ঢাকায় ফেনী জেলা সমিতি গঠিত : হাজারী সভাপতি ও সম্রাট সাধারণ সম্পাদক

জামাল উদ্দিন স্বপন :

গতকাল সন্ধা ৭ টায় ধানমন্ডির ১৩ নম্বর রোডের আনন্দ উল্লাস কমিউনিটি সেন্টারে ফেনী জেলার অন্তর্গত সকল থানার প্রায় ১০০ মানুষ সমবেত হয়। এই সভায় ফেনী জেলার জন্য ফেনী জেলা কমিটি গঠিত হয়। এই সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীকে সভাপতি ও ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে সাধারণ সম্পাদক, এ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ ভুঁইঞাকে সাংগঠনিক সম্পাদক, ফখরুল ইসলাম মানিককে প্রচার সম্পাদক, এ্যাডভোটেক সাইফুল ইসলাম কোষাধক্ষ্য ও মোঃ ইব্রাহিম পাটোয়ারীকে দপ্তর সম্পদাক করে করে ৪১ সদস্যের একটি শক্তিশালি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফেনী সমিতি নামে ঢাকায় যে সংগঠনটি রয়েছে এর নাম থেকেই মনে হয় এই সংগঠনটি শুধু মাত্র ফেনী সদর থানার সংগঠন। সেজন্য ফেনী জেলার সকল থানা ও পৌরসভাকে একিভুত করে ফেনী জেলা সমিতি নামে অপর একটি সমিতি করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ থাকে যে, সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুধুমাত্র ফেনী সমিতি নামে সংগঠনের সদস্যরাও ফেনী জেলা সমিতির সদস্য হতে পারবে। এখানে আজীবন সদস্য হওয়ার জন্য মাত্র এক হাজার টাকা দিতে হবে। সাধারণ সদস্য হওয়ার জন্য ১০০ টাকা সিদ্ধান্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকাস্থ ফেনীবাসির মধ্যে প্রচার হয়েছে, ফেনী সমিতি একটি পারিবারিক সমিতি। এটাতে এর বর্তমান সভাপতি মুস্তাফিজের গ্রামের সদস্যই সবচেয়ে বেশি এবং বিভিন্ন রকমের প্রতারণার মাধ্যমে এই মুস্তাফিজ এই সমিতিকে তার পকেট সমিতিতে রূপান্তর করেছে। এই মুস্তাফিজকে এনসিসি ব্যাংকের পরিচালকের পদ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাদ দিয়েছিল। তারা আজকে যে নির্বাচন করছে, সেই নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে প্রতিদন্দ্বিতা করার জন্য জামানত বাবদ ১ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়েছে। বাংলাদেশে একটি সাধারণ নির্বাচনের জন্য এত বড় অঙ্কের টাকার কথা শুনে সবাই হতবাক! তবে প্রধানত যাতে সাধারণ কেউ প্রতিদন্দ্বিতা করতে না পারে, সে জন্য তারা এই পন্থা অবলম্বন করেছে। অপরদিকে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল এ মাসের ৪ তারিখ। এই দিনটি ছিল হরতালের দিন। অনেক প্রার্থীই এর সময় একদিন বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন তা শোনেনি। গঠনতন্ত্র অমান্য করে ভোটার করার দিন শেষ হবার পরও তারা অনেককে সদস্য করেছে। এ জাতীয় আরো অসংখ্য অনিয়মের মধ্য দিয়ে এই সমিতিটিকে তারা চালাচ্ছে। এক সময় এই সমিতির কর্মকর্তাদের মেয়াদ ছিল দুই বছর। ওরা এটাকে নিজেরাই বদল করে তিন বছর করেছে। নিয়ম ছিল পর পর দুইবার কর্মকর্তা থাকলে আর প্রার্থী হতে পারবে না। সেটাও তারা গোপনে তুলে দিয়েছে। এই সমিতিটি ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যাবে। কারণ, হাইকোর্ট খুললেই এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে অনেকেই রিট করবে। জয়নাল হাজারী নিজেই এই সমিতির সাধারণ সভায় এই সমিতির নাম ‘ফেনী জেলা সমিতি’ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। মুস্তাফিজ গংরা তা মানেনি। ফলে জয়নাল হাজারী বাধ্য হয়ে ফেনী জেলা সমিতি নামে অপর একটি সমিতি করেছে। তবে এই দুই সমিতির কারণে কোন অবস্থাতেই ফেনীবাসির মধ্যে অনৈক্য বা বিবাদ সৃষ্টি হবে না। ফেনী জেলা সমিতিকে একটি অরাজনৈতিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশিল সেবামুলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উদ্যোক্তারা ঘোষণা দিয়েছে। অপরদিকে, ফেনী সমিতি যে দল ক্ষমতায় থাকে তাদের লেজুড়ে পরিণত হয়। মুস্তাফিজুর রহমান দুলাল- হোসেন মেম্বারের মেয়েকে নিয়ে যে ভাবে কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে, তাতে সমগ্র ফেনীবাসির মুখ কলঙ্কিত হয়েছে। পুরান সমিতির লোকেরা জেনুইন ভোটাদেরও ভোটার কার্ড আটক করে রেখেছে। অপরদিকে জাল ভোট দেওয়ার জন্য কিছু অপরিচিত লোককে ভোটার কার্ড দিয়েছে। এসকল কারণে সম্রাট ও হাজারী তাদের সমর্থনকারী সমস্ত লোকজনকে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে এবং ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফেনী জেলা সমিতির নির্বাচন করে এবং সত্যিকার একটি জনপ্রতিনিধিত্বশিল সংগঠন ঢাকাস্থ ফেনীবাসিকে উপহার দেওয়ার কথা হাজারী ও সম্রাট ঘোষণা করেছে। তবে বর্তমান কমিটিকেও সমস্ত লোক হাত তুলে সমর্থন দিয়েছে। এদিকে শহিদুল্লাহ পাটওয়ারী, আকরাম হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, উইন ইন্টারন্যাশনালের মিলন, ফাজিলপুরের স্বপন ও এম এ রবকে উপদেষ্টা করে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সকলেই মুস্তাফিজের কর্যক্রমে বিরক্ত হয়ে ফেনী সমিতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। ফেনী জেলা সমিতিতে তাদেরকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে শুনে তারা খুবই উৎফুল্ল হয়েছে। এনসিসি ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ সেলিম এবং সাউথ ইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলমগীর কবিরকে পৃষ্ঠপোষক করার একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে মুস্তফিজের অপকর্মের একটি ফিরিস্তি এবং ফেনী জেলা সমিতির পুর্ণাঙ্গ কমিটির নাম হাজারিকা প্রতিদিনে প্রকাশিত হবে। এই সমিতি গঠিত হওয়ার খবরে শুধু ঢাকা নয়, ফেনীতেও আনন্দের জোয়ার বইছে। কোন পকেট সমিতি নয়, এবার সত্যিকার ভাবে ফেনীবাসির কল্যাণার্থে এই কমিটি আত্মপ্রকাশ করেছে।

আজ শনিবার যে নির্বচন হবে এই নির্বাচনের ফলাফলের আগেই কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় ছবিসহ মুস্তাফিজ নির্বাচিত সভাপতি বলে নিজেকে দাবি করেছে। নির্বাচনি তফছিল ঘোষণার সাথে সাথে সে আর সভাপতি ছিলনা। অথচ আজকের ভোটের জন্য সে নিজের দস্তখত দিয়ে নিজেকে সভাপতি দাবি করে সকল ভোটারকে ভোটার আইডি কার্ড বিতরণ করেছে। এগুলো নির্বাচন কমিশনেরই দায়িত্ব। মোট কথা সেচ্ছাচারিতার মনোভাব নিয়ে সে যখন যা মনে আসে তাই করে যাচ্ছে। সচেত ঢাকাস্থ ফেনীবাসি এগুলো মেনে নিতে পারেনাই বলেই ফেনী সমিতি বাদ দিয়ে গতকালই ফেনী জেলা সমিতি গঠন করেছে। ফেনী সমিতির সকল অপকর্মের মুলহোতা মুস্তাফিজ। সে যখন ষড়যন্ত্রের মাধ্যেমে তার প্রতিদন্দ্বিকে সরিয়ে দিয়েছে তখনই আজকের নির্বাচনের ভোটাররা ভোটের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। সকলের ইচ্ছা ছিল মুস্তফিজকে সরাবে। গনি আহম্মেদের প্রতি সমিতির লোকদের খুব একটা ক্ষোভ ছিলনা। মুস্তাফিজ যেভাবে তার প্রতিদন্দ্বিকে সারিয়েছে, ফেনীবাসি মুস্তাফিজকেও সেভাবে সরাবার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে। এখন থেকে শুধু ফেনী সমিতির চেয়ে ফেনী জেলা সমিতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠবে। এদিকে হাজারী ও সম্রাট প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছে। সেই চিঠি তারা লিখিত ভাবে প্রাপ্তি শিকার করেছে।

ফেনী সমিতির নির্বাচনে অনিয়মের কারণে প্রথমে হাজারী সদস্যের জন্য ও সম্রাট সাধারণ সম্পাদকের জন্য প্রার্থী হলেও তারা কোন একজন ভোটরকে কিংবা দু’জনের কেউই মুখে বা টেলিফোন কিংবা মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে ভোট চায়নি। একজন ভোটারও সাক্ষী দিতে পারবেনা যে কারো কাছে তারা ভোট চেয়েছে। ভোটাররা জানেইনা যে এরা দু’জন প্রার্থী হয়েছে।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply