কুসিক নিবার্চন- ৬৫ ভোট কেন্দ্রের ৪৭টিই ঝুঁকিপূর্ণ

কুমিল্লা প্রতিনিধি :

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৬৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪৭টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের প্রেক্ষিতে এ তালিকা তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ অবাধ ও সুষ্ঠু করার জন্য বেশকিছু নতুন পদক্ষেপও নিচ্ছে কমিশন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটির ৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৭টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ১৮টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও তথ্য দেন তিনি। বলেন, এবার প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশে ৮ সদস্যের একটি র‌্যাবের টিম টহল দেবে। তাদের সঙ্গে আরও ৫ সদস্যের একটি পুলিশের টিম থাকবে। তিনি বলেন, মূলত ৪টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হলো- অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের রেকর্ড, সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রভাবাধীন ভোট কেন্দ্র, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা, সীমান্ত এলাকা এবং সন্ত্রাস প্রবণ এলাকা। তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলার সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা গোয়েন্দা সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন। জানা গেছে, কুমিল্লা সিটির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। সাধারণ ভোট কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবে ২২ জন করে। ২-৩টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র টার্গেট করে স্ট্রাইকিং ফোর্স অবস্থান নেবে। তাদের এমন জায়গায় অবস্থান নিতে বলা হবে যাতে কোন কেন্দ্রে ঝামেলা হওয়ামাত্রই তারা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে হাজির হয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এছাড়া প্রতি ৩টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সার্বিক অবস্থা দেখভালে কমিশনের একজন করে নিজস্ব কর্মকর্তাও দায়িত্ব পালন করবেন। এসব কর্মকর্তা গোপন পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকবেন। কোথাও কোন সহিংসতা বা অনিয়ম দেখলে কমিশনের নিজস্ব এ কর্মকর্তা সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করবেন। এছাড়া ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে-আসতে বাধা দেয়া হচ্ছে কিনা তা দেখভালে সংখ্যালঘু এলাকা, বস্তি এলাকা, প্রার্থীর প্রভাবাধীন এলাকায় কমিশনের ১৫ জন গোপন পর্যবেক্ষক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরদিনও গোপন পর্যবেক্ষকরা এলাকায় বিচরণ করবেন। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের দিন নির্বাচনী এলাকার থানায় কমিশনের একজন করে কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক অবস্থান করবেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঠিক এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে কিনা, কোন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করছেন কিনা, কমিশন নিযুক্ত কর্মকর্তারা কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন। কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন শাখার কর্মকর্তারা জানান, ভোট প্রহণের দিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোন ধরনের অবনতি ঘটতে না পারে সে জন্য কমিশন সার্বক্ষণিক নজর রাখবে। প্রতিটি কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড দেখভালে কমিশনের নিজস্ব ভিডিও ক্যামেরাও থাকবে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন কুমিল্লা সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রসহ পুরো নির্বাচনী এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর দিকে কমিশনের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। এসব কেন্দ্রের আশপাশে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছাড়াও স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স টহল দেবে। উল্লেখ্য, আগামী ৫ই জানুয়ারি নবগঠিত কুমিল্লা সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply