আমলাতন্ত্র, ছাত্ররাজনীতি ও প্রাইভেট-কোচিংবাণিজ্যই শিক্ষার মান উন্নয়নের অন্তরায়

মো. আলী আশরাফ খান :

প্রতিটি ব্যক্তি-পরিবার-গোষ্ঠী এবং দেশ-জাতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় বিষয়ের একটি হলো শিক্ষা। তবে তা অবশ্যই হতে হবে নৈতিকতাসম্পন্ন, কর্মমুখী, আধুনিক ও যুগোপযুগী। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় তেমন কোন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারিনি আমরা। আসলে এ অবস্থার জন্য আমরাই দায়ি। জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরত্বিপূর্ণ, সেই বিষয়টিকে আমরা সময়ে সময়ে কালোধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করতে পিছপা হইনি। ক্রমেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এমন এক অবস্থায় উপনীত হয়-যা রীতিমত মহাদুনীতি, স্বজনপ্রীতি ও অব্যবস্থাপনার এক মহাসমুদ্রে হাবুডুবু খেতে শুরু করে। যদিও আমরা এযাবৎকাল প্রায় ডজনখানেক শিক্ষানীতি জাতির সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা প্রকৃতই যথাযথ হয়নি বলে বিশিষ্টজনরা মত প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো প্রায়সব শিক্ষানীতির বিষয়সমূহ বাদ দেওয়ার যে দীর্ঘদিনের অভ্যাস তা বারবার জাতিকে পিছনে ঠেলে দিয়েছে-দিচ্ছে আমাদেরকে।

অথচ, আমরা স্বীকার করি না, আমাদের বর্তমান যে শিক্ষা পদ্ধতি ও শিক্ষাব্যবস্থার সাথে জাতীয় চাহিদার বিষয়টি যতটা বিবেচনায় আনা প্রয়োজন, ততটা আমরা এখনও আনতে পারিনি। বরং এ ক্ষেত্রটিকে বহুগুণে উন্নত করছি, সংযোজন-বিয়োজন ও প্রণয়ন করে বেশ সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছি বলে ঢাকঢোল পেটালেও ভেতরগত চিত্রটা কিন্তু অন্যকম। দেশের সংবিধানে শিক্ষাকে অর্থাৎ শিক্ষানীতিকে জাতীর বৃহত্তর স্বার্থে যতটা গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন ছিল, ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এখনও। যদিও আমাদের সংবিধানের আর্টিক্যাল ১৭-তে বলা হয়েছে, ‘সমাজের প্রয়োজনের সাথে শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করার জন্য এবং সেই প্রয়োজনের চাহিদা মেটাতে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও স্বদিচ্ছা পূরণে নাগরিক সৃষ্টি করা আমাদের শিক্ষানীতির একটি লক্ষ্য হতে হবে’। কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত আমাদের দেশের জন্য কোন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন বা কোন ধরনের জনশক্তি আবশ্যক, এ ব্যাপারে কোনো সুনিদিষ্ট সুষ্ঠ নীতিমালা প্রণয়ন এবং যেসব নীতি বিদ্যমান সেগুলো বাস্তবায়নে কোনো জোরালো ভূমিকা নিতে সক্ষম হইনি। আমাদের এখনও বোধদয় হয়নি, কারিগরি শিক্ষা যে দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রাখে-এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি; আমরা এখনও বুঝতে পারিনি, কৃষিশিক্ষা যে জাতীয় জীবনে অপরিসীম ভূমিকা রাখে এ বিষয়টি, পাশাপশি বিজ্ঞান শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষাও যে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় এটাও আমরা এখনও বুঝে আসেনি।

দেশের শিক্ষানীতিতে বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনাকে সঠিক গুরুত্ব না দেয়ার কারণে শিক্ষারক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ইচ্ছা থাকা সত্বেও পছন্দের বিষয় নিয়ে অনেক সময় পড়াশোনা করতে পারেন না। আবার কোনো কোনো সময় মনের বিরুদ্ধে ও কোন একটি বিষয় নিয়ে তাদের পড়াশোনা করতে হয়। যার ফলে ওই বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে এবং তাদের জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে সম্পূর্ণ উল্টো ক্ষেত্রকে তারা কর্ম হিসেব গ্রহণ করতে বাধ্য হন। আবার তাও বহু কাঠখড় পুরানোর পরেই সম্ভব হয়। এতে করে কর্মক্ষেত্রে তাদের নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তারা যে শিক্ষা গ্রহণ করে, তাদের সেই শিক্ষার বিষয়টিও তারা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারে না এবং গবেষণামূলক কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন করাও সম্ভব হয় না তাদের পক্ষে। অথচ, এসব শিক্ষার্থীরা যদি সঠিক শিক্ষানীতির অধিনে সঠিক গাইডলাইন পেয়ে পড়াশোনা শেষ করতো এবং চাকরির ক্ষেত্রে যর্থাথ চাকরিটি পেত, তাহলে তারাই হতে পারতো স্ব-স্ব ক্ষেত্রে দেদীপ্যমান; বয়ে আনতে পারতো দেশ-জাতির জন্য বড় রকমের সুনাম। এ বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সর্বাগ্রে এ বিষয়গুলো জাতীয় শিক্ষানীতিতে অন্তর্ক্তুক্ত করার প্রয়াস চালাতে হবে। আমাদের ভাবতে হবে, কোন ধরনের শিক্ষানীতি জনবহুল এদেশের জন্য প্রয়োজন।

এবার ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে কিছুটা বলা দরকার। অস্বীকারের কোন সুযোগ নেই-এ দেশের ইতিহাসে ছাত্ররাজনীতির রয়েছে একটা গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আমাদের ছাত্ররাই জাতির সামগ্রিক উন্নতি সাধনে সাহসী ভূমিকা রেখেছে-জাতির সমস্যাক্রান্ত সময়ে। একসময় ছাত্ররাজনীতি বলতে আমরা বুঝতাম, তাদের নিজস্ব যৌক্তিক ন্যায্য দাবি-দাওয়া; দেশ-জাতির স্বার্থ রক্ষায় উন্নত ও সুস্থচিন্তার দ্বারা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন; দেশ-জাতীর ক্লান্তিলগ্নে ছাত্ররা একই পতাকাতলে সমবেত হয়ে সমস্যার সমাধানকল্পে সকলের দৃষ্টি আকষর্ণের প্রাাণপণ চেষ্টা; অতঃপর সুন্দর সমাধানের পথ বাতলে দেয়াই ছিল ছাত্ররাজনীতির মূল উদ্দেশ্য। এর মধ্যে ’৫২ ভাষা আন্দোলন ও ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়ে ইতিহাস কাঁপানো জয় ছিনিয়ে আনার বিষয়টি ছাত্র রাজনীতিকে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় করেছিল আমাদের। কিন্তু ছাত্ররা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কলংকজনক বেশ কিছু ঘটনার জন্ম দেয়ায় ছাত্ররাজনীতির উপর মানুষের আস্থা উঠে গেছে। যার ফলে মানুষ এখন মনে করে, ছাত্ররাজনীতির বিলুপ্তি ঘোষণা দরকার। যে ছাত্ররাজনীতি জাতির ললাটে কলঙ্ক লেপন করে, যে ছাত্ররাজনীতি হেনহীন কর্ম নেই যা করে না, এ ছাত্ররাজনীতির কোনো প্রয়োজন নেই এদেশে। যে ছাত্ররাজনীতি হল দখলে চরম দাঙ্গাহাঙ্গামায় ব্যস্ত, মরিয়া শিক্ষক লাঞ্ছিতকরণে, উন্মাদ ক্যাম্পাস দখলে, রাস্তাঘাট বন্ধ করে অযৌক্তিকভাবে লাঠিপেটা, জ্বালাও পোড়াও, যানবাহন ও দোকানপাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র ভাঙ্গতে যাদের বিবেক কুন্ঠিত হয় না, যারা যত্রতত্র লুটতরাজ, নৃশংসভাবে হত্যাকান্ড, আত্মহত্যায় বাধ্যকরণসহ মেয়েদের ট্টিজ এবং মায়েরজাত কোমলমতি বোনদের ধর্ষণের মত জঘন্য জঘন্য সব হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালায় এ ছাত্ররাজনীতিকে ধিক্কার দেয়া এবং ঘৃণা করা ছাড়া আর কি বা থাকে?

অথচ, দেশের কোনো সরকারই এসব বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেয়নি, ভাবেনি ও ভাবছেও না। চলমান ছাত্ররাজনীতির ধারা যে আমাদেরকে বিশ্ব মাঝে বারবার ছোট করেছে-এ বিষয়টি যেনো তারা দেখেও না দেখার ভাণ করেছে-করছে। আমাদের বুঝতে হবে, কোন দল কিংবা কোন গোষ্ঠীর অপস্বার্থ হাসিলে যদি ছাত্ররাজনীতিকে ব্যবহার করা হয়, তাহলে দেশ-জাতি যে কতটা পিছিয়ে পরে, কতটা ক্ষতিতে পর্যবসিত হয় তা সরকারকেই আগে বুঝতে হবে, বুঝতে হবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও। আমরা মনে করি, ছাত্ররাজনীতিতে তারাই সম্পৃক্ত থাকতে পারবে, যারা পলিট্টিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করবে। তারপরেও তাদের প্রতি যথেষ্ট বিধি-নিষেধ ও কঠোরতার বিষয়টিকে অতি গুরুত্বসহকারে নজরে রাখতে হবে। কেননা, এসব ছাত্রদেরকেও দেশের কু-চক্রিমহল নিজেদের অপস্বার্থ উদ্ধারে লেলিয়ে দিতে পারে। এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরকার ও বিরোধী দলকেই ভাবতে হবে।

প্রাইভেট-কোচিং সম্পর্কে বলতে গেলে, এখন দেশের প্রায় সর্বত্রই সিংহভাগ স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এবং কিছু শিক্ষিত যুবক বিভিন্ন প্রলোভন ও ফন্দি এঁটে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট ও কোচিংমুখী হতে বাধ্য করছে। দেশের হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া প্রায়সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ অনৈতিক ব্যবসার মাধ্যমে রাতারাতি অঢেল টাকা পয়সার মালিক হচ্ছেন; ফতুর করছেন অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের। এখন ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের বেত্রাঘাত ও নম্বর কম পাওয়ার ভয়ে প্রাইভেট কোচিং-এ যেতে বাধ্য হচ্ছে। অভিভাবকরাও নিরুপায় হয়ে মাসের পর মাস হাজার হাজার টাকা ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। বহু শিক্ষার্থীও ওইসব অনৈতিক শিক্ষকদের ফাঁদে পড়ে নিজেদের ইজ্জত-সম্ভ্রম খোয়াচ্ছেন।

এ ব্যাপারে বহু অভিভাবক সরাসরি অভিযোগ করেন, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকরা ঠিকমত পাঠদান করেন না; কোনো কোনো শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদেরকে বাবা-মা তুলে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন এবং শিক্ষকদের বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত পর্যন্ত হয় শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের এহেন আচরণে ছাত্রছাত্রীরা প্রায় ইচ্ছার বিরুদ্ধেই প্রাইভেট-কোচিং করতে বাধ্য হয়। এর চেয়েও লজ্জার বিষয়, এ প্রাইভেট-কোচিংবাণিজ্য নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চলে চরম দ্বন্দ্ব, হিংসা-প্রতিহিংসা, রেসারেসি-দলাদলি, একে অপরের নামে কুৎসা রটানোর মত গর্হীত কাজ; মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে টানাহেঁচড়াও চলে। কার কাছে কে প্রাইভেট পড়ল, কার কাছে কে কোচিং করল, কার কাছে কতজন প্রাইভেট-কোচিংয়ে ছাত্রছাত্রী রয়েছে, কে কত টাকা আয় করেন, এই বিষয়গুলোয় চলে তুমুল প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতার রোষানলে পড়ে ছাত্রছাত্রীরা ও অভিভাবকরা দিনে দিনে নিঃস্ব হন। অনেক অভিভাবকের অভিযোগ, স্কুলের শিক্ষকরা শ্রেণী কক্ষে যথাযথ সময় ও পাঠদানের প্রকৃত কৌশলগুলো ইচ্ছে করেই প্রয়োগ করেন না। কারণ, শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষেই যদি সবকিছু জেনে ফেলে-বুঝে ফেলে, তাহলে তারা প্রাইভেট বা কোচিং-এ ছাত্রছাত্রী পাবেন না ।

উদাহরণ স্বরূপ গৌরীপুর পশ্চিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গৌরীপুর সুবল-আফতাব উচ্চ বিদ্যালয় এ দু’টি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বলা যায়। এ প্রতিষ্ঠান দু’টি দাউদকান্দির স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর এ স্কুল দু’টি সংখ্যার দিক দিয়ে মেধা তালিকায় ভাল অবস্থানে থাকে। এ এলাকার অভিভাবকরাও বেশ সচেতন। ভালো ফলাফলের জন্য এক্ষেত্রে অভিভাবকরাই বেশি কৃতিত্বের দাবীদার। কিন্তু এটা মানতে নারাজ, প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য তারা নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করার অপচেষ্টায় মত্ত থাকেন। তারা বলেন, প্রাইভেট-কোচিং করিয়েই তারা ভালো রেজাল্ট বের করে আনেন এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি হচ্ছে তাদের দ্বারাই। অথচ ভেতরের কথা হলো, তাদের লক্ষ লক্ষ টাকা আয় রোজগারের পথকে আরো বি¯তৃত করা। তাদের কথা, আমরা প্রাইভেট না পড়ালে ভাল রেজাল্ট করা সম্ভব নয়। শিক্ষকরা ভাবেন না, অভিভাবকরা বস্তায় বস্তায় টাকা খরচ করছেন বলেই শিক্ষকরা প্রাইভেট-কোচিং করাচ্ছেন। বাসা-বাড়িতে গাইডলাইন দিচ্ছেন বলেই ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করছে এবং ঠিকমত প্রাইভেট-কোচিংয়ে গিয়েছে-যাচ্ছে, অতঃপর ভাল রেজাল্টও করেছে-করছে। বরং শিক্ষকরাই ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে উপস্থিতির চেয়ে প্রাইভেট-কোচিংমুখী করতে বেশি উৎসাহী, প্রাইভেট-কোচিং করলে বেশি নাম্বার পাবে এবং পাশ নিশ্চিত এমন ধারণাও দেন তারা। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে বৃত্তি এবং এসএসসিতে ভালো রেজাল্টের নিশ্চয়তা দিয়ে বিভিন্ন নোট-হ্যান্ডনোট ধরিয়ে দেন টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে। এ এলাকা থেকে প্রতি মাসে লাখ টাকা কামিয়ে নেন এক একজন শিক্ষক। নূন্যতম ২৫/৩০ জনের গ্র“প সপ্তাহে চারদিন ৫/৬টি ব্যাচ পড়ান। প্রতি বিষয়ের জন্য কমপক্ষে মাথাপিছু ৫০০/৮০০ টাকা নেন তারা। শুধু তাই নয়, এলাকার সচেতনজনরা অভিযোগ করেন, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এ স্কুলে এমন কিছু শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে-যা রীতিমত হাস্যকর ব্যাপার। এসব শিক্ষকমণ্ডলী নাকি জগাখিচরী মার্কা বাংলায় কথা বলেন। পাঠদানের মত শিক্ষা-অভিক্ষতা ও কৌশল রপ্ত না করেই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় সুনামধন্য এসব স্কুলে চাকুরি নিয়েছেন। কিন্তু কেউ নেই প্রতিবাদ করবে এ সব অনৈতিকতার বিরুদ্ধে।

আমরা মনে করি, শিক্ষাক্ষেত্রে এ এলাকার মতো দেশের প্রায়সব জায়গায়ই একইরকম নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে সর্বপ্রথম সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে; সামগ্রিক শিক্ষা ক্ষেত্রের হ-য-ব-র-ল অবস্থা থেকে উত্তরণে বন্ধ করতে হবে আমলাতন্ত্র, ছাত্ররাজনীতি ও প্রাইভেট-কোচিংবাণিজ্য। পাশাপশি এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে নিয়ে প্রত্যেক এলাকার সচেতন ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে ভাবতে হবে; সরকারকেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে এসকল সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে করণীয় বিষয়গুলোকে নিয়ে। মনে রাখতে হবে, সরকারী দলের লোকজন কিংবা ভ্রান্তরাজনীতির সঙ্গে জড়িতদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ত করলে, সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। যদি দেখা যায়, পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সরকারী দলেরও কেউ শিক্ষাক্ষেত্রে বিপর্যয় সৃষ্টি করছে তাকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। জাতীয় স্বার্থে এ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবেই দেশের শিক্ষার উন্নতি হবে। ব্যক্তি-সমাজ ও দেশ-জাতি প্রকৃত শিক্ষার আলোয় ভরে ওঠবে।

লেখক:

আহ্বায়ক, শিক্ষারমান সংরক্ষণ ও নকল প্রতিরোধ আন্দোলন

(শিক্ষাক্ষেত্রের বিপর্যয় ও বৈষম্যরোধে একটি সামাজিক আন্দোলন)

দাউদকান্দি উপজেলা শাখা, গৌরীপুর, কুমিল্লা।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply