কুসিক নির্বাচন : চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীরা প্রার্থীদের পক্ষে গনসংযোগে ব্যস্ত

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, কুমিল্লা :

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আর বাকী ১২ দিন। প্রার্থীদের চোখে ঘুম নেই। তবুও তারা কেউ ক্লান্ত নয়।ভোটারদের কাছে বিরামহীন ভাবে যাচ্ছেন তারা। এক স্থান থেকে অন্যস্থানে ছুটছেন। যতবেশি গনসংযোগ তত বেশী ভোটারের মুখোমুখী হওয়া,নিজের জন্য ১টি করে ভোট চাওয়া, এ যেন এই মুহুর্তে প্রার্থীদের একমাত্র পাওয়া। গতকাল ২৩ ডিসেম্বর ছিল শুক্রবার, জুম্মার নামাজকে কেন্দ্র করে প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিল’র প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার বিশেষ পছন্দের যে সকল মসজিদে মুসল্লী বেশী সে সব মসজিদে নামাজ পড়েন। নামাজ শুরুর অনেকটা পূর্বে মসজিদে উপস্থিত হয়ে মুসল্লীদের সাথে কথা বলেছেন। একইভাবে নামাজের পরও তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। উদ্দেশ্য একটাই ভোট চাওয়া। এছাড়াও পুরো নগরীর প্রতিটি মসজিদে নামাজ শুরুও শেষে প্রার্থীদের পক্ষে তাদের কর্মীরা হ্যান্ড বিল বিলি করতে দেখা যায়। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অধীন কমপক্ষে অর্ধশতাধিক স্পটে রয়েছে মাদক বিক্রির অস্তানা। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এই নগরীতে রয়েছে বহু চোরাচালানী ও মাদক ব্যবসায়ী। প্রতিদিনই সীমান্ত অতিক্রম করে নগরীতে প্রবেশ করছে বিভিন্ন মাদক ও চোরাচালানী পন্য। মাদকের কড়াল গ্রাসে এ নগরীর যুব সমাজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। অভিবাবকরা যখন দিশে হারা, তখন সাধারণ ভোটাররা ইতিমধ্যেই মাদক মুক্ত, নগরীর গ্যারান্টি চাচ্ছে প্রার্থীদের কাছে। তরুন আ,লীগ নেতা নূর উর রহমান তানিম ও এড: আনিসুর রহমান মিঠু প্রকাশ্যে মাদকের বিষয়ে বলেছেন, মাদক বিক্রি কেন, এই নগরীতে মাদক আসতেই পারবেনা। একইভাবে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে আ,লীগ সমর্থিত অধ্যক্ষ আফজাল খান বলেছেন, মাদকের ছোবলে তরুন যুব সমাজ ধ্বংস হচ্ছে। আমি নির্বাচিত হলে কঠোর হস্তে দমন করবো। সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের প্রার্থী জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ন সম্পাদক ও সাবেক কুমিল্লা সদর পৌর সভার মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন, নগরীতে মাদক বিক্রি হয় এটা আমরা অনেকেই জানি। এক্ষেত্রে আমার করণীয় কিছু নেই। বিষয়টি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তারা আন্তরিক হলে এটা নির্মূল সম্ভব। একইভাবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এয়ার আহমেদ সেলিম বললেন, সীমান্তবর্তী হওয়ায় সহজেই এই নগরীতে মাদক প্রবেশ করে। আমাকে নির্বাচিত করেন আমি “ইন্শা আল্লাহ” এই নগরীকে মাদক মুক্ত করবো। এই যখন আগামীর সম্ভাব্য নগর পিতাদের নগরবাসীদের কাছে কমিটমেন্ট। তখনও সাধারণ ভোটারা আশ্বস্ত হতে পারছেন না। দায়িত্বশীল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়ান্দা সূত্র জানায়, নগরীর প্রতিটি স্পটে’র মাদক ব্যবসায়ীরাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মেয়র ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাধারন কাউন্সিলরদের হয়ে কৌশলে প্রচারনায় জড়িয়ে যাচ্ছে। অর্থ, সময় ছাড়াও পরিচিত নিকট আত্মীয়দের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন। ফলে আগামীতে এই নগরী কতটা মাদক মুক্ত থাকবে সেটা নিয়েও ভাবছে সাধারণ ভোটাররা।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply