ফেনী সমিতির ভূয়া ভোটে মানুষ নাই

জামাল উদ্দিন স্বপন :

গতকাল ফেনী সমিতির নির্বাচন হয়েছে টিএন্ডটি স্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠে। সকাল ৮টা থেকে প্রায় ১০টা পর্যন্ত কেন্দ্রে ১২ জন প্রার্থী আর ৩ জন ভোটার উপস্থিত ছিল। ১০টার পর থেকে কিছু কিছু ভোটার সংখ্যা বাড়তে থাকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ৫৩০ জন ভোটার উপস্থিত হয়। এটা মোট ভোট সংখ্যার চার ভাগের এক ভাগ মাত্র। পরে বেশ কিছু জাল ভোট দিয়ে ভোটের সংখ্যা কিছুটা বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে। তারপরও ভোটের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। গত শুক্রবার হাজারী ও সম্রাট লিখিতভাবে তারা তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছে। তারা ভোট কেন্দ্রেও যায়নি, কোন এজেন্টও দেয়নি। হাজারী ও সম্রাট একটিবারের জন্য হাজারিকা পত্রিকা এবং হাজারীর ফেসবুকেও কোনদিন প্রার্থীতার কথা বলেননি। তারপরও একজন প্রার্থীর এজেন্টরা বলেছে গৃহিত ভোটে হাজারী ও সম্রাট জিতে আছে। রিটার্নিং অফিসার বলেছে, তাদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা বলা যাবে না। কারণ তারা প্রত্যাহার করেছে। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেও ব্যালটে তাদের নাম রয়েছে, তাই কৌতুহলবসত ব্যাপক সংখ্যক ভোটার তাদের ভোট দিয়েছে। হাজারী ও সম্রাট ভোটের রায় গ্রহণ করবে না। তবুও তাদের প্রাপ্ত ভোটের ফলাফল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। আসলে কিন্তু আইনত প্রত্যাহারের নির্ধারিত দিনের পরে আর কোনভাবেই প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা যায়না। এ প্রসঙ্গে হাজারী বলেছে, হতে পারে ব্যাপক সংখ্যায় ভোটারেরা তাদেরকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু তারা ভোটে জিতলেও পদ গ্রহণ করতে রাজি নাই। বরং ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পদে ইস্তফা দেবে। ফেনী থানা সমিতির এই ভোট শত অনিয়মের মাধ্যমেই হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় তাদের এজেন্ট ও প্রিসাইডিং অফিসাররা মিলে ভোটের ফলাফল আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৎ লোক হলেও ওরা কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এদিকে ফেনী জেলা সমিতি গঠনের কারনে এর সদস্য হওয়ার জন্য শত শত লোক আগ্রহ প্রকাশ করা শুরু করেছে এবং সৎ ও দক্ষ লোকদের নিয়ে অতি অল্পদিনের মধ্যেই এই সমিতি কাজ শুরু করবে। ইতিমধ্যেই এই সমিতি মতিঝিলের ১০৭, খান ম্যানশন, লেভেল ৮, ঢাকা-১০০০-এ ৫০০০ স্কয়ার ফিটের একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে গঠণতন্ত্রসহ সমস্ত কিছুই পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত করা হবে। সমিতিটির নামের ব্যাপারে কেউ কেউ বলেছেন, এটাকে ফেনী জেলা কল্যাণ সমিতি করা হলে ভালো হয়। এদিকে উপদেষ্টা কমিটিতে আব্দুল আওয়াল মিন্টুসহ আরো কিছু বিশিষ্টজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। আগামী সপ্তাহের মিটিংয়ে সাংগঠনিক কাঠামোটি পরিপূর্ণ করা হবে। ফেনী সমিতির সঙ্গে কোন ব্যাপারেই বিরোধ হবে না, তবে প্রতিযোগিতা হবে। ফেনী সমিতির প্রধান অনুষ্ঠান মেজবানি আর ইফতার পার্টি। কিন্তু ফেনী জেলা সমিতির প্রধান কাজ হবে দুঃস্থ ও অসুস্থ মানুষদের সেবা করা। একইভাবে ঢাকা অবস্থানরত বিপদগ্রস্থ মানুষদের সাহায্য করা। জেলা সমিতির আদর্শ, উদ্যেশ্য ও গঠণতন্ত্র বিজ্ঞ আইনজীবীদের সাথে আলোচনাক্রমেই গ্রহণ করা হবে। ফেনী সমিতিতে ছাত্র সদস্য করা নিষেধ আছে। কিন্তু ফেনী জেলা সমিতিতে ২২ বছরের উপরের ছাত্রদের সদস্য করা বিবেচনাধীন আছে। ফেনী জেলা সমিতি প্রতিবছরই সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি বদল করবে। সম্মেলনের কাউন্সিলররাই কর্মকর্তা নিয়োগ করবে। ১ (এক) হাজার কাউন্সিলর প্রয়োজনে হাত তুলেই নেতা নির্ধারণ করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আদলে এই সমিতির কমিটি গঠিত হবে। কোন জাতীয় নির্বাচনের আদলে ভোটের মাধ্যমে নয়। কোন ব্যক্তি পর পর তিনবারের বেশি কমিটিতে থাকতে পারবে না। তবে এক বছর বিরতি দিয়ে আবার প্রার্থী হতে পারবে। বছরে দুইবার সাধারণ সভা হবে। মাসে কমপক্ষে একবার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা হবে। এখানে যেহেতু নির্বাচন হবে না, তাই লক্ষ টাকা জামানত দিয়ে নির্বাচনতো দূরে থাক সম্মেলনের মাধ্যমে কেউ কর্মকর্তা হতে চাইলে কোন পর্যায়েই কাউকে একটি টাকা দেওয়া লাগবে না। এদিকে সম্রাট সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নয়, উপদেষ্টা কমিটিতে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply