযোগ উঠেছে। কিছু কিছু চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামীসহ সরকারী চাল আত্মসাৎ, অনৈতিক কার্য্যকলাপে লিপ্ত, মাদক সেবন-ব্যবসার মতো ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। এলাকার সচেতন মহলে এ নিয়ে মুখোরোচক আলোচনা- সমালোচনা চলছেই।

বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রযোজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। তাৎক্ষণিক কোন দরখাস্ত, চারিত্রিক ও নাগরিক সনদপত্র, জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িতসহ তথ্য সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, জগতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া, বলরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, কড়িকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সরকার, কলাকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জবেদ আলী, ভিটিকান্দি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা, নারান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সালাহ উদ্দিন ও মজিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন প্রায়ই এলাকার বাহিরে ঢাকায় অবস্থান করেন। এসব ইউনিয়ন পরিষদে স্ব স্ব সচিবগণ সার্বক্ষনিক উপস্থিত থাকলেও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের কারণে অনেকটা বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

বিষয়টি নিয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সভায় অভিযোগ উঠলে, চেয়ারম্যানগণ তাদের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, সাধারণ জনগণ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে সেবা পাওয়া সে সেবা পাচ্ছে। সাধারণ জনগণের কোন অসুবিধা হচ্ছে না। প্রয়োজনের তুলনায় কাজকর্ম না থাকায় তারা মাঝে মাঝে ঢাকায় অবস্থান করেন বলে স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, আপনাকে দেখতে হবে, নীতিমালা কি বলে? স্থানীয় সরকার বিভাগের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট লেখা আছে, পরিষদের চেয়ারম্যানের পূর্বানুমতি ব্যতিত পরিষদের কোন সদস্যই জেলার বাহিরে যাইতে বা অবস্থান করিতে বা কর্মস্থল ত্যাগ করিতে পারিবে না। এতে আরো উল্লেখ আছে, সর্বোচ্চ ২০ দিন পর্যন্ত ছুটি ভোগ করিতে পারিবেন। জনগণের মতামত নিয়েই কিন্তু তারা নির্বাচিত চেয়ারম্যান। এখন তারা যদি নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের সেবা থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে তা বিবেচনার রায় তাদের উপরই থাকলো।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply