সরেজমিনে দুর্গাপুর ইউপি : মতলব উত্তরে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান ৪০দিনের হাল হকিকত

শামসুজ্জামান (ডলার), মতলব প্রতিনিধি :

কর্ম না থাকা সময়কালীন সরকার অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করেছেন। মতলব উত্তর উপজেলায় প্রতিদিন ৫৬৬ শ্রমিক দৈনিক ৭ ঘন্ট করে ১৭৫টাকা হারে কাজ করার কথা এবং এ কাজে অর্থ বরাদ্ধ আছে ৩৯ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা। আর অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের এই ৪০দিনের কাজের মেয়াদ ৩০নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবার কথা থাকলেও মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসন জানায়, এ কাজের সময়সীমা ৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে দুর্গাপুর ইউনিয়নে ৩ টি প্রকল্পের অধীনে ৫২ জন শ্রমিক ৩ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকার কাজ করার কথা। সে মোতাবেক এই ৪০দিনের কাজের কি হাল হাকিকত তা দেখার জন্য গত ২৭ ডিসেম্বার মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেরে করে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কাজ সরেজমিনে দেখি-

দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঝিনাইয়া ব্রীজ হতে খোরশেদ প্রধানের বাড়ী হয়ে লবাইরকান্দি ফজরআলী মুন্সীর বাড়ী পর্যন্ত পূনঃনির্মানের কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখাগেলো কাজের মধ্যখানে আইয়ুবআলী মুন্সীর বাড়ীর পশ্চিম অংশ পর্যন্ত কাজের দৃশ্য দেখাযায় যা এই প্রকল্পের অর্ধেকাংশ। আর বাকী অর্ধাংশে অর্থাৎ আইয়ুব আলী মুন্সী বাড়ী থেকে লবাইরকান্দি ফজরআলী মুন্সীর বাড়ী পর্যন্ত কোন কাজই হয়নি। এমনকি এসময় ঐ রাস্তার কাজে কোন শ্রমিককে পাওয়া যায়নি বরং স্থানীয় দিদারবক্স ব্যাপারী (৬৫) এবং আহম্মদ উল্যাহ মাষ্টার (৬০) এর সাথে কথা বলে জানাগেলো, গত কয়েকদিনের মধ্যে এ রাস্তায় কোন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি। এ প্রকল্পে শ্রমিক সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৫ জন এবং এ কাজে অর্থ বরাদ্ধ ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা।

এরপর, ইউনিয়নের নওদোলা পাঁকা রাস্তা হতে পাঠানচক উত্তর মাথা হয়ে মুন্সীর কান্দি চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তা পূনঃনির্মান প্রকল্প ঘুরে দেখাযায়, প্রকল্পের বিচ্ছিন্ন কিছু কিছু অংশে ছোট ছোট গর্ত ভরাটের মতো কিছু কাজ দেখা গেলেও এই প্রকল্পের বেশীরভাগ অংশেই কাজের কোন চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়নি। এমনকি এসময় ঐ প্রকল্পে কোন শ্রমিকও ছিলনা। আর এ কাজে শ্রমিক সংখ্যা দেখানো হয়েছে ২৭জন এবং অর্থ বরাদ্ধ আছে ১লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা।

সর্বশেষে, খালপাড় দুর্গাপুর পাঁকারাস্তা হতে নরসিংহপুর কাঠের পুল পর্যন্ত রাস্তা পূনঃনির্মান প্রকল্পের কাজে গিয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু অংশে কিছু কাজ দেখাগেলেও তা যে অর্থ বরাদ্ধ অনুযায়ী সে মানের নয় তা বুঝতে কারোরই সমস্যা হবার কথা না। এই প্রকল্পে শ্রমিক দেখানো হয়েছে ১০ জন আর অর্থ বরাদ্ধ আছে ৭০ হাজার টাকা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে জানা যায়, সপ্তাহের ৫ কর্মদিবসে শ্রমিকদের দৈনিক ১৭৫টাকা হারের টাকাটা সাপ্তাহিক বিল হিসাবে শ্রমিকদের প্রদান করার কথা এবং একাজে মহিলা শ্রমিক থাকবে শতকরা ৩০ জন । অথচ, দুর্গাপুর ইউনিয়নের শ্রমিকদের লেন-দেনের কৃষি ব্যাংক ছেংগারচর বাজার শাখায় গিয়ে দেখা যায়, এখানে জনপ্রতি ১ চেকের মাধ্যমে এককালিন ৫২ পুরুষ শ্রমিকের নামে ৫২টি চেক দেয়া হয়েছে। মহিলা শ্রমিকের নামে কোন চেক কাটা হয়নি বা কোন মহিলা শ্রমিকের নামে হিসাব খোলা হয়নি।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৩ প্রকল্পের কাজে দৈনিক ৫২ জন করে শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও প্রকল্প অঞ্চলের লোকজনের সাথে কথা বরে জানাগেছে, এই ৩ প্রকল্পে কখনোই একসাথে ৫২ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি। এমনকি কোন দিনই কোন মহিলা শ্রমিক এ কাজে অংশ নেয়নি।

দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৩ প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে দেখার সময়ে এ কাজের ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুর ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে কথোপকথনে তিনি বলেন দুর্গাপুর ইউনিয়নে কাজ হচ্ছে এবং আজ শ্রমিক আছে। কিন্তু এই মুহুর্তে আমরা (সাংবাদিকরা) এ অঞ্চলের কাজ দেখছি জানালে উত্তরে তিনি বলেন, শ্রমিকতো থাকার কথা ছিল।

দুর্গাপুর ইউনিয়নে এ কাজের তদারকী কর্মকর্তা উপজেলা বিআরডিবি (অতিরিক্ত দায়িত্বের) কর্মকর্তা দেলোয়া হোসেন বলেন, দুই কিস্তিতে শ্রমিকদের কাজের বিল দিয়ে দিয়েছি। তাছাড়া, আমি কাজ দেখেছি এবং কাজে ত্রুটি ছিল সেগুলো সংসোধন করার কথা বলেছি।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আবুর খায়ের এর সাথে (সাংবাদিকদের একজন) মুঠোফোনে কথা বলাকালে অফিসে কোন টাকা-পয়সা দেয়া লাগছে কি-না জানতে চাইলে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, আপনি সাংবাদিক মানুষ আপনার সাথে কি কমু কন?

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply